মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯
মঙ্গলবার, ১লা শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরের স্মৃতিসৌধ ও সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি 
প্রকাশ: ১১:০১ am ১৫-১২-২০১৮ হালনাগাদ: ১১:০১ am ১৫-১২-২০১৮
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
 
 
 
 


১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরের ৪৭তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার মহানন্দা নদীর পাড়ে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরের শহীদ স্থানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ভবন চত্বরে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুস্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে বাংলার এই বীর সন্তানকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এসময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। 

সকালে পুস্পার্ঘ অর্পণকালে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রুহুল আমিন, মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোস্তাক আহমেদ, মো. খাইরুল ইসলাম সহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাগণ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.কে.এম তাজকির উজ জামান, এনডিসি মো. আসাদুজ্জামানসহ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগণ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইকবাল হোছাইন, এ.এস.পি মো. আব্দুল হাই সরকার, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউর রহমান পিপিএমসহ পুলিশের বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ। শেষে বাংলার এই বীর সন্তানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।  

দিবসটি উপলক্ষে সোনামসজিদ চত্বরে শহীদ জাহাঙ্গীরের মাজারে পুস্পার্ঘ অর্পণ, মাজার জিয়ারত, দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা ব্রি. অব. এনামুল হক, জেলা ও উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাগণ ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা উপস্থিত হন।

এদিকে, জাতীয় মহিলা সংস্থার উদ্যোগে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরের ৪৭তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে স্মৃতিসৌধে পুস্পার্ঘ দেন জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা শাখার চেয়ারম্যান এ্যাড. ইয়াসমিন সুলতানা রুমার নেতৃত্বে। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুফিয়া খাতুন, তথ্য আপা কর্মকর্তা সারোয়ার জাহান ও সহকারী কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন, দর্জি প্রশিক্ষক রেহেনা ইয়াসমীন, সহকারী প্রোগ্রামার তাসরিন সুলতানা, নকশী কাঁথা প্রশিক্ষক সিনুরা বেগম ও সহকারী প্রশিক্ষক মুনিরা খাতুনসহ অন্যরা। 

এছাড়া, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগেও শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরের ৪৭তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে স্মৃতিসৌধে পুস্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ.এ আতিকুল্লাহ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফয়েজউদ্দিন ও মো. আব্দুর রাকিব, মো. নুরুল ইসলামসহ বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। 

উল্লেখ্য, বাঙলা মায়ের দামাল সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের এই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পার্শ্বে মহানন্দা নদীর তীরবর্তী গ্রাম রেহায়চর এলাকায় সংগঠিত হয় এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। পাকহানাদার বাহিনীর সাথে সুম্মুখযুদ্ধে ধ্বংস করে দেয় শত্রু বাহিনীর ১৮টি ট্রেঞ্চ ও ২০ থেকে ২২ টি বাংকার। শত্রুমুক্ত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

১৩ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর শহর মুক্ত করতে কয়েকটি নৌকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে রেহায়চর এলাকায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। সম্মুখযুদ্ধে একের পর এক পরাস্ত করতে থাকেন শত্রু বাহিনীকে। ১৪ ডিসেম্বর রাতের আঁধার কেটে সকালে সূর্য ওঠার আগেই নির্ভিক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাহাঙ্গীর সহযোদ্ধাদের নিয়ে বীরদর্পে এগিয়ে চলেন এবং ধ্বংস করে দেন শত্রু বাহিনীর ১৮টি ট্রেঞ্চ ও ২০ থেকে ২২ টি বাংকার। 

জাহাঙ্গীরের দুঃসাহসিক ও দুরন্ত আক্রমণে শত্রু বাহিনী তাদের আস্তানা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। রেহায়চর ঘাটের কাছেই শত্রু বাহিনীর সর্বশেষ বাংকারটি দখল করতে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এগোতে থাকার সময় হটাৎ শত্রু বাহিনীর একটি গুলি এসে লাগে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের কপালে। লুটিয়ে পড়েন মাটিতে বাংলার এই বীর সন্তান এবং সেখানেই শাহাদাৎ বরণ করেন। পরের দিন শহীদ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরকে দাফন করা হয় হযরত শাহ নেয়ামত উল্লাহ (রহঃ)-এর পুণ্যভূমি বাংলার পুরাতন রাজধানী গৌড়ের ঐতিহাসিক সোনামসজিদ চত্বরে।

নি এম/ইমরান 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71