eibela24.com
শনিবার, ২৪, অক্টোবর, ২০২০
 

 
কোয়ারেনটাইন হিন্দু শাস্ত্র থেকেই উদ্ভূত!
আপডেট: ১২:১৪ pm ২৬-০৩-২০২০
 
 


করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে কোয়ারেনটাইনে থাকার বিধান চালু হয়েছে বিশ্বব্যাপী। ভারতীয় মুণিঋষিরা এর উদ্ভাবক। বেশীর ভাগ মানুষ কোন না কোন রোগেভোগে মারা যায়। মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিরা যাতে মৃত ব্যক্তির থেকে রোগজীবানু দ্বারা আক্রান্ত না হন এবং তাদের দ্বারা যাতে জনসমাজে রোগজীবানু ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য ক্ষেএ বিশেষে ১০/১৫/৩০ দিন অশৌচ পালনের বিধান ভারতীয় সমাজে রয়েছে, যার ফ্রেন্স নাম কোয়ারেনটাইন। যার অর্থ হলো জনসমাজ থেকে এই দিনগুলি আলাদা ভাবে থাকা। অশৌচ কোয়ারেনটাইন থেকে আরো বেশী তাৎপর্যপূর্ণ। কোয়ারেনটাইনে শুধু আলাদা থাকতে হয়। কিন্তু অশৌচ পালন রোগবিস্তার রোধে আরো বিজ্ঞানসম্মত ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে। অশৌচ পালনে নুতন বস্ত্র পড়তে হয় এবং ঐ বস্ত্রই নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত পরিধান করতে হয়। স্নান করে কাপড়ের এক অংশ পড়ে অপর অংশ শুকাতে হয়। নির্দিষ্ট দিন শেষে ঐ বস্ত্র ফেলে দিতে হয়। কাপড়ের মাধ্যমে যাতে জীবানু না ছড়াতে পারে সেজন্য এ ব্যবস্থা। খাবারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। অশৈাচের দিনগুলোতে মৃতের সন্তানরা নিজেরা প্রতিদিন নতুন মাটির পাত্রে রান্না করে, খেয়ে পাত্রটি জলে ফেলে দিতে হয়। খাদ্যের সংস্পর্শে যাতে রোগ না ছড়ায় সেজন্য এ ব্যবস্থা। মাছ মাংস খাওয়া চলবে না, মাছ মাংস দ্বারা রোগ জীবানুর বিস্তার ঘটতে পারে। অন্যের রান্না করা বা বাসী খাবার বা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ চলবে না। কারণ এর মধ্য দিয়ে রোগ জীবানুর বিস্তার ঘটতে পারে। অশৌচ দিনগুলোতে কোন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ চলবে না। বাড়ীতে অতিথি আসলেও সংস্পর্শে আসা চলবে না। অশৌচের শেষে চুল ফেলে দিয়ে হলুদ, নিমপাতা বা সাবান দিয়ে স্নান করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে।

মৃত ব্যক্তির দেহের রোগজীবানু যাতে ছড়িয়ে না পড়ে বা মাটিতে, জলে বা বাতাসে সংরক্ষিত না হয় সেজন্য পুড়িয়ে ফেলা হয়। যারা দাহ কার্যে অংশ গ্রহণ করে তারাও পরিধেয় বস্ত্র ফেলে স্নান করে ঘরে ঢুকতে হয়। যে সমস্ত যুক্তিবাদীরা হিন্দু শাস্ত্রীয় বিধি বিধানকে কুসংস্কার বলে প্রচার করতো, বিধির বিধানে তারাও আজ হিন্দু বিধি বিধান মানতে বাধ্য হচ্ছে।

নি এম/