eibela24.com
সোমবার, ০৯, ডিসেম্বর, ২০১৯
 

 
সাদুল্লাপুরে বিভিন্ন ইস্যুতে চাঁদাবাজী করা ইউএনও’র বিদায় অনুষ্ঠান বাতিল
আপডেট: ০১:০০ am ১৮-০৪-২০১৬
 
 


গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বিদায়ী নির্বাহি কর্মকর্তা  আবদুল্লা আল মামুন তালুকদারের গতকাল রবিবারে বিদায়ী অনুষ্ঠান জনগনের চাপেরমূখে বাতিল করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় এলকাবাসী জানান, ইউএনও আবদুল্লা আল মামুন তালুকদার যোগদানের পর থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন সভা-সেমিনারে নামে তার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। 

এছাড়া উপজেলা ভুমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকালে জনসাধারণের নিকট থেকে জমির নাম খারিজসহ উপজেলার বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে বেপোরোয়া ভাবে ঘুষ আদায় করায় স্থানীয় রাজনীতিবিদ, উপজেলায় কর্মরত সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিকসহ সকল পেশার লোকজন বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। 

সর্বশেষ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ৪৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের নামে ঢালাওভাবে উপজেলার সর্বত্র চাঁদাবাজী ও ‘মহান স্বাধীনতা দিবসে প্রথম প্রহর রাত ১২ টা ১ মিনিটে জাতির সূর্য্য সন্তানদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পুষ্পমাল্য অপর্ণের সময় সাংবাদিকদের অবমূল্যায়ন করায় ইউএনও’র প্রত্যাহারের দাবি জানায়ে ওইদিন সকল অনুষ্ঠান বর্জন করে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক. উপজেলা বণিক সমিতি, উপজেলা জাসদ, ওয়ার্কাস পার্টি ও সিপিবি। পরে গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রেসক্লাবে স্থানীয় সকল দলের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার লোকজনের সাথে মতবিনিময়কালে গাইবান্ধা -০৩ ( সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ মোঃ ইউনুস আলী সরকার চাঁদাবাজ ইউএনওকে প্রত্যাহার করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

পরবর্র্তীতে গত ৬ এপ্রিল বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে ইউএনওকে সাদুল্লাপুর থেকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বদলি করা উক্ত কর্মকর্তা চলে যাবার দিন রবিবার উপজেলার একক ব্যক্তির একটি ভুইফোর সংগঠন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে তার বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটির আমন্ত্রণ পত্র উপজেলার কোন সরকারী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠে। আয়োজক গোষ্ঠী টের পেয়ে অনুষ্ঠান বাতিল করে পালায়ন করে। 

উপজেলা জাসদের সভাপতি আনসার আলী ও ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জনগনের দাবির মুখে ঘুষখোর ইউএনওকে উর্ধতন প্রশাসন এখান থেকে বদলি করেছে। তাকে বিদায় দেওয়ার কোন প্রশ্নই উঠে না। যারা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। তাদেরকে সাদুল্লাপুরের শত্রু অখ্যায়িত করে প্রতিহত করা হবে। 
 

 

এইবেলাডটকম/সজল কুমার মহন্ত/এআরসি