সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৩রা পৌষ ১৪২৫
 
 
কোন কালী কিসের জন্য?
প্রকাশ: ১১:১৫ am ০৫-১১-২০১৮ হালনাগাদ: ১১:১৫ am ০৫-১১-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


কালী মানেই শক্তির আরাধনা৷ কালী পুজায় আন্ধকারের মেজাজ পাওয়া যায় তীব্রভাবে৷ কিছুটা যেন রহস্যেই মোড়া থাকে কালীপুজোর স্থানগুলো ৷ মা কালীও রহস্যের প্রতীক৷ যে কোনও কালীর পীঠস্থান নিয়েই নানাবিধ গা ছমছমে গল্পগাঁথা থাকে৷ আসক্তি মুক্তি থেকেই মেলে মা কালীর আর্শিবাদ৷ কারণ যে নগ্নরূপে মা আবির্ভূত হন তা আসলে আসক্তিমুক্ত হওয়ারই প্রতীক৷ মা কালী বিভিন্ন রূপে আবির্ভূত হন৷ প্রতিটি রূপের আলাদা অর্থ রয়েছে৷

দক্ষিণাকালী- মূলত এই রূপটি সর্বকালে ও সর্বস্থানে বিরাজমান৷ তার পুজাবিধির মধ্যে কয়েকটি লাইন পরিবর্তন করে অন্যদেবীর পুজা হয়, ভৈরব, বটুক এবং শবরূপী শিব একই থাকে, শুধু নামের পরিবর্তন হয়। ইনিই কালীর প্রধান রুপ।

ভদ্রকালী-পাতালের দেবী৷ তবে বিশেষ বিশেষ অঞ্চলে ইনি পুজিতা হন৷ তবে ভদ্রাকালী যেহেতু পাতাল কালি, কথিত যে নিজে পাতাল থেকে উঠে না এলে মানুষের পক্ষে তার পুজা করা সম্ভব নয়৷ ভদ্রাকালী স্থান ভেদে মহাকালী নামেও পরিচিত। তবে ভদ্রাকালী ও মহাকালী এক, কারন উভয়ের পুজার ধ্যানমন্ত্রও এক৷ 

রক্ষাকালী- রক্ষাকালী দক্ষিণাকালীর একটি নাগরিক রুপ। প্রাচীন কালে নগর বা লোকালয়ের রক্ষার জন্য এই দেবীর পুজা করা হতো। এই দেবীর পুজা মন্ত্র ভিন্ন এবং বাহনও থাকে৷ মূলত সিংহই থাকে বাহনরূপে ৷

রটন্তিকালী- পুত্র সন্তান কামনায় বিশেষ ভাবে এই দেবীর পুজা করা হয় ৷ এছাড়া ধনবৃদ্ধির জন্যও বছরের একটি বিশেষ অমাবস্যায় পুজিত হন দেবী। শাস্ত্র মতে, মাঘ মাসের কৃষ্ণাচতুর্দশী তিথির নামই হলো রটন্তি, এইদিন সন্ধায় দেবীর পুজো হয়। 

ফলহারিনী কালী- গৃহ ধর্মকে সুন্দর করতে এই দেবীর আবির্ভাব৷ নামে ফলহারিনী হলেও অভিষ্ট সিদ্ধদায়িনি৷ জানা যায়, রামপ্রসাদ নিজ স্ত্রীকে এই দিন দেবীরূপে পুজা করে নারী জাতির সম্মানের জন্য এর ফল উৎসর্গ করেন। এটিও বাৎসরিক একটি পুজা। 

নিশাকালী- নিশাকালী নিয়ে মতভেদ আছে৷ বলা হয়ে থাকে ইনি জেলেদের রক্ষাকারী, দুর্যোগময় রাতে জেলেরা সমুদ্রে গেলে তার পুজা করে যেতেন, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য তার চরন ছোয়া ফুল যে নৌকায় থাকতো সেই নৌকা কদাচিৎ ডুবতোই না। এছাড়া আধিভৌতিক ভীতি কাটানোর জন্যও এই দেবী প্রসিদ্ধ। 

আবার অন্য মতভেদও আছে৷ কোন এক সময় এক গ্রামের কয়েকজন পুরুষ নৌকা নিয়ে বের হয়ে৷ পথে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। সেই সময় সকল ধীবর পত্নী তাদের স্বামীদের জন্য দেবী মন্দিরে উপস্থিত হয়ে প্রার্থনা করতে থাকে, সেই সময় একজন বৃদ্ধা এসে তাদের নিশাকালীর মাহাত্ম্য কথা বলে তাদের বলেন, যে কুলে স্বয়ং দেবী জন্ম নিয়েছিলেন, সেই কুলের রুক্ষাকর্ত্রী দেবী নিজেই। তাই তার রুপ নিশাকালীর ব্রত করো। তিনিই দুর্যোগময় রাতে তোমাদের পতিদের রক্ষা করবেন। সেই থেকে জেলেকুলে ধুমধামের সাথে দেবীর স্থান হলেও কালক্রমে নিশাকালীর পুজা প্রথা বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু স্থানভেদে কিছু জায়গায় এখনো তার পুজা বিদ্যমান। 

ছিন্নমস্তা- অহংকারের অবস্থান মস্তিষ্কে। যে এই অহংকে মস্তিষ্ক থেকে ছিন্ন করতে পারে সেই কালীর অপর রূপ ছিন্নমস্তাককে লাভ করতে পারে। এই অহং ছিন্ন করতে পারলে নিজের মধ্যে তিনটে আমি-র সন্ধান পাওয়া যায়। 

কাম্যকালী- আমাদের বিশেষ কামনায় বা বিশেষ প্রার্থনায় যে কালীপুজা আয়োজন করা হয় তাকেই কাম্যকালী পুজা বলা হয়৷ পুজা বিধি দক্ষিনাকালীর মতই। সাধারনত অষ্টমী, চতুর্দ্দশী অমাবস্যা পুর্ণিমা ও সংক্রান্তিকে পর্বদিন বলে। পর্বসমুহের মধ্যে অমাবস্যাকে বলা হয় মহাপর্ব। বিশেষ কামনায় এই সকল তিথিতে যে পুজা করা হয় তাকেই কাম্যকালী পুজা বলা হয়। 

শ্মশান কালী- শ্মশানের অধিষ্ঠাত্রী দেবীই হলেন শ্মশানকালী। তার পুজাবিধি একটু অন্যপ্রকার। সাধারনত বলা হয়ে থাকে যে গৃহীদের জন্য এই দেবীর পুজা নিষিদ্ধ। সেই সকল গৃহীই তার পুজা করতে পারে, যে শশ্বানে তাদের পরিবারের দেহ রাখা হয়েছে এবং শুধুমাত্র সেই শ্মশানকালীর পুজা তারা করতে পারেন। কিন্তু সব শ্মশানেই শ্মশানকালী থাকে না। ছোট ছোট শ্মশান মিলে একটি মহাশ্বশান হয়, আর কয়েকটি মহাশ্বশান নিয়েই শ্বশানপীঠ হয়, এই পীঠেই দেবী অবস্থান করেন৷ 

নি এম/
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71