শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
শুক্রবার, ১০ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
ডিমের কুসুম স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক নয়, বলছে গবেষণা
প্রকাশ: ০২:২৮ pm ১৩-০৯-২০১৮ হালনাগাদ: ০২:২৮ pm ১৩-০৯-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


ডিমের মতো পুষ্টিকর খাবার খুব কমই আছে। বাচ্চা থেকে প্রাপ্তবয়স্ক, প্রত্যেককেই ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। আবার অনেকেই ডিমের কুসুম এড়িয়ে যেতে চান। বা অনেকেই এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ অনেকেরই ধারণা যে এটি রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ১৯৭৩ সালে অ্যামেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ডিমকে খাবারের মেনু থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছিল। হৃদরোগ থেকে বাঁচতেই এই কথা বলেছিল তারা। কিন্তু, ডিম কি সত্যিই সুস্থ হৃদয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়? গবেষণা বলছে অন্য কথা।

ডিমের কুসুম নিয়ে গবেষণা কী বলছে ? দেখে নেওয়া যাক-

১. ডিমের কুসুমে A, D, E, B12 এবং K-এর মতো ভিটামিন ও মিনারেলস রয়েছে। সাধারণত একটা বড় ডিমের মধ্যে ১৮৫ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। যা পুরোটাই থাকে কুসুমের মধ্যে। কিন্তু, এটা জানলে অবাক হবেন যে এই  কোলেস্টেরল, শরীরে  ব্লাড ক্লোরেস্টেরল হওয়ার কারণ নয়।  শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে থাকে ট্র্যান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত শর্করার কারণে। আগে বিজ্ঞানীরা ভাবতেন যে, হাই ব্লাড কোলেস্টেরলের কারণ হল সেসব খাবার যার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল থাকে। কিন্তু, এখন গবেষকরা বলছেন অন্য কথা। তাদের গবেষণা অনুযায়ী  ট্র্যান্স ফ্যাটের কারণেই বাড়ে ব্লাড কোলেস্টেরল।  

২. আমাদের শরীরে টেস্টোস্টেরন তৈরি করতে কোলেস্টেরল প্রয়োজন। যা শরীরে এনার্জি লেভেল বাড়ায়। ইউনিভার্সিটি অফ কানেকটিকাটের গবেষণা দেখা গেছে যে, ডিমের কুসুমে যে ফ্যাট থাকে তা শরীরে ব্যাড কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।

৩. হার্ভার্ড স্কুল অফ পাবলিক হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, সপ্তাহে যারা সাতটি করে ডিম খেয়ে থাকে তাদের হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা খুব একটা থাকে না। ১৪ বছরে ১৭ হাজার অ্যামেরিকানের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তারা।

৪. আমরা যখন কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার খাই তখন কোলেস্টেরল পেটে গিয়ে ভেঙে যায়। কিন্তু, ট্র্যান্স ফ্যাট ফ্যাটি অ্যাসিডের একটা চেনের আকারে ভাঙে। যেটা শরীরে কোলেস্টেরল লেভেল বাড়াতে সাহায্য করে।        

৫. একটা ডিমের মধ্যে ভিটামিন, মিনারেল সব আছে যা শরীরের পক্ষে প্রয়োজন। এর মধ্যে ভিটামিন ডি থাকে। এছাড়াও এর মধ্যে থাকে ভিটামিন বি, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও আরও অনেক কিছু। এর মধ্যে থাকে অ্যামিনো অ্যাসিড যা বিভিন্ন হরমোন নিঃসরনে সাহায্য করে। শুধু ডিমের সাদা অংশ খেলে ডিমের মধ্যে থাকা অর্ধেক প্রোটিনই শরীরে প্রবেশ করে।

৬. তবে ডিম কীভাবে রান্না করা হচ্ছে তার দিকে খেয়াল রাখা উচিত। বাটার দিয়ে যদি ডিম ভাজা হয় তা কোলেস্টেরল লেভেল বাড়াতে পারে। তাই অলিভ অয়েল দিয়ে ভাজা উচিত।

৭.  যেসব মুরগিকে কোনও অ্যান্টিবায়োটিকস, পেস্টিসাইড যুক্ত খাবার দেওয়া হয় না সেগুলির ডিম খাওয়া উচিত। কারণ এর মধ্যে ওমেগা থ্রি থাকে। যা আমাদের শরীরে তৈরি হয় না।

তাই কয়েকটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খেলে ডিমের কুসুম শরীরের পক্ষে খারাপ নয় বলেই মত গবেষকদের। 

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71