বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯
বৃহঃস্পতিবার, ৬ই আষাঢ় ১৪২৬
 
 
বিয়ে বাড়িতে গিয়ে যে কাজগুলো কখনো করবেন না!
প্রকাশ: ১১:২১ am ২৬-০১-২০১৯ হালনাগাদ: ১১:২১ am ২৬-০১-২০১৯
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


আপনি হয়তো খুব ধনী পরিবারের সন্তান অথবা ধনী। কিন্ত কখনই বিয়ে বাড়িতে গিয়ে বিয়েতে করা জিনিসগুলোর সমোলচনা করবেন না। কারন আপনার কাছে এইগুলো বিরক্তিকর ও সাধারন হলেও, কনের পিতার কাছে সারাজীবনের পরিশ্রম এইগুলো।

আপনার ঘরবাড়িতে গেলে মন্দিরের মতো মনে হয়! সবজায়গা গুলো কি সুন্দর সাজানো, গোছানো এবং দামী জিনিস পত্র দিয়ে সাজানো, সবই পরিস্কার। অথচ হয়তো কোন বিয়ে বাড়িতে গিয়ে যদি আপনার মনে হয়, কিসব পুরোনো জিনিস, অসুন্দর জিনিস দিয়ে ভরা! যদি আপনার এইগুলো দেখে বিরক্তি ও ঘৃনা আসে। তবে একটু মনে করে নিবেন হয়তো এই পুরোনো, জীর্ণ জিনিসগুলো ও কারো কাছে অমুল্য সম্পদ। আপনার ফেলে দেওয়া জিনিসগুলোও কারো কাছে হতে পারে আনন্দঘন উৎসবের কারন। আপনার এই পুরোনো জিনিস গুলো দেখে বিরক্তি আসলেও, এইগুলো অর্জন করতে করতে কোন এক বাবার সারাজীবন লেগে গেছে।

বিয়ের খাবার, দাবার ভালো হয়নি! বিয়ের ডেকোরেশন ভালো হয়নি, রান্না ভালো হয়নি, রান্না পর্যাপ্ত নয়, পরিবেশন ভালো হয়নি, পরিবেশন লোক ভালোনা ইত্যাদি ইত্যাদি অভিযোগ গুলো করার আগে একটু চিন্তা করবেন। এই অভিযোগ গুলোর কারন হতেও একটি পরিবার তাদের জীবনের সর্বোচ্চটুকু চেষ্টা করেছে।

বিয়ে বাড়ির মুল আকর্ষণ কনে দেখতে কেমন? মেয়েটি হয়তো একটু বয়স বেশী অথবা দেখতে অসুন্দর। হয়তো নাকটাও বোচা, আর দেখতেও কালো। আর হয়তো হাসিটাও সুন্দর নাহ! হয়তো আপনার কাছে অভিযোগ এর বন্যা বয়ে যেতে পারে। কিন্ত তার আগে একটু চিন্তা করবেন, ভগবান এর সৃষ্টিকে নিয়ে এত অসন্তুষ্টি কেন?

কন্যাকে সাজিয়ে দিয়েছে কি না? গলার সীতা হার আছে কি না? থাকলে এত ছোট কেন? ছোট হলে ডিজাইন সুন্দর নাহ! হাতে বালা, স্বর্ণ খচিত শাখা, পলা আছে কি নাহ? নাকের নত, কপালের তিতলি, কানের দুল, গলার চেইন ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে হয়তো গবেষণাগার গড়ে উঠে!

কিন্ত এই মুল্যবান সামগ্রী গুলোর থাকা না থাকার পিছের গল্পগুলো অনেক কষ্টের ও ত্যাগের। এইগুলো নিয়ে কথা ও সমোলচনা করার আগে একটি বার ভাবুন, এই জিনিসগুলোর জন্য একটি বাবা তার জীবনের কতো আশা ও স্বপ্নগুলোকে গলাটিপে এই জিনিসগুলো মেয়ের জন্য রেখেছেন।

আমরা সবাই খুব আত্মকেন্দ্রিক। আমাদের কাছে আমাদের জীবন, আমাদের সময়, আমাদের চিন্তা, ভাবনা গুলোই মুখ্য। আর সমস্ত কিছুই আলোচনা, সমালোচনা ও বিতর্কের বিষয়। আমাদের যোগ্যতা থাকুক আর না থাকুক! কিন্ত আমাদের সমোলচনা করতেই হবে। এটাই মুখ্য বিষয়।

আসুন না, এইসব চিন্তা-ভাবনা থেকে সড়ে এসে। আমরা মানুষের মতো মানুষ হই। আপনি অপরের নিন্দা করে কতোটুকু লাভ হবে? কোন লাভই হবেনা। যদি আমাদের কোন লাভই না হয়, তবে এই পণ্ডশ্রম এর কি প্রয়োজন? আসুন এই ধরনের সমালোচনা বন্ধ করি।

কারও উপকার না করতে পারলে, ক্ষতি না করি। কাউকে ভালোবাসতে না পারলে, ঘৃনা না করি। কাউকে সহানুভূতি না দেখাতে পারলে, তাকে বিপথগামী না করি। বলা হয়, ঈশ্বর সকল জীবের মধ্যে বিরাজিত হলেও মানুষের মনুষ্যত্ব এর মতো অভাবনীয় গুন থাকার কারনেই ঈশ্বরের সৃষ্টি সর্বোত্তম ধরা হয়।

আমরা যেনো অমানুষের পরিচয় না দিই। আমরাও একদিন বাবা হবো! আজ অন্যের মেয়ের বিয়ের সমালোচনা করছি। কাল আমার মেয়ের বিয়েতেও হবে। আমি যদি ভালো থাকি, মানুষের মতো পরিচয় দিই। অন্তত মানুষেরা আমার ক্ষতি করলেও, ভগবান এর কাছে আমি অবশ্যই প্রিয়।

তাই বলতে চাই দৃষ্টি ভংগী পাল্টান, জীবনটাই বদলে যাবে। আপনার করা সমালোচনা ও প্রশ্নের জবাব হয়তো কন্যার পিতার কাছে নিরুপায় হওয়া ছাড়া উপায় নাও থাকতে পারে। 

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71