বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৫ই পৌষ ১৪২৫
 
 
সংসদে সড়ক পরিবহন বিল উত্থাপন
প্রকাশ: ১০:৩৮ am ১৪-০৯-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:৩৮ am ১৪-০৯-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


বেপরোয়াভাবে বা অবহেলা করে মোটরযান চালনার ফলে হওয়া দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দায়ে চালককে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দণ্ডিত করার বিধান রেখে নতুন ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বিল’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। 

একইসঙ্গে প্রাণহানির দায়ে অভিযুক্ত চালক ও কন্ডাক্টরের অপরাধ জামিনযোগ্য নয় বলে বিলে উল্লেখ করা হয়। তাছাড়া দুর্ঘটনাজনিত অন্যান্য অপরাধ আপোষ মীমাংসার জন্য পুলিশকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিলটি উত্থাপন করেন।

পরে এ বিষয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিলটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে প্রেরণ করা হয়।

উক্ত বিলে বলা হয়, লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি গণপরিবহনের কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। নতুন শ্রম আইন অনুযায়ী যেকোনো নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান চুক্তি ছাড়া কাউকে কন্ডাক্টর হিসেবে নিয়োগ করতে পারবে না। 

গণপরিবহন পরিচালনার জন্য সরকারি গেজেট দ্বারা প্রতিটি মহানগর, বিভাগ এবং জেলায় একটি করে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটিতে পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক প্রতিনিধি থাকবেন। সেই কমিটি রুট পারমিট প্রদান করবেন। 

বিলে মোটরযানের মালিক বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বার্ষিক বা এককালীন চাঁদা আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে। চাঁদার অর্থ মোটরযান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বা চিকিৎসা খরচ বাবদ প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। 

এ কারণে সরকার কর্তৃক আর্থিক সহায়তা তহবিল পরিচালনার জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হবে। ট্রাস্টির চেয়ারম্যান সরকার থেকেই নিয়োগ করা হবে। এটি একটি সম্পূর্ণ স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠান হবে। বিলে পরিবহন খাতের বিমাসহ সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে।

বিলে অপরাধ, বিচার ও দণ্ড অনুচ্ছেদে বলা হয়, প্যানেল কোডের ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৮৯৮-এ ভিন্নতন কিছু না থাকলে, সাব ইন্সপেক্টর বা সমমর্যাদার কর্মকর্তা আদলতে অবহিত করলে এ আইনের অধীনে সব অপরাধ আমলযোগ্য হবে। 

বিলে আরও বলা হয়, এ আইনের ৮৪ (মোটরযানের কারিগরি ত্রুটি), ৯৮ (ওভার লোডিং, ওভার টেকিং বা বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালালে) ও ১০৫ (প্রাণহানি জনিত অপরাধ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধসমুহ ছাড়া অপর সব অপরাধ জামিনযোগ্য হবে। 

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা অতিরিক্ত সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ বা সমমর্যাদার কর্মকর্তাকে এই আইনের ৬৬ (ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো), ৭২ (রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরযান চালালে), ৭৫ (মোটরযানের ফিটনেস না থাকলে), ৮৭ (মোটরযানের গতি অনিয়ন্ত্রিত হলে), ৮৯ (ঝুঁকিপূর্ণ মোটরযান চালালে) এবং ৯২ (নেশা জাতীয় দ্রব্য পান কওে গাড়ি চালালে) ধারায় বর্ণিত অপরাধসমুহ আপোষ মীমাংসা করতে পারবেন। 

তাছাড়া অপরাধসমুহ নির্ধারিত টার্মিনাল চার্জ ব্যতীত পাবলিক প্লেসে মোটরযান চলাচলের জন্য অবৈধভাবে কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না, কেউ যদি তা করে তাহলে একে প্যানেল কোডের অধীন চাঁদাবাজির অপরাধ বলে গণ্য করা হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১১ সালে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মোটর ভেহিক্যাল অর্ডিন্যান্স ১৮৮৩ বাতিল হয়ে গেলে এর আবশ্যকতা বিবেচনায় ২০১৩ সালের ৭নং আইন দ্বারা এটি কার্যকর রাখা হয়। 

পরবর্তীতে সময়ের চাহিদা ও নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ প্রণীত হয়। আইনটি আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে এতে মোট ১৪টি অধ্যায়ে ১২৬ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71