eibela24.com
সোমবার, ২১, সেপ্টেম্বর, ২০২০
 

 
আমার জীবনের গল্প: যশোদা জীবন
আপডেট: ১০:০০ pm ১৮-০৬-২০২০
 
 


মানুষের প্রয়োজন যখন দরজায় এসে দাড়ায় তখন সমস্ত আবেগ, অনুভূতি, প্রিয়জনের বিয়োগ ও স্মৃতির পাতার সবকিছু মলিন হতে থাকে আর এটার ব‍্যতিক্রম আমারও হলো না। তাই বাবা চলে যাওয়ার ব্যথা নিয়েই জীবনের প্রয়োজনে ছুটে আসতে হল কর্মব্যস্ত সেই চিরচেনা ঢাকা শহরে, যেখানে প্রাণ খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন কাজ আর বাস্তবতা প্রতিনিয়ত সামনে এসে দাঁড়ায়। আমার কর্মব্যস্ততা আমাকে এতটাই আঁকড়ে ধরেছে যে দুপুরের খাবার কথা ভুলে যাই মাঝে মাঝে, ভুলে যাই গুরুত্বপূর্ন অনেক মিটিং সিডিউলের কথা। খোরশেদ ভাই বার বার আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল এবার আমেরিকাতে এনসিআর এর মিটিং আছে আপনার সেখানে যাওয়া উচিত। ও খোরশেদ ভাই আমার টেকনোমিডিয়ার চীপ অপারেটিং অফিসার। সবাই যেহেতু এত করে বলছে আর ব্যাবসায়িক দিক চিন্তা করে আমার যাওয়া উচিত, তাই পরিকল্পনা করে ফেললাম আমেরিকা যেয়ে এই মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করবো। এনসিআর এর গ্লোবালি ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে আয়োজন করেছে এ মিটিংটা, তাই মিটিং গেলে অন্য অনেক দেশে মানুষের সাথে পরিচয় হবে যারা এনসিআর এর সাথে ব্যবসা করেন। এনসিআর এই ইন্টারন্যাশনাল ইভেন্টটা আয়োজন করেছে আমেরিকার ফ্লোরিডাতে। পরিকল্পনা মাফিক আমেরিকার ভিসা নিয়ে নিলাম আমি। এনসিআর এর সাথে কাজ করি বলে ইউএস এম্বাসি থেকে তেমন কিছু জিজ্ঞাসা করেনি, আমাকে ৫ বছরের ভিসা দিয়ে দিলো। আমি চলে গেলাম নিউইয়র্ক, সেখানে দুদিন থেকে চলে গেলাম ফ্লোরিডাতে। পরিচয় হলো এনসিআর এর চেয়ারম্যান বিল নিউটি, ইয়ানুস পাপাডোপলাস, তুষার কুঠারী, মাইকেল এনড্রু, আরো অনেকের সাথে। পরিচয় হলো আরো বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এনসিআর এর চেয়ারম্যানকে বুঝাতে সক্ষম হলাম, সেই সাথে আরও বোঝালাম এ দেশের ব্যাংকিং খাতে আর্থিক লেনদেনের ভূমিকা এবং দেশের অর্থনীতিতে লেনদেনের কি পরিমানে প্রভাব পড়ে। যেকোনো দেশের আর্থিক উন্নয়নে লেনদেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আর সেই লেনদেনগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। আমি এনসিআর এর চেয়ারম্যান কে আরো বোঝাতে সক্ষম হলাম বাংলাদেশ এনসিআর এর ব্যবসায়ের অনেক সুযোগ রয়েছে। বলতে ভুললাম না বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনবসতির কথা। সহযোগিতা চাইলাম বাংলাদেশে টেকনোলজি ট্রান্সমিশনের ব্যাপারে। এনসিআর মালটিন‍্যাশন‍্যাল কোম্পানি, আমেরিকার টপ ৫০ কোম্পানির মধ্যে একটা। চেয়ারম্যান ইচ্ছা করলে বাংলাদেশে আলাদা রকমের সহযোগিতা করলেও করতে পারে। বিল নিউটি আমার কথায় ভীষন খুশি হলেন এবং আমাকে বলে দিলেন এনসিআর বাংলাদেশের ব্যবসায়ের জন‍্য ৫০ শতাংশ ছার দিবে। চেয়ারম্যানের প্রতিশ্রুতি যা অব‍্যহত আছে এখন পর্যন্ত এনসিআর বাংলাদেশের ব্যবসায়ের জন‍্য।

