বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮
বুধবার, ১১ই মাঘ ১৪২৪
 
 
মজুরী বঞ্চনার শিকার হাওড় অঞ্চলের  শত শত নারী মজুর
প্রকাশ: ০৭:২৪ pm ২১-১২-২০১৬ হালনাগাদ: ০৭:২৪ pm ২১-১২-২০১৬
 
 
 


কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হাওড় অঞ্চলের অষ্টগ্রাম ও পাশ্ববর্তী এলাকার শত শত নারী মজুরী বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

এ অঞ্চলের শ্রমজীবি কেটে খাওয়া মানুষের পরিবারের যুবতী থেকে বৃদ্ধা এইসর নারী মজুর অভাব অনটনের সংসারে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৪.০০টা পর্যন্ত কাজ করেও পায় না তাদের ন্যায্য মজুরী।

শীতে প্রকোপ, রোদ্রের তাপ, বৃষ্টি, পানি কাঁদা সহ্য করে ওদের কাজেই এ অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন হয়ে থাকে। কিন্তু  ওদের খোঁজখবর কেউ রাখেন না। 

এইসব নারী মজুর ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ওরা বর্তমানে ভুট্টা ক্ষেতে রোপন, নিরানী দেওয়া, সড়ক নির্মাণে মাটি ভরাট, ইট ও পাথরের সুরকির যোগান দেওয়া ইত্যাদি কাজ করছেন।

কদিন পরে ইরিবোরো রোপন বাঁচায় এমনকি ধান কাটা ধান শুকানো এবং গোলাজাত করণের কাজে মজুরী বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু প্রতিটি কাজেই ওরা পুরুষের থেকে ভাল কাজ করলে ও পুরুষের অর্ধেক বা তার থেকে কম মজুরী পেয়ে থাকেন।

কোন কোন ক্ষেত্রে অবমাননা, শ্লীলতাহানি এমনকি নির্যাতনের শিকার হওয়ার মত অসংখ্য ঘটনার দৃষ্টান্ত রয়েছে। কলমা ও আদমপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর, শান্তিপুর গ্রামে কাছে ভুট্টা ক্ষেতে কোদাল দিয়ে নিরানী দিচ্ছেন একদলের শেফালী দাস সহ কজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এরা সকাল ৮.০০টা থেকে বিকাল ৪-৫টা পর্যন্ত কাজ করে থাকনে।

দৈনিক ৮০/১০০টাকা মাত্র পর্যন্ত মজুরী পান। হালালপুর একটি কাচা সড়কের একটি নির্মাণ কাজে একদল নারী মজুর কর্মরত অবস্থায় জিজ্ঞাসা করা হলে ওরা জানান তাদের মজুরী দৈনিক ১২০/১৭০টাকা।

অসংখ্য নারী মজুর এখানে কাজ করতে ইচ্ছুক থাকায় এখানে কাজ পাওয়া খুবই কঠিন। অষ্টগ্রামের বাজিতপুর রোডের কাস্তুলের কাছে সড়কের স্লেপ নির্মাণে পাথর, ইট ও সুরকির বুঝায় জোগালি দলের মহিলা আছিমন বেগম জানান ওরা

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্য্যন্ত কাজ করেন, এটি অত্যান্ত কঠিন পরিশ্রম। কিন্তু তাদের মজুরী মাত্র দৈনিক ২৫০টাকা। বোরো রোপন এবং বাছায়ের বেলা একই অবস্থা।

পুরুষদের মজুরী যেখানে ৩ থেকে ৪শ টাকা, এখানে নারী মজুরেরা পেয়ে থাকেন ১৭০-২০০টাকা। ধান কাটার বেলায় ও একই অবস্থা বিদ্যমান থাকায় এই অঞ্চলের শত শত মহিলা ক্ষেত মজুর প্রতিদিনেই  মজুরী বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

এ অঞ্চলের ইরিবোরো ধান স্থানীয় চাহিদা পুরণ করে সিংহভাগ জাতীয় খাদ্য ভান্ডারে খাদ্য যোগান হয়ে থাকে। কিন্তু উৎপাদনের নারী মজুরদের জীবনযাত্রার উন্নয়নে সরকারী বা বেসরকারী ভাবে কোন উদ্যোগ দেখা যায় না।

কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংযোগ স্থল বিশাল এই হাওড় অঞ্চলে প্রতিটি উপজেলাতে শত শত নারী মজুর নিত্যদিন মজুরী বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

 

এইবেলাডটকম/মন্তোষ/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
Loading...
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Loading...
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71