রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯
রবিবার, ২রা আষাঢ় ১৪২৬
 
 
নান্দাইলে মন্দিরের সম্পত্তি দখল
প্রকাশ: ০২:০৪ pm ০৪-১০-২০১৬ হালনাগাদ: ০২:০৬ pm ০৪-১০-২০১৬
 
 
 


 

ময়মনসিংহ:: ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার প্রায় সোয়া তিনশো বছরের প্রাচীন রায়পাশা কালীর বাজারের কালী মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তির একটি বিশাল অংশ দীর্ঘ সময় থেকেই বেদখল অবস্থায় আছে। মন্দিরের সেবাইত প্রাণতোষ বিশ্বাস দেবোত্তর জায়গা দখলের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের নির্লিপ্ততার অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার জাহাঙ্গিরপুর ইউনিয়নের রায়পাশা এলাকায় মোট ১ একর ৫২ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তি রয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য কালীর বাজারের বর্তমান সম্পত্তির ০.৪৭ একর ভূমি কালী মন্দির কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই বাজারকে দিয়েছেন এবং সেটা নিয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের কোন আপত্তিও নেই। তবে ওই অংশের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মন্দিরের পাওনা আজ পর্যন্ত মন্দির কর্তৃপক্ষকে উপজেলা প্রশাসন বুঝিয়ে দেয়নি যার ক্ষতিপূরণ দেবে বলে ওই সময়ের কাগজেপত্রে উল্লেখ আছে। এদিকে গত বছর মন্দিরের জায়গা ও পুকুর বেদখলের কারণে ১২২ বছরের ঐতিহ্যবাহী শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করা সম্ভব হয়নি। উক্ত পরিস্থিতিতে 'নান্দাইল সচেতন নাগরিক সমাজ' এর পক্ষ থেকে সাধারণ জনতা ও ছাত্রদের নিয়ে রাজপথের আন্দোলনের ডাক দেয়া হয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ফলে ত্বরিৎ গতিতে ১৯-১০-২০১৫ইং তারিখে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেদখলকৃত পুকুর মন্দির কর্তৃপক্ষকে ফিরিয়ে দেয়া হয় এবং জোরপূর্বকভাবে বাজার ইজারাদারগণ মন্দিরের সামনের যে অংশ বেদখল করে হাট বসিয়েছে তা মন্দির কর্তৃপক্ষকে আগামী ৬মাসের মধ্যে ফিরিয়ে দেয়া হবে মর্মে লিখিত কাগজ উপজেলা প্রশাসন থেকে দেয়া হয়।

গত বছরের তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, ০.৮৯ একর ভূমি পেরীফেরী অনুমোদিত এবং এই পেরীফেরীর মধ্যে অর্থাৎ ঠিক মন্দিরের সামনেই গরু ছাগলের যে হাট বসে তা ৬ মাস পর উঠিয়ে দেয়া হবে এবং অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে, সেই সঙ্গে মন্দিরের জায়গা আর কখনো বাজার কমিটির ডাকে আসবে না বলেও উল্লেখ করা হয়। যেহেতু ইজারার মেয়াদ ৬মাস অতিক্রান্ত হয়েছিলো তাই মন্দির কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। কিন্তু ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখেই সেই ৬মাসের সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন এই ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি বরং বাজার কমিটি পুনরায় মন্দিরের জায়গাতে আবারো বাজার ডাকে এনেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন তো কোন পদক্ষেপ নেয়ই নি উল্টো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সেই জায়গায় আবারো গরু ও বাঁশের মহাল বসার নির্দেশ দিয়েছেন।

অপরদিকে ২০১৬ সালের ৫মে তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ভূ-সম্পত্তি জবরদখল হতে উচ্ছেদ সংক্রান্ত আবেদন প্রেরণ করা হলেও আজ অবধি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিনকে এই বিষয়টি বার বার অবগত করলেও এক ধরণের নীরব ভূমিকা পালন করেছেন শধু তাইনা এই জায়গা অবমুক্তির ব্যাপারে ২০১৪ সালে শারদীয় দুর্গোৎসব এর প্রধান অথিতির বক্তব্যে এই জায়গা দখলদারদের হাত থেকে অবমুক্তির বিষয়ে নিজের অনিচ্ছার কথাও প্রকাশ করেন।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71