শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০১৭
শুক্রবার, ১০ই চৈত্র ১৪২৩
সর্বশেষ
 
 
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা, বগুড়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরে গাছতলায় নবজাতক প্রসব ও মৃত্যু
প্রকাশ: ০৫:৪১ am ৩০-১১-২০১৬ হালনাগাদ: ০৫:৪১ am ৩০-১১-২০১৬
 
 
 


বগুড়া প্রতিনিধি: প্রসব বেদনায় ছটফট করা মাজেদাকে গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে হাসপাতাল থেকে তাড়িয়ে দেয়ার পর হাসপাতালের গেটেই নারকেল গাছতলায় কন্যা সন্তান প্রসব করে।

কর্তৃপক্ষের অবহেলার জন্য হত্যার বিচারের দাবীতে বগুড়া সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অত্যন্ত লোমহর্ষক গা-শিউরে যাওয়া এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে।

জানা যায়, শেরপুর উপজেলার ২নং গাড়িদহ মডেল ইউনিয়নের গাড়িদহ স্কুলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াছ উদ্দিনের স্ত্রী দশ মাসের গর্ভবতী মাজেদা বিবির দ্বিতীয় সন্তান জম্মের প্রসব বেদনা উঠে।

এরপর রাতেই তাকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। রাত ১১টার দিকে শেরপুর উপজেলা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার শেরপুর শহরের প্রফেসরপাড়ার বাসিন্দা মোস্তফা আলম আল্লামা তালুকদার পিয়াল তাকে ভর্তি করেন।

হাসপাতালের ইনডোর বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স সুষমা রানী ওই গর্ভবতী রোগীকে প্রায় ১ ঘন্টা পর ডেলিভারী কক্ষে নেয়ার আগে হাসপাতালের পাশের মডার্ন ক্লিনিকে ডাক্তার রাফসান জাহান রিম্মীর কাছে সিজার করার জন্য পরামর্শ দেন।

এরপর নার্স সুষমা রানী অসুস্থ মাজেদাকে বেশ কয়েকটি ট্যাবলেট খাইয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। মাজেদার স্বামী সহ রোগীর লোকদের কাছে নগদ টাকা না থাকায় তারা মাজেদাকে হাসপাতালে রেখে অনুরোধ করে নার্স সুষমাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। রাত তখন পোনে ১টা বাজে।

রোগীর লোকদের অভিযোগ, হাসপাতালের ইনডোর বিভাগের আয়া পারভীন বিবি প্রসব বেদনায় ছটফটরত অসুস্থ মাজেদাকে কোন প্রকার রেফার ছাড়াই জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দেন।

ইলিয়াছ উদ্দিন জানায়, মধ্যরাতে কোন প্রকার যানবাহন না থাকায় হাসপাতালের মূল গেটে চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে যায় মাজেদা বিবি।

এরপর অন্ধকার খোলা মাঠে নারকেল গাছের তলায় বালু মাটির ভেতরে বাচ্চা প্রসব করে মাজেদা। ঘটনার পর আবারও আর্তচিৎকার দিলে হাসপাতাল রোডের নৈশপ্রহরী ফজলু মিয়া সেখানে এসে জনৈক রিন্টুর সহযোগিতায় দরজা ধাক্কাধাক্কি করে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন নার্স সুষমা সহ হাসপাতালের নৈশপ্রহরী কাজলকে।

হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার পিয়াল এবং সুষমা রানী ডাব গাছের নিচে বালু মাটিতে পড়ে থাকা শিশুটিকে মৃত ঘোষনা করেন।

অল্প কিছুক্ষনের মাঝে সেখানে শেরপুর থানা ও ফাঁড়ির ৪/৫ জন পুলিশ হাজির হয়। রাত তখন সাড়ে ৩টা। হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার পিয়াল জানায়, আলটাসনোগ্রামের রির্পোট অনুযায়ী মাজেদার সন্তান প্রসবের দিনক্ষন ছিল আগামী ৭ ডিসেন্বর।

তার আগেই মাজেদার প্রসব বেদনা শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্তান প্রসবের পিভি সহ কিছু সমস্যা থাকায় অপেক্ষা করা হয়েছিল।

একজন গর্ভবর্তী প্রসব বেদনায় ছটফট রত অসুস্থ রোগীকে ভর্তি অবস্থায় কেন তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হলো, এমন প্রশ্নের জবাব নার্স সুষমা রানী বলেন তাড়িয়ে নয় বাহির থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে আনার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমার কোন দায়িত্ব অবহেলা নাই। জরায়ুর মুখ না খুলে আসায় সময়মত সন্তান প্রসব হয়নি। কোন প্রকার রেফার্ড ছাড়াই মধ্যরাতে অন্ধকারে হাসপাতাল গেটে বালু মাটির ভেতরে অসুস্থ মাজেদার সন্তান প্রসব নিয়ে এলাকায় মানুষের মধ্যে নানা রকম জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ওই জঘন্য এবং মর্মান্তিক ঘটনার বিচারের দাবীতে বগুড়া সিভিল সার্জন বরাবরে লিখিত আবেদন দিয়েছে মৃত সন্তানের অসহায় পিতা মো. ইলিয়াছ উদ্দিন।

এব্যাপারে বগুড়া সিভিল সার্জন ডা. অর্ধেন্দু দেব বলেন আমি এখনো অভিযোগ পাইনি। তবে, শেরপুর উপজেলা প.প কর্মকর্তা ডা. মোখলেছুর রহমান ফোনে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। তদন্তপূর্বক অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে বলেছি।

 

এইবেলাডটকম/দীপক/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

News Room: news@eibela.com, info.eibela@gmail.com, Editor: editor@eibela.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71