রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯
রবিবার, ২রা আষাঢ় ১৪২৬
 
 
বেগমগঞ্জে মন্দির দখলের পায়তারা
প্রকাশ: ১০:১২ am ১৭-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:১৫ am ১৭-০৭-২০১৭
 
 
 


নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী বাজারে শ্রী শ্রী হরি মন্দির জায়গা দখল করে নেওয়ার পায়তারা স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হরি মন্দির সেবাশ্রম কমিটি রবিবার রাতে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। স্থানীয়দের সম্প্রদায়ের অভিযোগ, ১৯১৮ সালে ছয়ানী বাজারে প্রতিষ্ঠিত হয় কালী মন্দিরটি। মন্দিরের পাশে রয়েছে একটি বৃহৎ গাছ যা অন্তত দেড়শ বছরের পুরনো। স্থানীয় হিন্দুরা এটিকে কালী দেবী রূপে পূজা করে। 

২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর রাতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল কতিপয় দুর্বৃত্ত দিয়ে কালী মন্দিরের জায়গা জবর দখল ও কালী পূজার গাছটি কাটার অপচেষ্টা চালায়। বিষয়টি ভক্ত পূজারীরা টের পেয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদাযের লোকজন, ছয়ানী সনাতনী যুব সংঘ ও মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা একজোট হযে প্রতিরোধ করে। এতে করে সাময়িকভাবে গাছ কাটা বন্ধ হলেও সম্প্রতি কতিপয় কুচক্রিমহল পুনরায় বিভিন্ন অসৎ উপায় অবলম্বন করে গাছটি কেটে মন্দিরের জায়গা দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। 

Image may contain: one or more people and indoor

মন্দির পরিচালনা পরিষদের উপদেষ্টা, ডা. হরিনারায়ন জানান, মন্দিরটি জমিদার আমলে স্থাপিত। ছয়ানী মৌজার ৪নং খতিয়ান ভুক্ত ৩৮২ দাগের ১৫ শতক জমিন সরকারের খাস ভূমি হিসেবে মন্দিরের দখলে ছিল। মন্দিরের পাশেই রয়েছে গাছটি। সম্প্রতি কতিপয় কুচক্রিমহল মন্দিরের অঙ্গিনা দখল করে দোকানপাট গড়ে তুলেছে। বর্তমানে মন্দরেরর ব্যবহারে ৪-৫ শতক জমিন রয়েছে। বাকিগুলো নানাভাবে দখলে চলে গেছে। দখলবাজরা সম্প্রতি গাছটি কেটে জায়গা দখলে নেয়ার অপচেষ্টা চলাচ্ছে। 

এ বিষয়ে প্রতিবাদ করে স্থানীয় প্রশাসনকে মৌখিকভাবে অবহিত করায় গত দুদিন থেকে অপরিচিত মোবাইল নাম্বার থেকে তাকে পাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। বিষয়টি তিনি হিন্দু সংগঠনের নেতাদের জানান। নোয়াখালী জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক বিনয় কিশোর রায় জানান, মন্দিরের ব্যবহারের জায়গা দখলের চেষ্টা এবং গাছ কাটার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানো আছে, প্রয়োজন বোধে লিখিত জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছয়ানী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লা জানান, গাছটি শত বছর থেকেই মন্দিরের পাশে আছে। এটি মন্দিরের জায়গায়। তবে মন্দিরের অন্য কোনো জায়গা নিয়ে কারো সঙ্গে বিরোধ আছে কিনা বিষয়টি জানা নেই। 

বেগমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওমর ফারুক জানান, গাছ কাটার পাঁয়তারা করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে টহল পুলিশ সরজমিন গেছে। কেউ গাছ কাটতে পারেনি। তবে জায়গার বিষয় নিয়ে এখনো কেউ কিছু জানায়নি। 

বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার খন্দকার রেজাউল কমির মঙ্গলবার বিকেলে জানান, তিনি সরজমিন গেছেন। মন্দিরের এলাকার খাস জমিন মন্দিরের থাকবে। এটিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব সহযোগিতা করা হবে।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71