গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী পৌর এলাকার শিবরামপুর গ্রামের মৃত নীল কান্ত বমর্ণ ও লাল কান্ত বর্মণের মালিকানাধীন ২ একর ৯৫ শতাংশ জমি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষমতা ও অর্থের জোরে দখলে নিয়ে ভোগ করছে আর ভুক্তভোগীরা ভূমিহীন যাযাবরের মতো জীবন যাপন করছে।
ভুক্তভোগী মৃত নীল কান্ত বর্মনের ছেলে প্রদিপ চন্দ্র বর্মণ জানান, “আদালতে মামলাধীন উক্ত ২ একর ৯৫ শতাংশ জমির মালিক ছিল আমার বাবা ও কাকা। উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা জমির মালিক। কিন্তু ক্ষমতা ও টাকার জোরে আমাদেরকে পৈত্রিক সম্পত্তি ভিটা থেকে উচ্ছেদ করে তারা দখল করে নেয়।
আমরা দরিদ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ায় শক্তিতে ওদের সঙ্গে না পেরে আইনের আশ্রয় নিই। কিন্তু যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত সেই মামলার নিস্পত্তি হয়নি।
উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা জমির মালিক হওয়া সত্ত্বেও আমাদের পৈত্তিক ভিটামাটি থেকে বঞ্চিত হয়ে অন্যের জমিতে কোন রকমে মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছি।”
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে মৃত নিল কান্ত বর্মণ ও লাল কান্ত বর্মনের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে পৌর এলাকার জামালপুর গ্রামের অন্যের জমিতে ঝুপড়ি ঘরে অসহায়, মানবেতর জীবন যাপন করছে।
দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করাই যাদের জন্যে কষ্টকর তার উপরে আবার যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা মামলা যার খরচ চালাতে পারছে না অসহায় সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা।
তারা বলেন, “আমাদের পৈত্তিক সম্পতি,আমরা বিক্রি করিনি কিন্তু তারপরেও কিভাবে ক্ষমতাশালীরা জমির মালিক হলো তা জানতে বা দেখতে পারিনি।দখলকারীদের প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিষয়ে কথা বলতে চায়না। এমনকি মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি ও প্রলোভন দেখিয়ে তাল বাহানা করেছে।”
ভুক্তভোগীরা আরো বলেন, “আমরা অসহায়,দরিদ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের বলে কি ন্যায় বিচার পাবো না..??? আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা,মানবাধিকার সংগঠন সহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৈত্তিক ভিটামাটি ফিরে পেতে মানবিক সহায়তা প্রার্থণা করেছি।”
স্থানীয় সূত্রে ও চলমান মামলার তথ্য সূত্রে জানা যায়, “বর্তমান পলাশবাড়ী পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত শীবরামপুর মৌজায় জেএল নং ৮০ ,সি আর এস নং-১০৪,এসএ খতিয়ান নং-১৩২ এর দাগ নং ১৯২ এর মধ্যে ১৪০ শতাংশ ,৩২৪ দাগের মধ্যে ৭৬ শতাংশ ,৩২৬ দাগের মধ্যে ৪৮ শতাংশ,৩৩১ দাগে ৩ শতাংশ,৩৩২ দাগে ৪৮ শতাংশ,৩৩৪ দাগে ১৮ শতাংশ ৩৪৩ দাগে ১১ শতাংশ ,৩৬২ দাগে ৫১ শতাংশ জমিসহ মোট ২ একর ৯৫ শতাংশ নিল কান্ত বর্মণ ও লাল কান্ত বর্মণের নামীয় জমি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি উল্লেখিত উক্ত জমি দীর্ঘদিন যাবৎ দখল করে রেখেছেন। এঘটনায় ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে ৬৫/১৫ একটি মামলা চলমান রয়েছে।”শিবরাম পুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, “মৃত নীল কান্ত ও লাল কান্ত দু ভাইয়ের বসতবাড়ীর জায়গায় স্থানীয় নুরুজ্জামান গং কালাই চাষ করেছেন ও অন্যান্য জমিতে বাবর আলী গং এর লোকজন বিভিন্ন ফসল লাগিয়েছেন। ”
স্থানীয় জনসাধারণ জানান, “এখন নুরুজ্জামান যে জায়গায় কালাই চাষ করছেন, মৃত নীল কান্ত ও লাল কান্ত বর্মণ নামে দুই ভাইয়ের বসতবাড়ী ছিলো এক সময় সেখানে।”
জমি ভোগদখলকারী নরুজ্জামানের গং এর নিকট জমির মালিকানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মৃত নীল কান্ত ও লাল কান্ত এবং নীল কান্তের বড় ছেলের নিকট হতে বসতভিটাসহ অন্যান্য জমি তিনি ক্রয় করেছেন। জমি ক্রয়ের কাগজপত্রাদি দেখতে চাইলে তিনিবলেন,সব কাগজপত্র আদালতে রয়েছে।”
বাবর আলী গং বাকি অংশ ভোগদখলে রেখেছেন, এসময় তার নিকট থাকা জমি ক্রয়ে কাগজপত্রাদি দেখতে চাইলে দেখাতে পারেনি এবং তিনিও জানান উক্ত জমির সকল কাগজপত্র আদালতে রয়েছে আমাদের নিকট নাই।
এইবেলাডটকম/মভশ
Editor & Publisher : Sukriti Mondal.
E-mail: eibelanews2022@gmail.com