শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০১৭
শুক্রবার, ১০ই চৈত্র ১৪২৩
সর্বশেষ
 
 
শেরপুরে বিদ্যালয়ে গার্ড কাম  নৈশ প্রহরী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
প্রকাশ: ০৫:৫২ am ০৮-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ০৫:৫২ am ০৮-০১-২০১৭
 
 
 


বগুড়া প্রতিনিধি: শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রার্থীদের সাথে নিয়োগ যাচাই কমিটির গোপন ম্যানেজ ও নিয়োগ কমিটিকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি’র ছেলেকে গার্ড কাম নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি বগুড়ার শেরপুর উপজেলা বিশ্বা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটেছে।উপজেলা ভবানীপুর ইউনিয়নের বিশ্বা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গার্ড নিয়োগে নুন্যতম অষ্টম শ্রেনী পাশ শিক্ষাগত যোগ্যতা রেখে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলাম রব্বানী।

সে অনুযায়ী ৬জন চাকুরী প্রার্থীর মধ্যে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি’র ছেলে ইমরান হোসেন, বিশ্বা গ্রামের সেকেন্দারের ছেলে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত আব্দুল মতি, আফছার হোসেন তারা’র ছেলে রাসেল, আবুল হোসেনের ছেলে মোজাফ্ফর হোসেন, মির্জাপুর ইউনিয়নের শিয়াবর্ষ গ্রামের আব্দুল হানিফের ছেলে আবু রায়হান, বীরগ্রামের এলাহী বক্সের ছেলে মামুনুর রহমান রশিদ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে।

এদিকে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম রব্বানী স্বজন প্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ কমিটিতে বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুজাব কে সভাপতি করে ৫সদস্য বিশিষ্ট ও অভিভাবক সদস্যদের নিয়ে যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করে।

এদিকে ওই বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তপন কুমার প্রধান শিক্ষক পদে সম্প্রতি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহন নিয়ে বির্তক থাকায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারী সহকারী শিক্ষক কালীপদ রায়কে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বভার দেয় কমিটির সভাপতি গোলাম রব্বানী।

সে অনুযায়ী গত ৫ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার ওই বিদ্যালয়ের গার্ড কাম নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহন করে নিয়োগ কমিটি। এসময় ডিজি প্রতিনিধি হিসেবে বগুড়া ভিএম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুন, উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালীন পর্বে ৬জন প্রার্থীর মধ্যে সভাপতি’র ছেলে ইমরাম হোসেনসহ তার সার্পোটিং হিসেব আব্দুল মতি ও রাসেল উপস্থিত থাকলেও নিয়োগ পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়টি অন্যরা কেউ জানেনা বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে আব্দুল মতিনের শিক্ষাগত যোগ্যতায় অষ্টম শ্রেনী’র সনদে ভুয়া বলে এলাকায় অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে আবেদনকারী মোঃ মতিন শেখ বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম রব্বানী আমাকে চাকুরী দেয়ার কথা বলে ৩ লাখ টাকা চুক্তি করে প্রায় ১বছর আগে দেড় লাখ টাকা গ্রহন করে।

এদিকে আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও ওই বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালীপদের কাছ থেকে পনের শত টাকার বিনিময়ে অষ্টম শ্রেণীর ভুয়া সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করে দিয়ে ওই নিয়োগ পরীক্ষা অংশ গ্রহন করায়। এদিকে আমার টাকা গ্রহন করেও উল্টো প্রভাবশালী সভাপতি গোলাম রব্বানী তার ছেলেকে ওই পদে নিয়োগ দেয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম রব্বনী বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই ওই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে কোন অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি বলে তিনি দাবী করেন।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান খানের সাথে ওই বিদ্যালয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি একটি মিটিংয়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে পরে কথা বলবো বলে ফোন কেটে দেন।

 

এইবেলাডটকম/দীপক/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

News Room: news@eibela.com, info.eibela@gmail.com, Editor: editor@eibela.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71