বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১০ই ফাল্গুন ১৪২৪
 
 
মরুর বুকে 'ফুলের কারিগর'
প্রকাশ: ০৪:০৩ pm ২২-০৫-২০১৫ হালনাগাদ: ০৪:০৩ pm ২২-০৫-২০১৫
 
 
 


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মরুর দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফুলচাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বাঙালি যুবক মিজানুর রহমান। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল গ্রামে।
৩০ বছর বয়সী মিজান ভাগ্য বদলাতে পাড়ি দিয়েছিলেন আরব আমিরাত। একদিন ভাবলেন, মরুর দেশের জমিতে অনেকে সবজি চাষাবাদ করেন। এর সঙ্গে তো ফুলের চাষও করা যায়। ফুলের সঙ্গে থাকবে ফলও। সেই ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে ফুল ও ফলের চারা উৎপাদন এবং বিপণনের কাজ শুরু করলেন তিনি। আমিরাতের আল আইন বাওয়াদি সেন্ট্রাল মার্কেট এলাকায় মাত্র ২০০ বর্গমিটার এলাকায় তিনি গড়ে তুলেন গ্রিন বাওয়াদি নার্সারি। এই নার্সারি দেখলে সব বাঙালিরই মনে হবে, বাংলাদেশের গ্রামীণ মেঠোপথের কোনো একটি নার্সারি এটি! নার্সারিজুড়ে আম, জয়তুন, আঙুর, পেয়ারা, লেবু, গোলাপ, চম্পা, সন্ধ্যামালতীসহ নানা প্রজাতির ফুলের চারা।
জানা গেছে, দুবাইয়ে ফুল ও ফলের চারার দামও বেশ ভালো। সেখানে আম চারা বিক্রি হয় ৫০ দেরহাম থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার দেরহাম পর্যন্ত। জয়তুন চারার দাম আরও বেশি, পাঁচ হাজার দেরহাম। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় এক লাখ! আঙুর চারা ৬০ থেকে ১০০০ দেরহাম। এছাড়া পেয়ারা ৪০-৫০ দেরহাম, লেবু ৫০০-২০০০ দেরহাম। বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করলে দুবাইয়ে ফুল ও ফলের চারার দাম আকাশচুম্বী। তবে চারা পরিচর্যা ও উৎপাদন ব্যয়ও বেশি। সেই দেশের গরম আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই জাতের চারা না হলে ব্যবসায় লালবাতি!
মরুর বুকে 'ফুলের কারিগর'
উচ্চ তাপমাত্রার মরুর দেশে নার্সারিতে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। আর এই ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করে সাফল্য পেয়েছেন বাঙালি যুবক মিজানুর। ব্যবসায়ী কাজী মো. ইদ্রিস ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির বড় ছেলে মিজান ২০০৫ সালে প্রথম দফায় দুবাই যান। বাবার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যাত্রা করেন দুবাই। কর্মজীবন শুরু করেন আল আইন এলাকার হাবিব রেকর্ডিং নামের একটি দোকানে। মাসিক মাত্র ৩০০ দেরহামে চাকরি শুরু করে ভাবলেন, অল্প বেতনের চাকরি দিয়ে জীবনের গতি ফেরানো যাবে না। এ কারণে চাকরির পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করেন। শুরুতে ২০০৮ সালে ফুফাতো ভাই নাসির উদ্দিনের সঙ্গে গাড়ি মেরামত কারখানা (গ্যারেজ) করেন আজমান এলাকায়। এক লাখ ২০ হাজার দেরহাম টাকায় প্রতিষ্ঠিত গ্যারেজে গাড়ির ডেন্টিং পেন্টিং হয়। পরে ফুজিরা এলাকায় আরেকটি গ্যারেজে ৪০ হাজার দেরহাম বিনিয়োগ করেন তিনি। কিন্তু সেখানে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর পর শুরু করেন কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ বিক্রির ব্যবসা। আল আইন এলাকায় পনিক্স কম্পিউটার দোকানে পরবর্তীতে ক্যামেরা বিক্রি করা হয়। ২০১১ সালে শুরু করেন ব্যতিক্রমী ব্যবসা 'উটের দৌঁড়' প্রতিযোগিতার মানপত্র বিক্রির দোকান 'রাশেদ মো. আলী ক্যামেল অ্যান্ড হর্স'। এটি করতে খরচ হয় প্রায় আড়াই লাখ দেরহাম।
সর্বশেষ ২০১৩ সালে মিজান নার্সারি ব্যবসা শুরু করেন। মূলত সবুজ ফুল ও ফলের সঙ্গেই সখ্য তৈরি করে তিনি নার্সারি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। এখনো সেই ব্যবসায় আছেন।

তবে দুবাইয়ে ব্যবসা করতে সমস্যাও প্রচুর। এখন দক্ষ জনবলের বেশ অভাব। বাংলাদেশ থেকে আমিরাতে যাওয়ার ভিসা বন্ধ থাকায় দক্ষ জনবল নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে জনবল সংকট ও ভিসা জটিলতা নিরসন হলে ভবিষ্যতে ব্যবসার আরও প্রসার ঘটবে-এমন আশাই করেন মিজান।

এইবেল ডট কম/এইচ আর


 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71