বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৫ই পৌষ ১৪২৫
 
 
একটা গানের মধ্যে জীবনের সবকিছু ফুটে উঠে - জুলফিকার জাহেদী 
প্রকাশ: ০৪:৫৩ pm ২১-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ০৪:৫৩ pm ২১-০৫-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


জুলফিকার জাহেদী। একাধারে কবি, গীতিকার, সুরকার ও পরিচালক। তার আদ্রীয়ান ফিল্ম এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে নির্মিত ‘দি ক্লে’ শর্টফিল্মটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কৃত হয়েছে। তাছাড়া জুলফিকার জাহেদীর লেখা ‘স্বপ্ন ভেঙ্গে চুড়মাড়’ শিরোনামের গানটি নিয়ে চারদিকে বেশ সাড়া পরেছে। আলোচনা সমালোচনার মধ্য দিয়ে গানটির একটা ভিন্ন মাত্রা তৈরি হয়েছে। 

আপনার লেখার প্রেরণা কে? 
জুলফিকার: ছোট বেলায় আমার বাবাকে দেখতাম খাওয়ার টেবিলে অনেকগুলো বই সাজিয়ে রাখতেন আর লিখতেন। তখন না বুঝলেও এখন বুঝি আমার লেখার সুত্রটা সেখান থেকেই। বাস্তবতা আর জীবনের তাগিদে অনেকটা বছর লেখালেখি থেকে দূরে ছিলাম। হঠাৎ আমার পুরানো লেখা দেখে আমার স্ত্রী বলল- তোমারতো লেখার হাত ভাল এবং অনেক লিখেছো। তাহলে তুমি কেন লেখা বন্ধ করে দিয়েছো। বুঝে গেলাম এটাই আমার প্রেরণা। 

এ মুহুর্তে আলোচনায় থাকা ‘পকেট’ সম্পর্কে জানতে চাই? 
জুলফিকার: ‘পকেট’ মূলত একটি টেলিফিল্ম। আশরাফুজ্জামান বাবু যখন গল্পটা আমাকে দিলো তখন সেটা পড়ে মনো হলো এই গল্পটা দিয়ে হয়তো জাতীয় পুরষ্কার পাওয়া যেতে পারে। পরে টেলিফিল্ম বানিয়ে ফেললাম। আর এটাই আমার প্রথম পরিচালনায় প্রথম হাত দেয়া। মানুষের বদ অভ্যাস নিয়েই মূলত ‘পকেট’-এর গল্প। কিভাবে এই বদ অভ্যাস একটা মানুষকে উত্থান পতনের দিকে নিয়ে যায়, জীবন থেকে কত কিছু কেড়ে নিতে পারে সেটাই বোঝানো চেষ্টা করেছি। 

আপনার প্রডাকশনের একটি শর্টফিল্ম মুুক্তির আাগেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি লাভ করেছে সেটা সম্পর্কে জানতে চাই। 
জুলফিকার: আমি যখন কোন কিছু তৈরি করতে যাই প্রথমেই দেখে নেই এটার গভীরতা কতটুকু। এমএইচ মুবাশসের পরিচালিত শর্টফিল্ম ‘দি ক্লে’ এখনো রিলিজ দেইনি। উদ্দেশ্য ছিল কান ফেস্টিবল কিন্তু সেটা হয়নি। তিবে এরিমধ্যে ইউরোপ, আমেরিকাসহ ২১ টা দেশের উৎসবে নমিনেশন পেয়েছি, ৪টি আন্তর্জাতিক পুরষ্কার অর্জন করেছি। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা সত্যিই গৌরবের। এক অজপাড়ার গায়ের গায়েনের সাথে একই এলাকার মুসলিম একটা মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে আমাদের গল্প। এখানে মূলত সৃষ্টির কাছে ধর্মের সাম্প্রাদায়িকতা কতটা অসহায় সেটাই বোঝানো চেষ্টা করা হয়েছে। 

