রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯
রবিবার, ২রা আষাঢ় ১৪২৬
 
 
নাটোরে যুব সমাজের উদ্যোগে গীতা বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্টা 
প্রকাশ: ০৪:১৬ pm ০৫-০২-২০১৯ হালনাগাদ: ০৪:১৬ pm ০৫-০২-২০১৯
 
নাটোর প্রতিনিধি
 
 
 
 


নাটোরে ধর্মীয় এবং নৈতিক শিক্ষা গ্রহনে পিছিয়ে থাকা অবহেলিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ধর্মীয় সচেতনতা ও শিশু শিক্ষায় আগ্রহ সৃষ্টিতে উৎসাহিত ও অনুপ্রানিত করতে কিছু সংখ্যক যুবকের নিজস্ব উদ্যোগে একে একে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি অবৈতনিক গীতা স্কুল।

বৃহস্পতিবার নাটোর সদর উপজেলার ৭ নং হালসা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পাঁচ বছর বয়সী শিশু থেকে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের লোকজন ধর্মীয় গ্রন্থ শ্রীমদ্ভাগবত গীতা, বই, খাতা, কলম ইত্যাদি হাতে নিয়ে নিজ এলাকায় প্রতিষ্টিত গীতাশিক্ষা স্কুলে যাচ্ছে। কয়েকজন গীতা শিক্ষার্থীর অবিভাবককেও তাদের সন্তানদের হাত ধরে গীতা স্কুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। যা ধর্মীয় সচেতনতা ও নৈতিক শিক্ষা গ্রহনে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন এলাকার সচেতন সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ওই এলাকার প্রায় শতাধিক শিশু এবং যুব মধ্যবয়সী সনাতনী শিক্ষার্থী প্রতি বৃস্পতিবার স্বপ্রনোদীত হয় একান্ত উৎসাহ আর উদ্দীপনা নিয়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা গ্রহন করতে নিয়মিত গীতা স্কুলে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরিত্র গঠন, ধর্মীয় মূল্যবোধ সৃষ্টি, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যবোধ বাড়ছে।

সরোজমিন পর্যবেক্ষনে হালসা ইউনিয়নের শ্রী শ্রী কালীমাতা নাট গীতা বিদ্যাপীটের গীতাশিক্ষক সমির সরকার এবং হালসা সনাতন বিদ্যাপীঠ উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সোনাই পাহাড়িয়া জানান, এই মহৎ কাজের মূল উদ্যোক্তা পলাস কুমার দাস; হালসা ইউনিয়নের নিরতিশয় এক দরিদ্র্য পরিবারে জন্ম তার। নানা প্রতিকুলতা ও শত দারিদ্র্যতার মাঝেও পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি তার বন্ধু অনুপ কুমার চক্রবর্তী (তপু ) এবং মিঠুন কুমার সরকার (পরাগ ) সহ কয়েকজনের আন্তরিক সাহায্য সহযোগীতা নিয়ে নাটোর উপজেলার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হালসা ইউনিয়নের শিশু ও বয়স্কদের ধর্মীয় গীতা শিক্ষা প্রদানের লক্ষে প্রায় ৬ মাস যাবৎ কাজ শুরু করেছেন। তাদের সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে হালসায় প্রতিষ্টিত বিভিন্ন গীতা স্কুল সমূহে গীতা শিক্ষার মাধ্যমে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ, নৈতিক শিক্ষা লাভ, চরিত্রগঠন, ধর্মীয় অস্তিত্ব রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য সৃষ্টির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
গীতা স্কুলের শিক্ষক সমির সরকার আরো জানান, প্রথমে হালসা বাজার, এরপর একে একে পারহালসা, রায় হালসা, হাটহালসা, ধানুড়া, বিপ্রহালসা, আওয়াউল, গোকুলনগর, নবীন কৃষ্ণপুর সহ বিভিন্ন এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে একের পর এক গীতা স্কুল প্রতিষ্টার মাধ্যমে হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষা ও বৈদিক জ্ঞান অর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে ছোট ছোট শিশুসহ নানা বয়সের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ও পূণ্যার্থী হিন্দুধর্ম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করছে।

এলাকার মন্দিরের সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণপদ কর্মকার, সম্মানিত সভাপতি শ্রী নিখিল স্যান্যাল, সর্বশ্রী নিরান্জন মন্ডল ও শ্রীযুক্ত মনোজ চৌধুরী সহ এলাকার হিন্দু নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এই এলাকায় গীতাপাঠ স্কুল প্রতিষ্টিত হওয়াতে শিশুদের মধ্যে যেমন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক চেতনাবোধ জাগ্রত হওয়ার পাশাপাশি চরিত্রগঠন ও নৈতিক শিক্ষা লাভের মাধ্যমে ধর্ম ও অস্তিত্ব রক্ষার সুদৃঢ় মিলবন্ধন গড়ে উঠছে। বয়স্ক পূণ্যার্থী শিক্ষার্থীরা বৈদিক অনেক বিষয়ে জানার মাধ্যমে জাগতিক কল্যানে যথাযত ধর্মীয় শিক্ষা পাচ্ছে। 

নি এম/পলাশ 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71