রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮
রবিবার, ৭ই শ্রাবণ ১৪২৫
 
 
৭১ এর গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবীতে জেনেভায় সেমনিার
প্রকাশ: ০৭:২৭ pm ১৬-১২-২০১৭ হালনাগাদ: ০৭:২৮ pm ১৬-১২-২০১৭
 
 
 


৯ই ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ঘোষিত আন্তর্জাতিক জেনোসাইড ডে। তার ঠিক একদিন পূর্বে ৮ই ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেলে জেনেভার মানবাধিকার ভবন “মহাত্মামা গান্ধী মিলনায়তন”-এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর সেক্যুলার বাংলাদেশ (সুইজারল্যান্ড শাখা) আয়োজন করে আন্তর্জাতিক সেমিনার। সেমিনারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল: ইন্টারন্যাশনাল রিকগনাইজেশন ফর ১৯৭১ জেনোসাইড এন্ড প্রিভেন্টিং রোহিঙ্গা জেনোসাইড ইন মায়ানমার। সেমিনারে প্রধান বক্তা লেখক, সাংবাদিক একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপিত শাহরিয়ার কবির, তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে সংঘটিত গনহত্যাকে আনতর্জাতিক স্বীকৃতির দাবীতে বিশ্ব বাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। সেমিনারে উপস্থিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী ও সংস্থাদের প্রতি আহব্বান জানিয়ে তিনি বলেন- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সবচেয়ে ভয়াবহ ও পরিকল্পিত গনহত্যা হয়েছে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে। ৭১ এ বাংলাদেশে সংঘটিত গনহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এখন সময়ের যৌক্তিক দাবী, কেননা গনহত্যার অস্বীকৃতিই হচ্ছে গনহত্যার চূড়ান্ত ধাপ।

প্যানেল স্পীকার ৭১ এর শহীদ কন্যা, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির  কেন্দ্রীয় যুগ্ন সম্পাদক ডাঃ নুজহাত চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ৭১ এর গন হত্যা সম্পর্কে জাতিসংঘের কাছে স্বীকৃতি আদায়ের জোর চেষ্টা চালাতে হবে। ৭১ এর গনহত্যার জাতীয় স্বীকৃতি মিলেছে। তাই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমাদের অধিকার। বাংলাদেশের ৭১ এর গনহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পেলে বিশ্বের দেশে দেশে গনহত্যাকারীরা উৎসাহিত হবে এবং গনহত্যা ধারাবাহিকতা পাবে। ইটালি থেকে আগত সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ফ্রান্সিকো মারিনো বলেন, ৭১ এ বাংলাদেশে যে গনহত্যা সংঘটিত হয়েছিল তা ছিল নির্মম ও বর্বরতার নিকৃষ্ট উদাহরন। এ গনহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না হওয়ায় প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারের সেনাবাহিনী একই ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর নির্বিচারে গনহত্যা ও গনধর্ষণ চালাচ্ছে। রাখাইনে গনহত্যার আন্তর্জাতিক তদন্ত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার হওয়া প্রয়োজন।

জেনেভা ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন আর্থ ফোকাস ফাউন্ডেশন এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মাদাম নিকোলা সাফোর্ড ফুরি তার বক্তব্যে বলেন, ৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যে বর্বও গনহত্যা হয়েছে, আমরা তার নিন্দা জানাই এবং জাতিসংঘ এই গনহত্যার স্বীকৃতি দেয়া প্রয়োজন।  
অটোনোমিয়া ফাউন্ডেশন এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডঃ লরেন্ট সুবালিয়া তার বক্তব্যে বলেন, মায়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্টির উপর সেখানকার সেনাবাহিনী নির্মম নিষ্ঠুর পাশবিক অত্যাচার ও নির্বিচাওে গনহত্যা চালয়েছে, তার আন্তর্জাতিক বিচার হওয়া প্রয়োজন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সরকার ও সে দেশের জনগন ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে আশ্রয় ও সেবা দিয়ে বিশ্ব মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জনগনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

সমাপনী ভাষনে সেমিনারের উদ্যোক্তা ও সভাপতি রহমান খলিলুর উপস্থিত মানবাধিকার নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশে ৩০ লক্ষ গনহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জাতিসংঘকে ঘোষণা দিতে হবে। এবং মায়ানমার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর নির্মম অত্যাচার ও গনহত্যার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে আমরা বিচার চাইব। সকল গনহত্যার বিচার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এ জন্য প্রয়োজন-যাতে করে ভবিষ্যতে দেশে দেশে নতুন করে গনহত্যা ও পাশবিকতার সাহস কেহ না পায়। আমরা এ লক্ষ্যে কাজ করে যাব।

সেমনিারে ৭১ এর গনহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও মায়ানমারের রোহিঙ্গা গনহত্যার বিচার দাবী করে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ড কাউন্সিল অব চার্চের মুখপাত্র ডঃ মানজ কুরিয়ান, ইউনাইটেড কাস্মির ন্যাশনাল পার্টির চেয়ারম্যান ‘সরদার শওকত আলী কাশ্মিরী, ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর সেক্যুলার বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সদস্য ডঃ মামুনোন মাহতাব, সুইডেন শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকতার এম জামান, ডেনমার্ক শাখার আহব্বায়ক ডঃ বিদ্যুৎ বড়ুয়া, বেলজিয়াম শাখার যুগ্ন সম্পাদক মুর্শেদ মাহমুদ, ফ্রান্স শাখার যুগ্ন সম্পাদক উদয়ন বড়ুয়া, জেনেভার মানবাধিকার কর্মী জমাদার নজরুল ইসলাম। নেদারল্যন্ড থেকে আগত বাসুগ এর চেয়ারম্যান মানবাধিকার কর্মী বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়া। ইউকে থেকে আগত মানবাধিকার কর্মী ও ব্লগার অজন্তা দেব রায় ও বাংলাদেশ মাইনরিটি কাউন্সিল সুইজারল্যান্ড শাখার সভাপতি অরুন জ্যোতি বড়ুয়া।

সেমিনারে উপস্থিত থেকে প্রতিপাদ্য বিষয়ে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন জেনেভার শাহাদাৎ হোসেন, জুবায়ের, সাজিয়া সুলতানা, লুজান থেকে মিয়া লিটন, জসীম ভূঁইয়া, আশরাফুল আলম লিটন, টিপু ও শামীম এবং নিশাতল থেকে আগত মানবাধিকার কর্মী হাসান ইমাম খান। সেমিনারের সার্বিক সমন্বয় ও সহযোগিতার দায়িত্ব পালন করেন ইন্টান্যাশনাল ফোরাম ফর সেক্যুলারের বাংলাদেশ-সুইস শাখার সাধারন সম্পাদক মাসুম খান দুলাল ও সংস্কৃতি কর্মী নিজাম উদ্দিন। সেমিনারের প্রধান পৃষ্ঠপোষকতার ছিলেন ফ্রান্সের ব্যবসায়ী ও মানবাধিকার কর্মী শাহীন মজুমদার এবং জেনেভাস্থ সাজনা রেষ্টুরেন্ট।

এসএম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71