eibela24.com
মঙ্গলবার, ২৬, জানুয়ারি, ২০২১
 

 
শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রী
আপডেট: ১০:৩৩ pm ০৫-১০-২০২০
 
 


বিশ্বের কোথাও কোনো শিশুর অকাল মৃত্যু তাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যে কোন ধরনের শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, ‘শিশুদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা সরকার নিচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে অত্যাচার-নির্যাতন, কোন কিছু হলে সাথে সাথে যেন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় সেদিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের শিশুরা নিরাপদ থাকবে, সুন্দরভাবে বাঁচবে এবং মানুষের মত মানুষ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার সকালে ‘বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস এবং শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০২০’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে একথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্ত হন সরকার প্রধান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

এসময় সরকারপ্রধান বলেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে শিশুদের গড়ে তুলতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাদের খাদ‌্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি চাহিদা পূরণের দিকে আমরা বিশেষ নজর দিয়েছি। খাদ‌্য সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং স্কুলে ঝরেপড়া বন্ধে ফিডিংয়ের ব‌্যবস্থা করেছি। যাতে তারা স্কুলে নিয়মিত থাকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শিশুদের চিকিৎসা, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব‌্যবস্থা এবং এমনকি যারা চোখে দেখতে পারে না তাদের জন‌্য ব্রেইল বই দিচ্ছি। প্রাক প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ‌্যমিক পর্যন্ত আমরা বিনামূল‌্যে বই দিচ্ছি।

এছাড়া কোনো শিশুর শারীরিক অসুবিধা থাকলে তারা যেন কারো বোঝা হয়ে না থাকে সেই জন‌্য বিভিন্ন কার্যক্রম আমরা হাতে নিয়েছি। আমাদের এই শিশুরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো করছে। বিশেষ অলিম্পিকে প্রতিবন্ধী শিশুরাই স্বর্ণ জয় করে এনেছে। তারা ২১টি স্বর্ণসহ ৭১টা ট্রফি নিয়ে আসতে পেরেছে। তাদের যে মেধা তা বিকাশে বিশেষ একাডেমি করে দিচ্ছি আমরা।

শেখ হাসিনা বলেন, সমাজের কোনো স্তরের কেউ যেন বাদ না পড়ে সে জন‌্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বৃত্তি আমরা দিচ্ছি। করোনার মধ‌্যেও বৃত্তি উপবৃত্তি পৌঁছে দিচ্ছি।

এছাড়া তাদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাস করে দিচ্ছি। সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলার জন‌্য আমরা প্রত‌্যেকটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছি। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও কাজ করছি। নানা ধরনের অত‌্যাচার নির্যাতন হলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব‌্যবস্থা নিচ্ছি।

অভিভাবকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই করোনাভাইরাস যেহেতু স্কুলে যেতে পারছে না তাই বাচ্চাদের অন্তত কাছাকাছি কোনো পার্কে, বা কোথাও আপনাদের বাচ্চাদের দিনে এক ঘণ্টার জন্য হলেও তাদের একটু নিয়ে যাবেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনেই চলতে হবে। কিন্তু সাথে সাথে বাচ্চাদের একটু খেলাধুলার ব্যবস্থা করা বা তাদের একটু খোলা বাতাস, খোলা রোদে খেলতে দেওয়া, এটা এই করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।’

নি এম/