বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০
বৃহঃস্পতিবার, ২৯শে শ্রাবণ ১৪২৭
সর্বশেষ
 
 
আমার জীবনের গল্প: যশোদা জীবন
প্রকাশ: ০৪:৫৩ pm ০৮-০৫-২০২০ হালনাগাদ: ০৪:৫৩ pm ০৮-০৫-২০২০
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


গা-হাত-পা প্রচন্ড ব্যথা হয়েছে আমার, জীবনের মায়া ত্যাগ করে জীবন বাজি রেখে বাঁচার আশায় ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে যে দৌড় প্রতিযোগিতা আমি দিয়েছি গতকাল রাতে নিজের সাথে নিজেই তা আজও ভুলতে পারছিনা। গরিবের প্রেমের কথা শুনলে মানুষ হাসবে তাই বন্ধু-বান্ধব কারো সাথে এ বিষয়ে আমি শেয়ার করতে পারছি না আপাতত। তাই আমার হিরোগিরি'তে ভালোলাগা-মন্দলাগা যা কিছু সব নিজের সাথে ভাগ করে নিতে হচ্ছে। অনেক কষ্ট নিয়ে হিরোগিরি কথাটা ব্যবহার করলাম এই কারণে যে কলেজ জীবনে সবাই নিজেকে হিরো হিরো মনে করে তাই। কে ধনী কে গরীব এটার কোন বাচ বিচার নাই ব্যাপারটা কিছুটা সার্বজনীন কিন্তু আমার কাছে বরাবরই কষ্টের। ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঘটে যাওয়া ঘটনা মনে পড়লে গাঁ শিউরে উঠছে আমার। তারপরও নিজেকে সংযত করে প্রতিদিনের মতো আমি কলেজে গেলাম, ঠিকমতো টিউশনিতে গেলাম। কারণ প্রেম ভালোবাসা আমার জন্য নয় এই নিয়ে পড়ে থাকলে জীবন চলবে না আমার।

আমি বলতে ভুলে গেছি, এর মাঝে অরুন সাহার বাড়ী থেকে এসে কিছুদিন রঞ্জিত স্যারের বাড়িতে এসে লজিং মাস্টার হিসেবে ছিলাম। ওনার ছেলে রাম আমার ভালো বন্ধু। বিশু এবং পিলুকেও কিছু দিন পড়িয়েছি আমি। আমি পড়িয়েছি ওই পাড়ার বকু, নিপু দেরকেও। সেখানে কিছুদিন থেকে তার পর আমি চলে আসলাম ভবতোষ দার বাসায়। বাসা তো বলতে একটি কবুতরের রুমের মতো, দের তলায় সিড়ি কোঠায় রুম ওই  রুমে আমরা দুইজন থাকতাম, আমি এবং পবিত্র। পবিত্র অবশ‍্য আমার চেয়ে দুই বছরের সিনিয়র, তুমি বলেই সম্মোধন করতাম, ভালো বন্ধু আমরা। আমরা সবসময় নিজেদের দুঃখ কষ্ট শেয়ার করতাম, একে অপরের সাথে। মাঝে মাঝে নিউমার্কেটে গিয়ে আমরা তাপসের সাথে আড্ডা দিতাম, তাপস আমাদের সাথেই পড়তো, মিশুক স্বভাবের একটি বন্ধু তাপস, সব সময় হাসি খুশি থাকতো। মন খারাপ থাকলে ওর হাসিমুখের গল্প শুনতে আমাদের ভালোই লাগতো।

সকাল বেলা বাইরে হাটতে দেখতাম মজনু ভাইকে, হুদাই আমাকে, ভবতোষ দাকে গালাগালি করতো মজনু ভাই। অনেক সময় এই গালাগালির শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যেতো। উনার সব রকমের গালাগালি সবাই মাথা পেতে মেনে নিতো কারন ওইটাই তার অভ‍্যাস। এটা ঝিলটুলির সবাই জানতো। মজনু ভাইয়ের মনটা কিন্তু ভীষন ভালো। মনটা ভালো থাকলে ডেকে নিয়ে বসাতো, বাসায় ডেকে নিয়ে খাওয়াতো। আমি অনেকবার তার বাসায় খেয়েছি। সে অবশ‍্য ভবতোষ দার বন্ধু ছিলো, তাই ভবতোষ'দা কিছু বলতো না, ভবতোষ দার বাসার সবাই জানতো, মজনু ভাই এই রকমেরই লোক। ইতিমধ্যে ঝিলটুলির সবার সাথে একটা ভালো সম্পর্কের উন্নতি হলো আমার। পাড়ার বড় ভাই মিঠুভাই, জাহিদ ভাই, অনিমেষ দা, রিজু ভাই, কামাল ভাই, শামীম ভাই, বাবর দা আরো অনেকের সাথে। বাদ সাধলো আমার বিটুর সাথে, কি নিয়ে যেনো গন্ডোগোল বাদলো ওর সাথে। বিটু, মিঠু ভাই এর ছোট ভাই, একটু রাফ টাইপের ছেলে, গোন্ডগোল ফ‍্যাসাদ লাগাইয়ে থাকে। অহেতুক গন্ডোগোল বাধায়, হুদেই মারামারি করে। একটু এলাকার মাস্তান টাইপের। জানি না কেন যেনো আমাকে সহ্য করতে পারে না। ওর সাথে গন্ডোগোল হলো আমার ভয়ও পাইলাম কিছুটা, কোন সময় কোপ ঠোফ দিয়ে দেয় বলা যায় না। তাই ঝিলটুলি থেকে গোয়ালচামটের দিকে রওনা হলাম। রাস্তায় দেখা হলো পলাশ ভাই এর সাথে। উনি বলল চলো আমাদের বাসায়, রাজী হয়ে গেলাম। রাতে উনার সাথে বাসায় আসলাম। অনেক রাতে ফিরছি বলে কারো সাথে পরিচয় হলো না। শুধু ফর্সা করে একটি ভাবি আমাদের খাবার দিলো, ঐ ভাবী ছোট্ট ভাইয়ের বৌ। আন্তরিকতায় এক অনন্য উদাহরণ। ছোট ভাই ও খুবই আন্তরিক, কন্টাক্টর মানুষ সকালে বের হয় আর রাতে ফিরে। কখনও দেখা হয় আবার কখনও বা হয়না। পলাশ ভাইয়ের মা আমি তাকে খালাআম্মা বলে সন্মোধন করলাম, তিনিও ভীষন আন্তরিক। যেনো একজন মহিমান্বিত মায়ের সকল গুনাবলী উনার মধ্যে আছে। যেহেতু পলাশ ভাই রাজনীতি করে, ছোট্ট ভাই কন্টাক্টরি করে সবাই রাত করেই বাসায় ফিরে। খাবার টেবিলে রাত বারোটার আগে কেউই যায় না। আমি সে দিন এগারো টায় বাসায় ফিরলাম, বাসায় রান্না করেছে গরুর মাংস। খাবার টেবিলে আমাকে দেখে খালাম্মা জিহবায় কামর দিলো। সে ভুলে গেছিলো আমি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। খালাম্মা আদা ঘন্টার মধ্যে মুরগির মাংস রান্না করে আমাকে খেতে দিলো। তার আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। অবাক হয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম আর ভাবলাম এটা সত্যিকারের মায়েদের পক্ষেই সম্ভব। চলবে..

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71