শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯
শনিবার, ৭ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
গাজীপুরে মুচি হিরা লাল রবিদাসকে ফুটপাতের দোকান থেকে উচ্ছেদ
প্রকাশ: ১০:১৯ am ১৩-১০-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:১৯ am ১৩-১০-২০১৮
 
গাজীপুর প্রতিনিধি
 
 
 
 


গাজীপুরে মুচি হিরা লাল রবি দাসকে ফুটপাতের দোকান থেকে উচ্ছেদ করে জীবিকা বন্ধ করলেন একই বাজারের ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক, সাবেক ইউপি সদস্য ফজলুল হক ও তাদের সহযোগীরা!

সিরা লাল রবি দাসের পরিবার গত ১০দিন যাবত খেয়ে না খেয়ে খুব কষ্টে তাদের দিন কাটছে।

সিরা লাল রবি দাস (৫৫)। পেশায় জুতার কারিগর (মুচি)। শারীরিক অক্ষমতা ও অর্থনৈতিক দৈন্যতার কারণে গত ১৬ বছর আগে থেকে ফুটপাতে বসে জুতা সেলাই ও পালিশের কাজ শুরু করেন।

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার সাতখামাইর বাজারে বরমী সড়কের পাশে তিনি একটি পুরনো কড়ই গাছের গোড়ায় বসে জুতা সেলাই করতেন। সিরা লাল রবি দাস লিভার সিরোসিস নামক রোগে ভুগছেন।

প্রতিদিন তিনি সাড়ে তিন’শ থেকে পাঁচ’শ টাকা আয় করে সংসার চালাতেন। সে আয়ের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাকে ফুটপাত থেকে উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আট হাজার টাকা জামানত নিয়ে তার জায়গায় এক পান সুপারী বিক্রেতাকে বসানো হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি এখন পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন।

সিরা লাল রবি দাস অভিযোগ করে বলেন, গত প্রায় ১৬ বছর আগেও চামড়ার ব্যবসা করেছেন। অর্থনৈতিক দৈন্যতা ও লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ায় পেশা পরিবর্তন করে জুতা সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন।

তিনি জানান, তাঁর সাতজন কন্যা সন্তান। বিউটি, চম্পা, পারুল, অঞ্জলী, সুইটি, অষ্টমী, ও আনুরাধা। বিউটি ও চম্পা বৈবাহিকসুত্রে স্বামীর বাড়ি থাকেন। বাকি পাঁচজন কন্যা ও স্ত্রীসহ সাত সদস্যের পরিবারের প্রত্যেকের অন্ন যোগাড় করতে হয় সিরা লাল রবি দাসকে। সাধ্যমতো প্রত্যেক কন্যাকে জুতা সেলাইয়ের কাজ করে পড়াশোনা করিয়েছেন। তার মেয়েদের প্রায় প্রত্যেকেই পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত জুতা সেলাইয়ে বাবাকে সহযোগিতা করেছেন। খেয়ে-পড়ে কোনোরকমে তাদের সংসার চলেছে। কিন্তু গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে খাওয়া-পড়ার কষ্টে দিন কাটছে পরিবারের সাত সদস্যের।

সিরা লাল রবিদাসের স্ত্রী আরতি রানী রবি দাস বলেন, একটা মানুষকে কাজ করতে দিল না তারা। আমরা ভিক্ষা করতে চাই না। কারো জায়গাও দখল করিনি। সমাজের আর ১০টা মানুষের মতো ইজ্জত নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম। তাদের সেটিও সহ্য হল না।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71