eibela24.com
বুধবার, ১৭, জুলাই, ২০১৯
 

 
বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ব্রাহ্মণ সংসদের
আপডেট: ০৬:০৯ pm ৩০-০৬-২০১৯
 
 


বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে দেবভাষা সংস্কৃত শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা চালুসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ।

গত শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মৌলানা আকরাম খাঁ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদের মহাসচিব বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ এর সভাপতি-বীর মুক্তিযোদ্ধা লে. কর্নেল (অব.) নিরঞ্জন ভট্টাচার্য্য, প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চক্রবর্র্তী, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ অহিভূষন চক্রবর্তী, নির্বাহী সভাপতি অসিত কুমার মুকুটমনি, সিনিয়র সহ সভাপতি সাগর কৃষ্ণ চক্রবর্তী, সিনিয়র সহ-সভাপতি নেপাল চক্রবর্তী, সহ-সভাপতি-তপন কুমার পাণ্ডেসহ সভাপতি- অরুন বাগচী, সহসভাপতি- অলক চক্রবর্তী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব-জয়শংকর চক্রবর্তী, যুগ্ম মহাসচিব কেতকী রঞ্জন ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সমাজে মানুষদের শিক্ষা, দীক্ষা, সামাজিক ও ধর্মীয় উন্নয়নে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখায় এদেশের জনগণ ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসিয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মানুষ যখন উলঙ্গ থাকত, তখন এদেশের ব্রাহ্মণরা গৃহে গৃহে সংস্কৃত কলেজ, মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে সমগ্র বিশ্বকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ব্রতী ছিল। এক সময় প্রতিটি ব্রাহ্মণ পরিবার ছিল এক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সংস্কৃত শিক্ষা ব্যবস্থা বিলুপ্তির ফলে আজ আমাদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ইচ্ছা থাকা সত্বেও আমাদের শাশ্বত ধর্মগ্রন্থ শুদ্ধরূপে চর্চা করতে পারছে না। তাই ব্রাহ্মণ সমাজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, তথা সমগ্র সনাতন সমাজের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের সাবির্ক সহযোগিতা প্রয়োজন। এসময় তারা বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সাত দফা দাবি পেশ করেন। 

তাদের দাবিগুলো হচ্ছে— ১. একটি বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে দেবভাষা সংস্কৃত শিক্ষাসহ ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ২. বর্তমানে সংস্কৃত টোল, চতুস্পাটি, কলেজে নিয়োজিত শিক্ষকদের মাসিক বেতন ১৪৯.৫০টাকা। শিক্ষকগণের মাসিক বেতন জাতীয় বেতন স্কেলে শিক্ষকদের সম-মর্যাদায় মাসিক বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগ্রন্থগুলো সংস্কৃত ভাষায় লেখা, তাই ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত সংস্কৃত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ৪. ১৯৯২ইং সাল হতে বিদ্যালয়ে ধর্মীয় পণ্ডিত নিয়োগ বন্ধ রয়েছে, ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্র-ছাত্রীদের ধর্ম শিক্ষা অধ্যয়নে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। অবিলম্বে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পণ্ডিত নিয়োগ করতে হবে। ৫. সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেব-দেবীর পূজা ব্রাহ্মণগণই করে থাকেন। ব্রাহ্মণরাই মঙ্গঁল আচার অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করেন। সেকারণে শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ভুক্তদের পুরোহিত প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। ৬. সরকারি কোষাগার হতে মন্দিরের পুরোহিতগণকে মাসিক প্রণামী (ভাতা) প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। ৭. বিবাহের পবিত্রতা ও অপব্যবহার রোধ কল্পে বিবাহ সম্পন্নকারী পুরোহিতদেরকে বিবাহ নিবন্ধনকারী হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।

নি এম/