মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮
মঙ্গলবার, ৩০শে শ্রাবণ ১৪২৫
 
 
মঙ্গলবার পর্যন্ত কনকনে ঠাণ্ডা, আসছে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ
প্রকাশ: ০৫:৪৭ pm ০৬-০১-২০১৮ হালনাগাদ: ০৫:৪৭ pm ০৬-০১-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক:
 
 
 
 


এবার যেনো পৌষেই বাঘ কাঁপনো ঠাণ্ডা নেমেছে। রাজধানীসহ গোটা দেশ কাঁপছে শীতে। প্রতিদিন নামছে তাপমাত্রা। ঘন কুয়াশা বাড়িয়ে দিচ্ছে শীতের মাত্রা। উত্তর দিক থেকে আসা হুল ফুটানো শীতল বাতাস আর কনকনে ঠাণ্ডা দেশের উত্তরাঞ্চলে আগেভাগে শুরু হওয়ার পর এখন ধেয়ে আসছে রাজধানী ঢাকাসহ মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের দিকে। দেশের প্রায় সব জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।

শুক্রবার শীতলতম দিন ছিলো যশোরে। সেখানে তাপমাত্রা ছিলো ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে হঠাৎ জোরে-শোরে শীতল বাতাস বইতে শুরু করায় ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা বড় করুণ। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে দেড় বছরের এক শিশু। ঠাণ্ডার কামড় সহ্য করতে না পেরে খড়-কাঠে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরমের চেষ্টা করছেন দরিদ্ররা। বিশেষ করে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় কাহিল অবস্থা উত্তরের জেলাগুলোর ছিন্নমূল মানুষের। সেখানে বর্তমানে দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টাই আকাশ থাকে মেঘ ও কুয়াশাচ্ছন্ন। বিকাল থেকে পরদিন আধাবেলা পর্যন্ত থাকছে দাপুটে শীত।

সন্ধ্যার পর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা ঝরছে টিপ টিপ করে। কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনগুলো দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। পাশাপাশি ট্রেনগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করছে। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ নেহায়েত গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া ঘর থেকে বেরুচ্ছেন না। দিনের বেলায় সূর্য কিছু সময়ের জন্য দেখা গেলেও তা যেন মোটেও উত্তাপ ছড়াতে পারছে না। তীব্র শীতের কারণে দরিদ্র মানুষ কাজে যেতে না পেরে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের লোকজন দারুণ অসহায় হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা, আলুসহ বিভিন্ন ফসলের। ছত্রাক জাতীয় রোগ দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন শীতজনিত রোগ বালাই। হাসপাতালে বেড়েছে নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়া, আমাশয়. হাঁপানি পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন রোগীর সংখ্যা।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার অবধি শীতের তীব্রতা কমবে না। তাপমাত্রা ক্রমশ হ্রাস পাবে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলিসিয়াস নেমে যাবে। এ মাসেই তিনটি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা আছে। জানুয়ারিতে দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে একটি মাঝারি (৬ ডিগ্রি-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস), একটি তীব্র (৪ ডিগ্রি-৬ ডিগ্রি সে.) ধরনের শৈত্য প্রবাহ, অন্যত্র দুই থেকে তিনটি মৃদু (৮ ডিগ্রি ১০ ডিগ্রি সে.) বা মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ফলে অস্থায়ীভাবে আকাশ মেঘলা থাকছে। উঁকি দিতে পারছে না সূর্য। ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা নেমে এসেছে ৫০ মিটারে। বিমান, নৌ পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। শক্তিশালী ঝঞ্চার হাত ধরে এক দফা বৃষ্টি হয়ে গেলে কুয়াশা এত ঘন হতে পারত না।

আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ বজলুর রশিদ বলেন, যশোরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রীর নিচে নামলে শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্যকরা হয়। আর সে হিসেবে মাঝারী থেকে তীব্র শৈত্য প্রবাহ চলছে বিভিন্ন জেলায়। শুক্রবার দেশের অন্তত ২০টি জেলায় তাপমাত্রা ছিলো ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নীচে।

আবহাওয়া বিজ্ঞানী রাশেদ চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রার বৃদ্ধির দীর্ঘ মেয়াদী গড় থেকে বর্তমান সময়ের শীত হ্রাস পাচ্ছে এটা ঠিক। তবে শীতকালীন ‘লা নিনার’ কারণে এবার বাংলাদেশের কোথাও কোথাও কিছুদিন কিছুটা বেশি মাত্রায় ঠাণ্ডাও পড়তে পারে। এবারকার ঠাণ্ডাটা অন্যান্য বছরের চেয়ে একটু বেশি ব্যতিক্রম। আমাদের দেশে মুলত: ডিসেম্বর থেকে ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মৃদু থেকে মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ শুরু করে আবার কিছুদিন পর তা হ্রাস পেয়ে গেছে এমন উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু এবার পুরো ডিসেম্বরের মাসে ঠাণ্ডা ছিল খুবই সহনীয় মাত্রায়। ডিসেম্বর মাস পেরিয়ে গেলেও ঠাণ্ডা না পড়ায় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে শীত পড়বে না, সহনীয় মাত্রার ঠাণ্ডায় কেটে যাবে এবারের শীতকালটা। হঠাৎ অতিমাত্রায় শীত পড়ায় অনেকেই বিস্মিতও হয়েছেন।

এসকে 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71