বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯
বৃহঃস্পতিবার, ৬ই আষাঢ় ১৪২৬
 
 
ইংরেজি-মাধ্যম শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরিতে চায় কর্তৃপক্ষ
প্রকাশ: ১১:৪৪ pm ১৪-০৩-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:৪৪ pm ১৪-০৩-২০১৭
 
 
 


ক্যারিয়ার ডেস্ক : বাংলাদেশে পাবলিক সার্ভিস কমিশন বলছে, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা যাতে সরকারি চাকরির জন্য পরীক্ষা দিতে আগ্রহী হয় সে জন্য বিসিএস পরীক্ষায় বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতেও প্রশ্নপত্র রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এটি অন্যতম কারণ হলেও একমাত্র কারণ নয়।কমিশনের এই উদ্যোগ নিয়ে এরই মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্কও শুরু হয়েছে। ইংরেজিতে প্রশ্নপত্র রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।

একই প্রশ্নপত্র বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে থাকলে যেসব পরীক্ষার্থী ইংরেজিতে প্রশ্নের উত্তর দিতে চান তাদের জন্য প্রশ্ন বুঝতে সুবিধা হবে।সরকারি কর্ম-কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মো. সাদিক বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, কমিশন নতুন কোন পদ্ধতি চালু করেনি।

বর্তমানে বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বাংলা ভাষায় হলেও একজন পরীক্ষার্থী বাংলা কিংবা ইংরেজি যে কোন ভাষায় পরীক্ষা দিতে পারেন ।নতুন নিয়মে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র থাকবে। ইংরেজি ভাষায় আলাদা কোন প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবেনা।

 

ড. সৌমিত্র শেখর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

ছবির কপিরাইটফেসবুক

Image captionড. সৌমিত্র শেখর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক যারা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন তাদের যুক্তি হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো 'বাংলা' এবং 'ইংরেজি' - এ দু'টি গোষ্ঠীর সৃষ্টি হবে।

বিসিএস পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নকারী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।তিনি মনে করেন, একাধিক ভাষায় দক্ষতা থাকা ভালো বিষয়। কিন্তু বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে প্রশ্নপত্র রাখার সুদূর প্রসারী উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

অধ্যাপক শেখর বলেন, "আমাদের এখন বাংলা ভার্সনের সাথে-সাথে ইংরেজি ভার্সন নামে শিক্ষা পদ্ধতি স্বীকৃত হয়ে গেছে। ফলে স্কুল এবং কলেজ থেকেই দু'টো শ্রেণি গড়ে উঠছে।"

সরকারি কর্ম-কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মো. সাদিকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের বিসিএস পরীক্ষায় আগ্রহী করে তুলতেই কি এ সিদ্ধান্ত?

ড. সাদিক বলেন, "এটি একটি কারণ। এটি একমাত্র কারণ নয়। বিধিতে আছে যে প্রশ্নের উত্তর বাংলা কিংবা ইংরেজিতে লেখা যাবে। কিন্তু প্রশ্ন আমি শুধু বাংলায় করছি। এটি আমাদের কাছে সাংঘর্ষিক মনে হয়েছে।"

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর মনে করেন, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে সরকারি চাকরিতে আসবে - এমন ধারণা ঠিক নয়।

তিনি বলেন, "আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন যে ইংলিশ মিডিয়াম থেকে যে ১০% শিক্ষার্থী বের হচ্ছে, তারা দেশে থাকছে না। তারা ধরেই রেখেছে যে দেশের বাইরে চলে যাবে। এবং আমাদের সরকার বা রাষ্ট্র ব্যবস্থা সে পথটা খোলা রেখেছে।"

 

ড. মো. সাদিক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান।

Image captionড. মো. সাদিক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান।

তবে সরকারি চাকরিতে ইংরেজি ভাষায় দক্ষ লোকবলের অভাব আছে বলে মনে করেন সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে প্রশ্নপত্র চালুর বিষয়টিকে যৌক্তিক বলে মনে করেন মি: মজুমদার।

তিনি বলেন, "বাংলা বাদ দিয়ে তো ইংরেজি চালু করা হচ্ছে না। বাংলা তো আছেই। গ্লোবালাইজড ওয়ার্ল্ডে তো আমাকে অন্যের সাথে কমিউনিকেট করার জন্য ইংরেজি ভাষার প্রয়োজন হয়।"

কর্ম কমিশনের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রশাসনে ইংরেজিতে দক্ষ জনবলে যে 'ঘাটতি' রয়েছে সেটি কিছুটা দূর হবে বলে মনে করেন মি. মজুমদার।

পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মো. সাদিক জানাচ্ছেন, তারা নতুন কোন পদ্ধতি চালু করছেন না। এর আগেও একসময় বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালু ছিল।

কমিশন বলছে, পরীক্ষার্থী সঠিক উত্তর দিচ্ছেন কি না তার উপর নির্ভর করে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা হবে। ইংরেজিতে উত্তর দিলেই বাড়তি কোন সুবিধা পাওয়া যাবে না।

সুত্র : বিবিসি

এইবেলাডটকম/এফএআর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71