eibela24.com
শুক্রবার, ০৪, ডিসেম্বর, ২০২০
 

 
মসজিদের সামনে নাচগান, ক্ষমা চাইতে উকিল নোটিশ নায়িকা মুনমুনকে
আপডেট: ১০:৩৩ pm ১০-০৯-২০২০
 
 


মসজিদের সামনে কুরুচিপূর্ণ নৃত্যের ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মুনমুন। তাকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে জাতীয় দুটি পত্রিকায় ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। না হলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের চারজন আইনজীবী এই নোটিশ পাঠান। তারা হলেন- মেহেদী হাসান, নজরুল ইসলাম, রবিউল হাসান তুষার ও গোলাম ইমাম হোসেন।

এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের সখিপুরের পলাশতলী বাজার মসজিদের সামনে এই অভিনেত্রী অশ্লীল নৃত্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

নোটিশে বলা হয়, ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৯০.৪% মুসলমান এবং ধর্মভীরু মুসলমানরা ইবাদতের জন্য মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান করেছে। গত শুক্রবার ( ৪ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর উপজেলার পলাশতলী বাজার মসজিদের সামনে অশ্লীল ও কু-রুচিপূর্ণ নৃত্য করেন অভিনেত্রী মুনমুন। এতে ধর্মীয় উপশনালয়ের মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে।

এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এতে মুসলমানদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ এবং দৃষ্টিকটু লেগেছে। যেহেতু ধর্মীয় উপাসনালয় এবং মসজিদের সামনে নাচ গানের কোনো বিধান নেই। আর এই ধরনের নৃত্য পরিবেশন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ধর্মীয় চর্চার বাধার শামিল।

নোটিশে বলা হয়, অভিনেত্রী মুনমুন নৃত্য করে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৮ সহ দণ্ডবিধি আইনের ধারা ২৯৫, ২৯৫-ক এবং ২৯৮ ধারায় মুসলিম ধর্মানুভূতিতে আঘাতের মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এমতাবস্থায়, তিন দিনের মধ্যে দুইটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় মসজিদের সামনে অশ্লীল নাচ-গান, নৃত্য পরিবেশনের জন্য ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ এবং নোটিশের মাধ্যমে অবগত করতে হবে। অন্যথায় এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মুনমুন বলেন, ‘টাঙ্গাইলের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণে নৌকা ভ্রমণে গিয়েছিলাম। এক সময় নৌকা ভ্রমণের মাঝপথে আমরা এক জায়গায় সবাই খাওয়ার জন্য মিলিত হই। ওই জায়গাটা ছিল পরিত্যক্ত। সেখানে কাচ্চি বিরিয়ানি খাওয়ার আয়োজন করা হয়। খাওয়া শেষে আসরের পর অনেকের রিকোয়েস্টে সামান্য আমাকে নাচতে হয়। তবে মসজিদ লেখা সাইনবোর্ডটি আমি দেখিনি। যদি দেখতাম তাহলে ওখানে নাচ তো দূরের কথা বসে আড্ডাও দিতাম না। কারণ আমিও মুসলিম। আর আমি আমার ধর্মকে পালন করি।’

মুনমুন আরো বলেন, ‘আমার নাচের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, যে জায়গাটায় আমরা ছিলাম, ওই জায়গাটা অনেক আগে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে মসজিদ ছিল। তাই স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে মসজিদ লেখা সাইনবোর্ড লাগানো ছিল। আমার সাথে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সখীপুরের চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সেই স্থানে মসজিদ রয়েছে তারা অবশ্যই জানতেন। কিন্তু তারা তো নিষেধ করেন নি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে যারা দাওয়াত দিয়ে নিয়েছেন তাদের রিকোয়েস্টে অল্প সময় নেচেছি। আর  সেখানে কোনো অশ্লীল নাচ কিন্তু করেনি। যেটা নিয়ে অনেকে মাতামাতি করছেন। আমি জেনে শুনে তো আর মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে নাচবো না। এই ভিডিও নিয়ে যারা মাতামাতি করছেন তাদেরকে বলবো এসব বন্ধ করুন।

নি এম/