সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭
সোমবার, ৪ঠা পৌষ ১৪২৪
 
 
আমের যত গুণ
প্রকাশ: ০১:৫২ am ১৫-০৫-২০১৫ হালনাগাদ: ০১:৫২ am ১৫-০৫-২০১৫
 
 
 


গ্রীষ্মকাল যেমন প্রচণ্ড তাবদাহ নিয়ে আসে তেমনি নিয়ে আসে প্রাকৃতিক অমৃতের ভাণ্ডার।  আম হচ্ছে গ্রীষ্ম তথা জৈষ্ঠ্যের সবচেয়ে উপাদেয় উপহার। এ সময় প্রচুর পরিমাণে আম পাওয়া যায়। আম খেতে যেমন ভালো তেমনি এর পুষ্টিগুণও অনেক। এজন্যই একে ‘ফলের রাজা’ বলা হয়ে থাকে। আম যে শুধু খেতেই সুস্বাদু তাও নয় এটি রূপচর্চারও কাজে লাগে। আসুন জেনে নেয়া যাক আমের গুণাগুণ সম্পর্কে 
স্বাস্থ্যকর দিক: ১. ক্যান্সার প্রতিরোধ: আমরা সবাই জানি যে  প্রতিরোধ প্রতিকারের চেয়ে ভালো। আর ক্যান্সারের মত রোগ প্রতিরোধ করা তো অবশ্য কর্তব্য। গবেষণায় দেখা  গেছে আমের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কোলন, স্তন, লিউকোমিয়া ও  প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। আমে রয়ছে কেরোটিন, আইসো কেরোটিন, এস্ট্রাগ্যালিন, ফিসেটিন, গ্যালিক এসিড, মিথাইল গ্যালাট এবং আরো অনেক রকম এনজাইম; যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
২.কোলোস্টেরল কমানো: আম হচ্ছে ফাইবার, পেকটিন ও ভিটামিন সির ভালো উৎস। এসব উপাদান রক্তে খারাপ কোলোস্টেরল তথা লো ডেনসিটি লিপো-প্রোটিন (এলডিএল) কম করে।
৩. ত্বক পরিষ্কারক: আমের খাদ্যগুণ ভেতর থেকে ত্বকের দ্যুতিময়তা ফিরিয়ে আনে এবং ময়লা পরিষ্কার করে ত্বকে আনে নতুন জেল্লা।
৪.চোখের স্বাস্থ্য: এক কাপ আম কুচি দেহের ২৫ভাগ ভিটামিন এ এর অভাব পূরণ করে। নিশ্চয়ই জানেন ভিটামিন এ চোখ ভালো রাখতে কতটা জরুরী। আর আম এক্ষেত্রে কতটা সাহায্য করে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 
৫. অ্যালকালী পদার্থ সংরক্ষণ: আমের টারটারিক এসিড, মেলিক এসিড এবং বিবুল পরিমাণে সাইট্রিক এসিড দেহের অ্যালকালী জাতীয় পদার্থ সংরক্ষণে অংশ নেয়।
৬. ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে: আম রক্তে ইন্সুলিনের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। সেজন্য আগের কালের নিয়ম অনুযায়ী কিছু পাতা পানিতে সেদ্ধ করে সারারাত ওভাবে রেখে দিয়ে সকালে ছেঁকে সে পানি পান করুন। আমে রয়েছে তুলনামূলক কম গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স (৪১-৬০), যা রক্তে সুগারের ভারসাম্য বজায় রাখে।
৭. ভিটামিন ই: আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই। ভিটামিন ই দেহের জন্য খুবই উপকারী। তাছাড়া ভিটামিন ই দেহের গোপন অঙ্গ সমূহের খেয়াল রাখে নিবিড়ভাবে।
৮. হজমে সহায়তা: আম হচ্ছে অনেক এনজাইম পূর্ণ একটি ফল। এনজাইম প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে। আমের আঁশের স্বাস্থ্যকর গুনাগুণ হজমে ও পরিপাকে সহায়তা করে থাকে।
৯. হিট স্ট্রোক মোকাবেলায়: তীব্র গরমে এক গ্লাস কাঁচা আমের জুস আপনাকে বাঁচাতে পারে হিট স্ট্রোক থেকে। আয়ুর্বেদিক এক গবেষণায় দেখা গেছে রোদের প্রচণ্ড তাপে  দেহের জীবনীশক্তি ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়, ফলে মাংস পেশী নিস্তেজ হয়ে শরীরকে চলচল অযোগ্য করে তোলে। তখন কাঁচা আমের রস, পানি ও চিনি বা গুড়ের মিশ্রণে তৈরী পানীয় আপনার জীবন বাঁচাতে এবং হিট স্ট্রোক মোকাবেলায় অদ্বিতীয়।
১০. ইমিউন সিস্টেম: আমে আছে প্রচুর ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ আর সেই সাথে ২৫ টির-ও বেশি রকমের ক্যারোটিনয়েডস। যা আপনার ইমিউন সিস্টেমকে রাখে সুস্থ্য।
১১. পুষ্টিগুণ: প্রতি ২২৫ গ্রাম আমে রয়েছে নিম্নোক্ত পুষ্টি উপাদান; যা প্রতিদিনের প্রয়োজন  মেটাতে যথেষ্ট। ১০৫% ক্যালরি, ৭৬% ভিটামিন সি, ২৫% ভিটামিন এ, ১১% ভিটামিন বি৬ প্লাস এবং অন্যান্য ভিটামিন বি, ৯% স্বাস্থ্যকর প্রো-বায়োটিক ফাইবার, ৯% কপার, ৭% পটাশিয়াম ও ৪% ম্যাগনেসিয়াম ।

রূপচর্চায়: রূপচর্চার ক্ষেত্রে আমের জুড়ি মেলা ভার কেননা প্রতিদিন একটি আম গ্রহণে  ভেতর থেকে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। প্রতিবার খাওয়ার সময় এক টুকরো আম ত্বকে বুলিয়ে নিন। এতে ত্বকের ডালনেস কমবে আর জেল্লা বাড়বে। পাকা আম ব্রণ সারাতেও সাহায্য করে। রোদে পোড়া ত্বকে পাকা আমের ক্বাথ ও গুঁড়া দুধ মিশিয়ে ব্যবহার করুন। উজ্জ্বলতা ফিরে পাবেন। তাছাড়া ত্বকের দাগে নিয়মিত আমের রস ব্যবহারে দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।

এইবেলা.কম/এইচ আর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
Loading...
 
 
 
Loading...
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন # sukritieibela@gmail.com

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

   বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: sukritieibela@gmail.com

  মোবাইল: +8801711 98 15 52 

            +8801517-29 00 01

 

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71