সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭
সোমবার, ৪ঠা পৌষ ১৪২৪
 
 
ঢাবির স্মৃতির ডায়েরী থেকে
প্রকাশ: ০৪:২৯ pm ২৫-০৫-২০১৫ হালনাগাদ: ০৪:২৯ pm ২৫-০৫-২০১৫
 
 
 


গোলাম মাওলা শাকিল:২০০৪ সালে এস.এস.সি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকায় ফুফুর বাসায় বেড়াতে এসেছি। কম্পিউটারের সাথে ভালো পরিচয় হয় সেইসময়। বড় আপু তখন একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ায়। একরাতে আমি পিসিতে গেম খেলতেছিলাম। আপু সেদিন হঠাৎ বলে, আয় তোকে 'দেবদাস' দেখাই....জীবনে যদি কখনো দেবদাস হয়ে যাস? সে রাতে শাহরুখ খানের জন্য চোখে জল এসেছিল হয়তো বয়স কম ছিল তাই। ২০০৭ সালের কথা, তখন আমি প্রথম বর্ষের ছাত্র। আমার বন্ধু মীতু সহ সায়েন্স লাইব্রেরীর নীচে গল্প করতেছি। সেও আমাকে সেদিন হঠাৎ বলেছিল- 'তুই ক্যাম্পাসে প্রেম-টেম করতে যাস না। তোর মুখ দেখলে এখনও শিশু মনে হয়। কোনো মেয়ে হয়তো তোর বুদ্ধি-সুদ্ধি দেখে প্রেম করবে কিন্তু তুই শিশু বললাম যে ওই কারনে দু:খও দিতে পারে। আর তখন তুই 'দেবু' হলে আমি খুব কষ্ট পাবো, হাঁ হাঁ হাঁ.......তুই বড় হ দোস্ত, অনেক'। সত্যি, ২০১১ সালের এই এপ্রিলে কেউ একজন যখন ট্রয়ের হেলেনের মতো সেই কথা- 'You are still young, My love.' বলে চলে গিয়েছিল, আমি সেদিন ঢাবিতে দেবদাসই হয়ে গিয়েছিলাম। তবে, আমার দেবদাস গিরি শরৎচন্দ্রের মাতাল দেবদাস ছিলনা, আমি কাউকে খারাপ থেকে দেখাতাম -'সে যেনো কখনো বলতে পারে না, বা আমাকে ছাড়াতো বেশ আছো'? সেই দেবদাসের সময় যে আমার কতো কি নিয়ে গেছে, তা বলতেও এখন খারাপ লাগে? আমাকে আজ ব্যাংকের মতো দয়ামায়াহীন একটা জায়গায় কাজ করাতে বাধ্য করাচ্ছে সেইসময়। বিসিএসের জন্য লংঝাপ দেওয়ার ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না। আমার পায়ের নীচে তিল আছে বলে বাইরে পড়তে যাবো এই আশায় বসে থাকার ছেলে আমি নই? এই শিশুসুলভ চেহারায়ও আমি পরিশ্রম করতাম অন্য ধরনের এক স্বপ্নের লক্ষ্যে। সেই কাউকে দেখানোর দেবু' দা আমার ফাইনাল ইয়ারের রেজাল্ট কতো যে নামিয়ে দিয়েছিল, থাক সেকথা। সেবার ফাইনাল পরীক্ষা আমি কেমনে দিছলাম জানিনা? কারন, আমার মস্তিষ্ক ঠিক কাজ করছিল না। যাইহোক, পরীক্ষার পর বাড়ীতে গেলাম, দাদি তখন কঠিন অসুস্থ। তবুও, আম্মাকে বললেন আমাকে নিয়ে যেনো স্কুলের মোউলভী স্যারের কাছে যায়। বাবা-মা সন্তানের জন্য যে কতোকিছু করে, সেইসময়ের কথা মনে পরলে আমার যেমন এখন কান্নাও পায় মাঝেমাঝে হাঁসিও পায়। স্যার, আমার মাথায় হাত দিয়ে কি বলছিল জানিনা, কিন্তু আম্মাকে একটা বোতলে মনে হয় পানি দিয়েছিলেন। আমাদের বাড়ীতে সকালে চা খাওয়ার পর, পরে সাধারণত ভাত খাওয়া হয় কিন্তু আমি বাড়ীতে গেলে আম্মা হয় রুটি কিংবা পরোটা ভাজে, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে বলে কথা। তাছাড়া, আমি সকালে ভাত খেতে পারিনা অনেকদিন। বড়ফুফু এইকারনে আমাকে বলে জমিদার। সেবার আমি বাড়ীতে ২১ দিন ছিলাম আম্মা রুটি ভেজেছিল ঠিকই কিন্তু সে রুটি আমাকে দেন নাই। আমাদের বাড়ীর পোষা মাদি কুকুরটাও কেন জানি ঝিম ধরছিল সেসময়। ওকে আমি ঢাকলেও শুনতো না। পরে জেনেছি, আম্মা সেবার স্যারের দেওয়া পানি ভিজিয়ে ১৭ দিন সকালের রুটি আমার প্রিয় কুকুরটাকে খাইয়েছিল। আমার জন্যে কি আত্নত্যাগ ভালোবাসার এক প্রাণীর। এইকারনে বোধহয় ও ঝিম লেগে দেবদাস হচ্ছিল আর আমি একটু একটু করে ঘোর থেকে বের হচ্ছিলাম। আমার দেবু' কেমন লেগেছিল আমার প্রিয় বন্ধু মীতুর কিংবা সিডনীতে থাকা বোনকে জিজ্ঞাসা করার সাহস হয়না, তারা কি সত্যি চেয়েছিল আমি দেবদাস হই? যাইহোক, এই হলো আমার দেবদাস, বলে গেলাম আজ নির্দ্বিধায়। যে দেবু' অনেক কেড়ে নিলেও আমার বয়সটা বাড়িয়ে দিয়ে গেছিল, পরিণত করেছিল। এটা কি ভালোবাসা ছিল, জানিনা? সেদিন আমার বন্ধু নাহারের প্রোফাইলে ফ্যাবারেট কোটস দেখলাম- 'কিছু না পাওয়ার চেয়ে ভালোবেসে দু:খ পাওয়া ভালো'। নাহার কি কোথাও ভালোবেসে দু:খ পাইছে, হয়তোবা? আর আমার কোটস রবীন্দ্রনাথের সেই কথা- ভালোবাসার আনন্দ থাকে কিছুক্ষণ, কিন্তু বেদনা থাকে সারাজীবন।' দু:খ আর বেদনা কী এক জিনিস, কি জানি? তবে থাকুক না বেদনা সারাজীবন, যে বেদনা আর অন্য কিছুর নয় ভালোবাসার.............।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এইবেলা ডটকম/এটি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
Loading...
 
 
 
Loading...
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন # sukritieibela@gmail.com

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

   বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: sukritieibela@gmail.com

  মোবাইল: +8801711 98 15 52 

            +8801517-29 00 01

 

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71