এনসিআর এর সাথে যারা কাজ করে তাদের প্রতি বছরই ভালো কাজের জন‍্য এনসিআর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে তাদের, টেকনোমিডিয়াকে অনেকের মধ্যে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হলো আর যা আমি ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রহণ করলাম। এরপরও আমি যত বারই আমেরিকা গিয়েছি এই রকম বিজনেস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের জন্য গিয়েছি। আমি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি ওরলান্ড সিটি থেকে, লাস ভেগাস থেকে, ইউরোপ থেকেও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি দুই বার এনসিআর এর সাথে ভালো ব্যবসা করার জন্যে। ব‍্যবসায় সার্থকতা ঐ জায়গাতেই পাওয়া যায় যেখানে সন্মানিত করে ভালো কাজের জন্যে। আমাকে সন্মান দিতে ভুল করে নাই এশিয়ান ওয়ান বিজনেস ম‍্যাগাজিন, দুবাই থেকে "গ্রেটেস্ট ব্রান্ড এ‍্যান্ড লিডার- ২০১৫-২০১৬" এবং আমি একই উপাধি পেলাম ২০১৬-২০১৭ তেও। আমার একটা বদ অভ‍্যাস ছিলো ২০১৬ সালের প্রথম দিক থেকে আমার দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা গুলো লিখে রাখতাম, আর আমার লেখাগুলো ছিল ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে। আমি প্রতিদিন কিছু না কিছু লিখে রাখতাম। ২০১৭ সালে দেখলাম আমার ৯৭৫ পেইজ লেখা হয়েছে যা কম্পোজ করার পর দাড়ালো ৫৫০ পেইজের মতো। আমেরিকার এক বন্ধুর সহযোগিতা নিয়ে ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে আমার লেখা গুলো দিয়ে থিসিস পেপার তৈরি করলাম, ঐ বন্ধুর পরামর্শে তৈরি করা থিসিস পেপার জমা দিলাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি ওফ ক‍্যালিফোর্নিয়া, ইউএস এ। আমার মা-বাবার আশীর্বাদ আর সৃষ্টিকর্তা মনে হয় সহায় ছিলেন সে জন‍্য অতি অল্প সময়ে থিসিস পেপার গ্রহণ করলেন ইউনিভার্সিটি এবং আমাকে পিএইচডি ডিগ্রি দিয়ে সন্মানিত করলো। থেমে থাকে নাই, পরবর্তী ডিগ্রী পেতেও, ইউরোপিয়ান প্রফেশনাল ডক্টরেট ডিগ্রীও পেলাম এ‍্যালগার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে, যা দুবাই এ সন্মানের সাথে আমাকে হস্তান্তর করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ভারতের রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রীও প্রক্রিয়াধীন আছে আমার। কাউকে সন্মান যখন দেশের বাইরে থেকে দেখায়, তখন বাকি থাকেনা সম্মাননা দিতে আমার কাছের মানুষদের, আমার দেশের মানুষদের, ছোট ছোট এজেন্সি, এসোসিয়েশন, বিভিন্ন ফোরাম, বন্ধু সার্কেল একের পর এক আমাকে সম্মাননা দিতে থাকলো। বিদেশে থেকে বয়ে আনা সমস্ত আনন্দ আমি সবার সাথে ভাগাভাগি করে নিলাম কারণ আমি ওদের সবার মাঝে একজন, আমি ওদের বাইরের কেউ নই, তাই এই আনন্দ আমাদের সবার আনন্দ।

সৃষ্টিকর্তার দয়া, বাবা মার আশীর্বাদ আর মানুষের ভালোবাসা এখানেই শেষ নয়, পরপর চার বার সিআইপি (কমার্শিয়ালি ইম্পরট্যান্ট পারসন) সন্মানে ভুষিত করলো আমাকে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, সিআইপি সম্মাননা পেতে সরকারি বিধি মোতাবেক সকল ধরনের প্রক্রিয়া শেষ করে এই সম্মাননা প্রদান করে থাকে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। আমি শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বানিজ‍্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব‍্যক্তি হিসাবে ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭ সালে যথাক্রমে আমাকে নির্বচিত করেন সিআইপি সম্মাননার জন্য। শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক এক বছরের বানিজ‍্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব‍্যক্তি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে লাগে ছয় থেকে সাত মাস। এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকে ন‍্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব‍্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ, সর্বপরি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন। আমি সংশ্লিষ্ট সবাই কে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই আমাকে পরপর চারবার এই সিআইপি (কমার্শিয়ালি ইম্পরট্যান্ট পারসন) সন্মানে ভুষিত করে এই মর্যাদা দেওয়ার জন্য। আমি ধন্যবাদ দিতে চাই এনসিআর করপোরেশন কে যারা প্রতিনিয়ত আমাকে সন্মাননা দিয়ে বিগত বছর গুলোতে অনুপ্রাণিত করেছে যাতে আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত হই। ধন্যবাদ দিতে চাই অল ইন্ডিয়া মহাত্মা গান্ধী ইনস্টিটিউট, ইন্ডিয়া কে, আমাকে সন্মানিত করার জ‍ন‍্য। আমাকে সন্মানিত করেছেন ধানমন্ডি সার্বজনিন পূজা উয্যাপন কমিটি, আরো সন্মানিত করেছেন সোফেন কতৃপক্ষ, সন্মানিত করেছেন আন্তর্জাতিক বিজনেস ডেলিগেটর এ‍্যাসোসিয়েশন, ধানমন্ডি ক্লাব কতৃপক্ষ করেছেন আমাকে সন্মানিত। দি আকাশ সমবায় সমিতি আমাকে করেছেন সন্মানিত, আমার সাথে সন্মানিত করছেন বাবু শ্রী শৈরন্দ্র নাথ চক্রবর্তীকে। তিনি এখন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র সচিব পদ মর্যাদা পেয়েছেন।

এত এত অর্জন আর সফলতার পরেও আমি ভুলতে পারিনি বাবাকে, বাবা বিয়োগে মনের কষ্ট নিয়ে আমি অনবদ্য কাজ করে গিয়েছি, আমার সফলতা, আমার অর্জন, আমার হাজারো ব্যস্ততার মাঝে তোমার ভালোবাসা খুঁজে পায় বাবা। বাবা, তুমি ছায়ার মত আমার পাশে আছো বলেই তো আমি হাটি হাটি পা পা করে আরো বহুদূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। চলবে....

নি এম/