মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই মাঘ ১৪২৪
 
 
এবার আর হলো না ওদের দীপাবলি 
প্রকাশ: ০৮:১২ am ২০-১০-২০১৭ হালনাগাদ: ০৮:১২ am ২০-১০-২০১৭
 
কক্সবাজার প্রতিনিধি:
 
 
 
 


রোহিঙ্গাদের কারও মুখে হাসি নেই। তবে দেশ ছেড়ে আসা রোহিঙ্গা হিন্দুদের মনটা বৃহস্পতিবার একটু বেশি খারাপ ছিল। বৃহস্পতিবার ছিল কালীপূজা। এ দেশের হিন্দুদের কেউ কেউ এই পূজাকে বলেন শ্যামাপূজা। রোহিঙ্গা হিন্দুদের অনেকেই পূজা করতে না পারার মানসিক কষ্টের কথা বললেন।

কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যাওয়ার পথে উখিয়া উপজেলা সদর পার হওয়ার পর একের পর এক রোহিঙ্গা ক্যাম্প দেখা যায়। কুতুপালং পৌঁছানোর আগে হাতের ডানে একটু ফাঁকা জায়গায় রোহিঙ্গা হিন্দু ক্যাম্পের একটি সাইনবোর্ড। তাতে শরণার্থী শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। বড় রাস্তা থেকে ক্যাম্পটি চোখে পড়ে না।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা এক স্বেচ্ছাসেবক জানালেন, এই ক্যাম্পে ৯০ পরিবার স্থান পেয়েছে। মোট এখানে আছে ৫৭০ জন। এরা এসেছে প্রায় দুই মাস। রোহিঙ্গা মুসলমানরা যেমন নির্যাতনের কথা বলে, এরাও একই বর্ণনা দিল। হিন্দুদের কাছে কোনো প্রদীপ নেই, নেই প্রদীপ জ্বালানোর জায়গা। সর্বোপরি নেই মন।
 
শিবুরিন শীল মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের মংডু এলাকার চিকনছড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। শিবুরিন বললেন, তাঁদের মন্দির ছিল। সেখানে ঘটা করে কালীপূজা করতেন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গ্রাম জ্বালিয়ে দিলেও মন্দির ভাঙেনি বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

এ দেশের বাঙালি হিন্দু নারীদের মতোই এদের পোশাক, হাতে শাঁখা, কপালে সিঁদুর। পার্থক্য শুধু ভাষার। তবে কক্সবাজারের আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে পার্থক্য সামান্যই। বিশু বালাসহ চার নারী গল্প করছিলেন। বিশু বলেন, মঙ্গলকামনায় এই পূজা করা হয়। এবার আর হলো না। আর হবে কি না জানেন না। ১০ ছেলেমেয়ে আর স্বামী নিয়ে ১২ জনের উদ্বাস্তু জীবন বিশু বালার।

তবে অন্যরা বললেন, মা কালীর পূজা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সন্ধ্যার সময় পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রদীপ প্রজ্বালনও গুরুত্বপূর্ণ। সেটাই আসলে উৎসব। সেটাই দীপাবলি। 

আরডি/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
Loading...
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Loading...
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71