eibela24.com
মঙ্গলবার, ২৪, নভেম্বর, ২০২০
 

 
ভারতের উদ্দেশ্য ঘোষণা, চীন থমকে গেছে !
আপডেট: ০৯:৪১ pm ০৫-০৭-২০২০
 
 


https://www.facebook.com/Khabor24x7Official/videos/827237914349573/ see modi speech

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জুলাই মাসের ৩ তারিখে লাদাখ সফর ও সেখানে তাঁর আত্রুমাণাত্বক বক্তব্য চীনের কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় জুন মাসের ১৫ তারিখে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যূর পর মোদির এই লাদাখ সফর ভারতীয় সেনাবাহিনীকেও অত্যন্ত উদ্বুদ্ধ করেছে।

করোনাভাইরাস পরবর্তী বিশ্ব রাজনীতিকে নিজের দিকে আনতে মোদি কোন চেষ্টার ত্রুটি করছেন না। নাম না নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে তিনি চীনের আগ্রাসী নীতির কথা তুলে ধরেছেন এবং বলেছেন এটি এখন উন্নয়নের যুগ এবং আগ্রাসী শক্তি হয় হেরে গেছে নয়তো পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

মোদির একটি বাক্যে “দুবর্ল কখনো শান্তি আনতে পারেনা, সবলেরাই পারে” একটি কৌশলি আঘাত করেছে চীন কে যারা ২১টি দেশের সঙ্গে সীমানা সংঘাতে লিপ্ত।

এই কৌশলি আঘাত বা ট্যাকটিক্যাল স্টাইকের পরও চীন এবং তার অনুগত সোশাল মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যামগুলি নীরব। শুধু ৩রা জুলায় এর বিকেলে চীনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন দুই দেশের মধ্যে সামাজিক ও কূটনৈতিক স্তরে কথাবার্তা চলছে এবং কোন পক্ষেরই সমস্যাকে জটিল করা বা বাড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। অথচ এই চীরই ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর পরদিন পিএলএ র মুখপাত্র ঝাং শিউলিকে দিয়ে বলায় যে গালওয়ান চিরদিনই চীনের ছিল। চীনের বিদেশ মন্ত্রকও তখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিবৃতি দেয়।

এই আগ্রাসন বা উগ্রতা চীন নরেন্দ্র মোদির লাদাখ সফরের পর এখনও দেখাইনি বা ৫৯টি চীনা এ্যাপ ভারত বন্ধ করে দেওয়ার পরও কোন বিবৃতি দেয় নি। শুধু বিদেশ মন্ত্রক বলেছে ভারত যেন এই ধরনের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আন্তজাতিক আইন-কানুন মেনে চলে যাতে বিদেশী ও চীনা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।

চীন একটি দৃঢ় ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ঠিকই কিন্তু মোদির লাদাখ সফর চীনের মিথ্যা কথাগুলো সামনে এনে দিয়েছে। গত পনেরো দিনে ভারতের নেওয়া বিভিন্ন কার্যকলাপ সামাজিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক চীনকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে ভারতও ব্যবস্থা নিতে জানে।

এ্রর আগে ভারত কখনো হংকংয়ের সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। কিন্তু সম্প্রতি পাশ হওয়া একটি আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে সেখানে হংকংয়ের মানুষের নাগরিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাজীব চন্দ্র বলেছেন ভারত হংকংয়ের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।

ভারত লাদাখে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে চীনকে চিন্তাই ফেলেছে ও চীনের সুবিধেজনক অবস্থাকে প্রতিহত করতে চাইছে। চীনের কোম্পানিগুলির প্রবেশ ভারতে বন্ধ হয়ে গেছে। ভারতীয় রেল, BSNL চীনের যন্ত্রপাতি নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। MTNL তাদের 4G সার্ভিস আপডেট টেন্ডার থেকে চীনা কোম্পানিকে বাদ দিয়ে দিয়েছে। ভারতের সড়ক পরিবহন মন্ত্রক ও বিদুৎ মন্ত্রক চীনা কোম্পানির বিনিয়োগ বন্ধ করেছে। 

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও ভারত সরকারের পথ অনুসরণ করেছে। সাংহাই টানেল ইন্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে দিল্লি-মীরাট আর আর টি এস করিডোর থেকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছে। এই কোম্পানিটি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সব থেকে কম দর দিয়েছে। মহারাষ্ট্র চীনের কোম্পানিগুলির ৫০০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাতিল করেছে। এর মধ্যে পুনেতে গ্রেট ওয়াল মটরস এর কারখানাও আছে। 

সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ছাড়াও ভারত কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধিতে অনেক এগিয়ে গেছে। ২৭শে জুন ভারতীয় নৌবাহিনী ও জাপানের নৌবাহিনী এক সঙ্গে ভারত মহাসাগরে মহড়া দিয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সম্প্রতি রাশিয়া সফরে গিয়ে অত্যাধুনিক মিসাইল ও যুদ্ধ বিমান ক্রয়, পুরোনো বিমানের স্কোয়াড্রন আধুনিকীকরণ ইত্যাদি চূক্তি করে এসেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রতি পুতিনের সঙ্গে এ ব্যাপারে জুলাই মাসের দুই তারিখে কথা বলেছেন ও পুতিন তাকে দু-দেশের স্ট্র্যাটিজিক পাটনারশিপ এর ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। এদিকে ১লা জুলাই আমেরিকান সেক্রেটারি অব স্টেট ভারতের ৫৯টি চীনা এ্যাপ কে নিষিদ্ধ করাকে সমর্থন করেছেন। 

এ ব্যাপারে যে টুইট গুলি হয়েছে:

‘চীনের সঙ্গে সংঘাত চলাকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাদাখ ও ফরোয়ার্ড এরিয়া সফর এটাই প্রমান করে যে ভারত কোন অবস্থায় চীনকে লাদাখ অঞ্চলে সুবিধাজনক অবস্থায় আসতে দেবেনা।’ 

‘ভারত সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক সর্বক্ষেত্রে চীনকে চ্যালেঙ্জ করবে।’

‘ভারত বিশ্বকে এটাই বলতে চাই যে দরকার হলে সে একাই চীনের মোকাবিলা করবে। মোদি চীনকে নিন্দা করার পর বল এখন বিশ্ব রাজনীতির কোর্টে।’

নি এম/