সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭
সোমবার, ৪ঠা পৌষ ১৪২৪
 
 
অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে অবিচার হবে না: প্রধান বিচারপতি
প্রকাশ: ০৪:২৩ pm ২১-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ০৪:২৪ pm ২১-০৫-২০১৭
 
 
 


বাঁশখালী: বাঁশখালীতে হিন্দু বৌদ্ধদের সুখ-দুঃখ ও জমি-জমার প্রতি খেয়াল রাখার জন্য এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে খেয়াল রাখার অনুরোধ করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

সনাতন ধর্মাবল্বীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে ভয় পাবেন না। এখানে অবিচার হবে না।

গত শুক্রবার দুপুরে বাঁশখালী ঋষিধাম মন্দিরে শ্রী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের ১১৫তম অর্বিভাব উপলক্ষে নির্মিত শ্রীগুরু মন্দিরের উদ্বোধন ও তিন দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।


প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস হয়নি বাঁশখালীতে ১০ বছর আগে হিন্দু পরিবারের ১০ জনকে আগুনে পুড়ে মারা হয়েছে। সেই দিন আর নেই।


তিনি আরও বলেন, ‘৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান ভেদাভেদ ভুলে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু মাঝখানে স্বার্থান্বেষী মহল দেশের স্বাধীনতা ভুলুণ্ঠিত করার জন্য জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি, দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চালু করেছে।

আজ সেই অবস্থা নেই। ‘বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ধর্মীয় নিরপেক্ষা রাষ্ট্র’ হিসেবে সংবিধানে লিখা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হিন্দুরা ধর্ম পালন করবেন। কিন্তু মুসলমানদের নামাজের সময় সহনশীল হতে হবে। কারো ধর্মের প্রতি অসহনশীল হওয়া যাবে না।


প্রধান বিচারপতি নিজেকে উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘মুসলিম প্রধান দেশে আমার মতো একজনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে কল্পনাই করতে পারবেন না।’ এছাড়াও অনেক কেবিনেট সেক্রেটারি, ডিসি-এসপিসহ উদ্ধর্তন কর্মকর্তা রয়েছেন। সরকার যোগ্যতা অনুসারে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে নিয়োগ দিচ্ছেন।


স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে উদ্দেশ্যে করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এখানে যারা হিন্দু রয়েছে, আপনার আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছেন বলে মনে করি। কিন্তু কিছু হিন্দু পরিবারের জমি-জমার দিকে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে।’


অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে সনাতন ধর্মাবল্বীদের অভয় দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ১৯৬৫ সালে অর্পিত হয়েছে। অনেক দিন পার হয়ে গেছে। অনেকেই ভারত চলে গেছেন। ভারত থেকে এসে তারা সম্পত্তি নিয়ে যাবে না। অর্পিত সম্পত্তির বেশির ভাগ মুসলমানদের কাছে চলে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মামলায় দেখেছি, মুসলিম ভার্সেচ মুসলিমই বেশি। অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে ভয় পাবে না, এখানে অবিচার করা হবে না।’


প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, শুনেছি, কুম্ভ মেলায় লাখ লাখ লোকের সমাগম হয়। মুসলমানদের পবিত্র হজেও লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম হয়। ঢাকায় টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমায়ও লাখ লাখ মুসল্লি হয়। যার যার বিশ্বাসের উপর সমবেত হন। ‘ধর্ম কি আমি জানি না। তবে বিশ্বাস করি, যেখানে হাজার হাজার-লাখ লাখ লোক সমবেত হয়, সেখানে এমন একজন আছেন, যা আমাদের জানা অসম্ভব। উপরে যে আছে তার সব জানা রয়েছে। ভগবান ও নবীজীর (স.) ছায়া সেখানে থাকে।


মন্দিরের নামে একশ একর জায়গা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব জমিতে আবাদ ও ফলন উৎপাদন বাড়াতে হবে। আয় বাড়াতে হবে। আয়ের টাকায় মন্দির পরিচালনা ছাড়াও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।


প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, ধর্মের অপব্যাখা দিয়ে এদেশে সন্ত্রাসমূলক কাজ চলছে। মানুষ হত্যা করে ধর্ম পালন করা যায় না। প্রত্যেক ধর্মের মূল হচ্ছে শান্তি। অপরিচিতি কোনো লোকজনকে দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেয়ার অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ হলে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে। মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। তখন পূজা-অর্চনা, নামাজ-রোজা পালন করা কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সকলে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানো আহ্বান জানান তিনি।


তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে যখন অনাচার বেড়ে যায়, তখন মানব মুক্তির লক্ষ্যে আধ্যাত্মিক মহাপুরুষরা এ পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার শিক্ষা দেন। স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজ মতো মহাপুরুষরা মানব মুক্তির জন্য এ পৃথিবীতে এসেছিলেন।

স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজ আজীবন সাম্যের গান গেয়েছেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলই তার কাছে সমান সমাদৃত ছিলেন। তিনি বাঁশখালী ঋষিধাম এবং তুলসীধাম প্রতিষ্ঠা করে আধ্যাত্মিক সাধনার ধার উন্মোচন করেছেন।


ঋষিধাম ও তুলসীধামের মোহন্ত মহারাজের শ্রীমৎ স্বামী সুদর্শনানন্দ পুরী মহারাজর পৌরহিত্যে শ্রী গুরু সংঘের সভাপতি লায়ন প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমাান চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহেনুর, বাংলাদেশে পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।

অনুষ্ঠান পরিচালনা ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঋষি অদ্বৈতানন্দ পরিষদ বাংলাদেশ সভাপতি ও রাউজান পৌরসভার মেয়র দেবাশীষ পালিত। উপস্থিত ছিলেন ড. জিনোবধী ভিক্ষু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সাহেল তস্তুরী, এডভোকেট তপন কান্তি দাশ, রাজনীতিবিদ খোরশেদ আলম, বিমল কান্তি দেব, এডভোকেট অনুপম বিশ্বাস প্রমুখ।


পরে তিনি বাঁশখালী আদালত ভবন পরিদর্শন ও আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

 

এইবেলাডটকম/পিসিএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
Loading...
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Loading...
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন # sukritieibela@gmail.com

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

   বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: sukritieibela@gmail.com

  মোবাইল: +8801711 98 15 52 

            +8801517-29 00 01

 

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71