সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৩রা পৌষ ১৪২৫
 
 
উত্তরা গনভবনের ইতিহাস
প্রকাশ: ১২:১১ pm ২৬-১২-২০১৬ হালনাগাদ: ১২:১১ pm ২৬-১২-২০১৬
 
 
 


রাজশাহী :: ১৭শ শতাব্দীর শেষ দিক থেকে ১৯শ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বর্তমান রাজশাহী শাসন করেছিল দিঘাপাতিয়া রাজ পরিবারের ৭ টি প্রজন্ম।

এই রাজ পরিবারটি বসবাস করত উত্তরা গনভবনে যা দিঘাপাতিয়া রাজবাড়ি নামেও পরিচিত ছিল। এই বংশের প্রথম রাজা ছিলেন দয়ারাম রায় যিনি অল্প বয়সেই নাটোরের রাজ পরিবারের প্রথম রাজা রামজীবন রায়ের দেওয়ান নিযুক্ত হন। ১৭১৬ সালে বাংলার নবাবদের সহায়তা করতে রাজা দয়ারাম নেতৃত্ব দেন রাজা রাম জীবনের বাহিনীকে এবং পার্শ্ববর্তী ভূষনা রাজ্যের বিদ্রোহী রাজা শিতারাম রায়কে (যিনি জমিদার ছিলেন এবং পরবর্তীতে রাজা হন) উৎখাত করেন। রাজা শিতারাম রায়ের রাজধানী মুহাম্মাদপুরের পতনের ফলে রাজা দয়ারাম দিঘাপাতিয়া রাজবংশের গোড়াপত্তন করতে সমর্থ হন। বিশ্বস্ততা অর্জনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি রাজশাহী ও যশোরে দান হিসেবে অনেক জমি গ্রহন করেন এবং পরবর্তীতে বগুড়া ও ময়মনসিংহে জমিদার বাড়ি অধিগ্রহন করেন।

রাজা দয়ারামের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্রাট আওরঙ্গজেবের অধীনে তৎকালীন বাংলার নবাব মুর্শিদ কুলি খান তাঁকে সম্মানসূচক ‘রায় রায়হান’ উপাধিতে ভূষিত করেন। লর্ড কর্নওয়ালিস যখন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা চালু করেন, নবাব মুর্শিদ কুলি খানের সময়কার অনেক জমিদাররা জমির খাজনা দিতে ব্যর্থ হন এবং খেলাপি হয়ে যান এবং তাঁদের এলাকা বিক্রি করে দেওয়া হয় ধনী ব্যাক্তিদের কাছে। দিঘাপাতিয়ার রাজা ছিলেন বিলুপ্তপ্রায় জগিরদারদের একজন। তাঁরা পশ্চিমা জীবনযাত্রা অনুসরণ করতেন যেমন ইউরোপিয়ান পোশাক, মদ, ঘোড়দৌড় ইত্যাদি। পশিমা প্রভাব শুধু যে তাঁদের ভবনের স্থাপত্তেই প্রতিফলিত হয়েছে তাই নয় বরং তা দেখা যেতো তাঁদের আসবাব এবং অন্দরমহলের সাজে। অবশ্য, মুঘল সাম্রাজ্যকালের শেষ প্রান্তেও কোন কোন অনুষ্ঠানে তাঁরা মুঘলদের অনুকরন করত যা তাদের পোশাক, পাগড়ি, তলোয়ার ও তলোয়ার রাখার খাপ থেকে প্রতিফলিত হত। দিঘাপাতিয়ার জমিদারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন প্রান নাথ রায় এবং প্রমোদ নাথ রায়।

রাজশাহী এবং উত্তরবঙ্গের শিক্ষা, স্থাপনা এবং সংস্কৃতির উন্নয়নে এই রাজ পরিবারের অবদান অনেক যেমন এই পরিবারের রাজারা নির্মাণ করেন বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর।  জনপ্রিয়তা এবং উদারতার জন্য তারা বিশেষভাবে বিখ্যাত ছিল। এই পরিবারের শাসকরা বিভিন্ন সম্মানসূচক খেতাব ও উপাধি লাভ করে যেমন মুঘলদের কাছ থেকে রাজা, মহারাজা, রাজ বাহাদুর উপাধি এবং ইংরজেদের কাছ থেকে নাইটহুড খেতাব।

মহারাজার রাজবাড়ি নামে পরিচিত এই ভবনটি দিঘাপতিয়ার রাজা নির্মাণ করলেও উত্তর বঙ্গের রাজ্য প্রধানদের বাসা হিসেবে এটি ব্যাবহার হয়েছে। ইংরেজ এবং পূর্ব পাকিস্তান আমলে অনেক সরকারি বৈঠক এখানে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে দিঘাপতিয়ার রাজা প্রমথনাথ রায়ের মার্বেলের তৈরি ভাস্কর্য আছে।

 

এইবেলাডটকম/নীল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71