‘স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমাড়’ চারদিকে খুব আলোচনা-সমালোচন হচ্ছে। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন? 
জুলফিকার: ‘স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমাড়’ গানটি মুলত একটি ছবির থিম সং করার জন্য লেখি। পরে আর সেটা ছবিতে ব্যবহার করি নাই। প্রকৃত অর্থে আমি একজন গীতিকার। কিন্তু এ গানের পরিচালনা আমি নিজেই করেছি। আর কাজটাও বেশ উপভোগ করেছি। গানটি প্রকাশের পর এতবেশী সাড়া পেয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। গানটা রেশমীর কন্ঠের জন্য লিখেছিলাম। যদিও রেশমী ছাড়াও এর আগে আমার লেখা গান গেয়েছেন এ কালের কন্ঠশিল্পী কনা, নিশিতা বড়–য়া, শামীম, পুলক, মনি কিশোর, তানজিনা রুমা, প্রিন্স মাহফুজসহ আরো। কিন্তু ‘স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমাড়’ এগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি গান।  আর যদি সমালোচনার কথা বলেন তাহলে বলবো দর্শকরা ভাল করে আমার গানটা দেখেছেন বলেই সমালোচনা করছেন। এটা আমাদের জন্য পজেটিভ। কারণ সমালোচনা থেকেই ভাল কিছু সৃষ্টি হয়। সমালোচনা মানেই পরবর্তীতে আরো ভালো কিছু করার সুযোগটা তৈরি হয়ে যায়। 

মিউজিক ভিডিও গুলোতে অশ্লীলতা নিয়ে অভিযোগ আছে। 
জুলফিকার: এটা আমিও দেখেছি। কিছু নির্মাতা গান ও গানের মর্মার্থতে প্রাধাণ্য দেয়। কিন্তু আবার কেউ কেউ আছেন অর্থ আর সস্তা প্রচারণার জন্য ভালগারিজমকে গুরুত্ব দেয়। এরা অর্থের লোভে পরে কাজ করে কিন্তু বেশীদিন টিকে থাকতে পারে না। ভাল কিছু সবসময় টিকে থাকে। অশ্লীলতার সংঙ্গাটা একটু ভিন্ন। সুন্দরভাবে উপস্থাপনার মাঝে কোন অশ্লীলতা নেই। স্টান্ডার্ড মান বজায় রেখে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। দেহ সবর্স্ব দেখানো ও সুরসুরি উপস্থাপন হলেতো মানুষ অশ্লীল বলবেই। সবাই বাজেটের কথা বলে কিন্তু বালবো বাজেটের পাশাপাশি ভাল পরিকল্পনাও দরকার। সঠিক প্লান থাকলে অনেক ভাল কাজ করা সম্ভব। 

শুনলাম নাটক পরিচালনাও করছেন? 
জুলফিকার: মানসিক ভ্রম নিয়ে ইরফান সাজ্জাদ ও মৌসুমী হামিদকে নিয়ে বর্তমানে একটি নাটকের শুটিং করছি। মূলত অচিরেই বড় পর্দায় হাত দেব তাই অভিজ্ঞতার ঝুালটা বাড়িয়ে নিচ্ছি। 

আপনি একটা কর্পোরেট অফিসের কর্মকতা। তারপর একজন গীতিকার, সুরকার, পরিচালক। কোন পরিচয়ে স্বাচ্ছন্দ করেন। 
জুলফিকার: গীতিকার। কারণ গানের মধ্যেই প্রাণ। একটা গানের মধ্যে জীবনের সবকিছু ফুটে উঠে, ৪/৫ মিনিটের একটা গানের মধ্যেই জীবনের পূর্ণাঙ্গতা পাওয়া বিশাল অর্জন। আমি লেখালেখি না করে ঘুমাতে পারি না। তবে অন্যান্য পরিচয়কে ছোট করে দেখছি না। মানুষ চেষ্টা করলে সব পারে। আমি সময় অপচয় করি না। প্রতিটি মুহূর্ত আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি সেকেন্ড আমার জন্য কাজের সময়। মাঝে মাঝে মনে হয় স্বপ্নের মধ্যেও কাজ করি। যার ফলে কোন কাজ করতেই সমস্যা হয় না। 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? 
জুলফিকার: আমার আদ্রীয়ান ফিল্ম এন্টারটেইনমেন্ট-র ব্যানারে অচিরেই চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করবো। আপাতত শর্টফিল্ম, গান, মিউজিক ভিডিও ও নাটকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছি। তবে ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল চলচ্চিত্রের জন্য কিছু করার। সেই সময়টা এখন এসেছে। তবে গতানুগতিক ধারার ছবি বানাবো না। এমনটা গল্প নিয়ে কাজ করবো যেখানে ৩/৪টা দেশের টেকনিশায়ন ও শিল্পীরা কাজ করবে। এটা করার উদ্দেশ্য একটাই, তা হলো আমার দেশের টেকনিশায়নরা যেন অন দা জব শিখতে পারে কি করে উন্নত বিশ্বে সিনেমা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া আমার লেখা গানগুলো অন্য দেশের শিল্পীরাও গাইবে। যেটাকে ফিউশন বা যৌথ গান বলা যেতে পারে। যাতে বিশ্ব দরবারে আমার দেশের গান পৌছায়।

https://www.youtube.com/watch?v=lB-bO1ZwVF8

নি এম/ 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71