বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০১৭
বৃহঃস্পতিবার, ৬ই মাঘ ১৪২৩
সর্বশেষ
 
 
এইবেলায় খবর প্রকাশে  যশোরে ছাত্র পেটানো দাঙ্গাবাজ শিক্ষকদের দৌঁড়ঝাপ 
প্রকাশ: ০৫:৫৮ pm ০৭-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ০৫:৫৮ pm ০৭-০১-২০১৭
 
 
 


খুলনা প্রতিনিধিঃ এইবেলাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় খবর প্রকাশে দাঙ্গাবাজ শিক্ষকদের দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়েছে।

মনিরামপুরের বালিধা-পাঁচাকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ফিল্মস্টাইলে ছাত্রকে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে ৩ শিক্ষক।

শুধু মারপিট করে খ্যান্ত হননি ঐ শিক্ষকরা। আগামী এসএসসি পরিক্ষার এ্যাডমিট কার্ডসহ প্রবেশ পত্র না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনা এলাকায় প্রকাশ হলে ছাত্রদের অবিভাবকসহ স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে আজ শনিবার বিদ্যালয়ের বসাবসির কথা থাকলেও নাটকীয়ভাবে দিন পেছানো হয়েছে।

আর ঐ সকল দাঙ্গাবাজ শিক্ষকরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে দৌঁড়ঝাপ শুরু করছে। শুধু তাই নয় বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। ভূক্তভোগী পরিবার গুলো শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য গত বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয়ে মাঠে ছাত্র-ছাত্রীদের পিটি অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

এতে ১জন গুরুত্বরসহ তিন জন ছাত্র আহত হয়েছে। আহত সবাই বিদ্যালয়ের এসএসসি পরিক্ষার্থী। গুরুত্ব আহত নেহালপুর ইউনিয়নের পাঁচাকড়ি রাজবংশি পাড়ার বিশ্বনাথ বিশ্বাসের পুত্র তপু বিশ্বাস।

শিক্ষার্থী তপুর বাড়ীতে যেয়ে দেখাযায় তার হাতে পিঠে মুখে জখমের চিহ্ন। পুত্রের এ ঘটনায় মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন পিতা।

তিনি জানান আমার সন্তান এমন কি দোষ করেছে তাকে অমানুষিক ভাবে মারা হলো। তার দু’কান দিয়ে রক্ত পড়েছে। নাক, মুখ ও শরীরে আঘাত করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

এসময় তপু বিশ্বাসের অন্যান্য সহপাঠীরা জানান, তপুসহ আরো দু’জনকে সবুর গাজী, হারুন ও রহমান স্যার বেতের লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে, পা দিয়ে লাথি মেরেছে, কিল ঘুষি মারতে মারতে মাঠ থেকে অফিসে নিয়েও মারা হয়।

আহত আর এক শিক্ষার্থী মুন্না বিশ্বাস বলেন, হারুন স্যার বলেন নেহালপুরে আমার উপরে কোনো মাস্তান নেই। তাছাড়া ওই সময় অশ্লীল ভাষা ব্যাহার করেন স্যাররা।

তপু বলেন মুরশিদকেও স্যারেরা মেরেছে। কেন মারা হলো এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন পিটি চলছিল এমন সময় সবুর স্যার মাথার চুল লম্বা বলে আমাকে মারপিট শুরু করলে হারুন ও রহমান স্যার এসে মারতে শুরু করে।

তখন জয়দেব ও তরুন স্যার বাধাদিলেও কোনো কাজ হয়নি। এক সময় সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তপু বিশ্বাস বিদ্যালয়ের নির্বাচিত ক্যাবিনেট সভাপতি এবং এসএসসি পরিক্ষার্থী।

তপুর মা বলেন আমার সন্তানের দু’কান দিয়ে রক্ত পড়েছে সে কানে শুনতে পারছে না। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বলেন, তপুকে উন্নত চিকিসার জন্য বাহিরে নেওয়ার কথা বলেছেন স্থানীয় চিকিৎসক। স্থানীয় ইউপি সদস্য সুধান্য বিশ্বাস এ জঘণ্য ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এর সুষ্ঠ বিচার হওয়া উচিত।

নাম প্রকাশ না শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, এর আগেও এ বিদ্যালয়ে কয়েকবার ছাত্রদের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ওই সকল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের রের্কড রয়েছে (যা আগামীতে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিকরা)।

বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বিকাশ বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন ঐ সময় আমি বিদ্যালয়ে ছিলাম না। ছাত্রদের উপর লাঠি ব্যবহার স্বীকার করে বলেন ঘটনাটি দুঃখ জনক।

বিদ্যালয়ের সভাপতি রুহুল আমিন সাংবাদিকদের জানান, আজ (শনিবার) হয়নি, আগামী মঙ্গলবার বসাবসি হবে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার রাতে ভূক্তভোগী তপুর নিকট আত্নীয়র মৃত্যু হওয়ায় আইনী প্রক্রিয়ায় যেতে পারিনি বলে পরিবারের লোকজন জানায়।

 

এইবেলাডটকম/মহানন্দ/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Migration
 
আরও খবর

 
 
 

News Room: news@eibela.com, info.eibela@gmail.com, Editor: editor@eibela.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71