শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
শনিবার, ১৩ই ফাল্গুন ১৪২৩
সর্বশেষ
 
 
কক্সবাজার সরকারী মেডিকেল কলেজের নিজস্ব ক্যাম্পাসের যাত্রা শুরু
প্রকাশ: ০৬:৪৭ am ০৮-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ০৬:৪৭ am ০৮-০১-২০১৭
 
 
 


কক্সবাজার প্রতিনিধি : ৮ বছরে নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা আর আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল কক্সবাজার সরকারী মেডিকেল কলেজের নিজস্ব ক্যাম্পাসে আট বছর পর ৮ জানুয়ারী আজ রবিবার মুখরিত হয়ে উঠে।

৬ তলার বিশাল একাডেমী ভবন অফিস, শ্রেণীকক্ষ, অধ্যক্ষ আর শিক্ষকদের কক্ষ সাজানো হয়েছে। পরিপাটি করা হয়েছে ছাত্র-ছাত্রীর পৃথক দু’টি ছাত্রাবাস।সাজানো হয়েছে বিশালায়তনের পাঠাগার কক্ষ।

ছাত্র, শিক্ষক, কর্মচারি সবার চোখে-মুখে ভেসে উঠেছে জয়ের স্মিত হাসি। কক্সবাজারে  স্থান করে নিল চিকিৎসা বিজ্ঞান শিক্ষার আলোকিত বাতিঘর। আর এই জয়যাত্রায় স্থানীয় সচেতন অনেক মানুষের ত্যাগ-তিতিক্ষা যেমন রয়েছে তেমনি কিছু শিক্ষক,কর্মচারি আর  ছাত্রদের অবদানও রয়েছে।

‘কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য জমি না পাওয়া, জমি পাওয়ার পর অধিগ্রহণ করতে না পারা, অধিগ্রহণ করতে গিয়ে নানা ঝামেলা সৃষ্টি হওয়া, মন্ত্রালয়ের জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কক্সবাজারের ক্যাম্পাসের অর্থ অন্য জেলায় চলে যাওয়া, কক্সবাজারে মেডিকেল কলেজ স্থাপন না করে অন্য জেলায় চলে যাওয়া, করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ কক্সবাজারে নিজস্ব জমিতে স্থাপন করার তীব্র আন্দোলন-সংগ্রাম করা, শিক্ষক আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাওয়ার দাবিতে আন্দোলন করা, ভবন নির্মানের জটিলতা, ষড়যন্ত্র সহ ৮ বছরে নানা বাঁধা-বেদনা পেরিয়ে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ তার নিজস্ব ক্যাম্পাসে গেছেন।’

আজ রবিবার সরেজমিনে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে গিয়ে দেখা যায়,নতুন নির্মিত মূল ক্যাম্পাস ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র স্থাপন করা হয়েছে।

৩৫২ জন শিক্ষার্থী,৬৭ জন শিক্ষক,৮টি ডিপার্টমেন্ট এবং ৪৫জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ১০ জন নিরাপত্তা কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ।

৩২.৪ একর জায়গায় (আরও .৩৪ শতক প্রক্রিয়াধীন) প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মূল ক্যাম্পাসে একাডেমিক ভবন ছাড়াও রয়েছে ২টি আলাদা হোস্টেল ভবন, প্রসস্থ ক্লাস রুম, প্রশিক্ষণ রুম,ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, মিলনায়তন, ডরমেটরী, প্রসস্থ খেলার মাঠ, শহীদ মিনার, মসজিদসহ বেশ কিছু আধুনিক সুযোগ সুবিধা।

জানা যায়, কক্সবাজারের কৃতি সন্তান সাবেক সচিব এ.এম.এম  নাছির উদ্দিন ও হুমায়ুন কবির এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা: মো: আবুল ফয়েজের আন্তরিক প্রচেষ্টায়  ২০০৮ সালের ১৩ নভেম্বর ‘কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ’ প্রশাসনিক অনুমোদন লাভ করে।পরবর্তীতে নিজস্ব ক্যাম্পাসের জন্য অপেক্ষা না করে জেলা সদর হাসপাতালের নির্মিত আইসিইউ, সিসিইউ ভবনে কলেজের দাপ্তরিক কর্ম শুরু হয়।

২০০৯ সালের ২৮ জানুয়ারী ৫৭ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে কলেজের প্রথম ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়।

এর পরপরই শুরু হয় কক্সবাজার থেকে মেডিকেল অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়ার নানা ষড়যন্ত্র। মেডিকেল কলেজের জন্য কক্সবাজারে জমি না পাওয়া আর জমি পাওয়া গেলেও অধিগ্রহণ করতে না পারার কারণে ঢাকায় বসে থাকা উচ্চ পদস্থ কর্তারা তাদের নিজ-নিজ জেলায় নিয়ে যাওয়ার জোর প্রচেষ্টা চালান।

অবশেষে গোপালগঞ্জ জেলায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে চুড়ান্ত হয়ে যায়। কক্সবাজারে জমি না পাওয়া আর অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সচেতন সাংবাদিকরা আন্দোলনে নামে।

আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয় ছাত্র-ছাত্রীরা। পরবর্তীতে মেডিকেল কলেজের নির্দিষ্ট জায়গা নিয়ে নানা টালবাহানা,সংগ্রাম ও আন্দোলনের পর সাবেক অধ্যক্ষ ডা: বিএম আলী ইউছুপের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ২০১২ সালে নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়।

এতে ৬ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের জন্য ৪১ কোটি ১৯ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ৩৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

সে অনুযায়ী ব্যয় করে একাডেমিক ভবন আর ১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে পুরুষ আর মহিলাদের জন্য ২ টি আলাদা হোস্টেল ভবন ছাড়াও আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়। বর্তমানে মেডিকেল কলেজ ভবন সর্ম্পূর্ণ প্রস্তুত।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন- ৮জানুয়ারী শ্রেনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

প্রথম দিনে প্রত্যেক শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা যেমন উপস্থিত ছিলেন, তেমনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদাচরাণায় মুখরিত পুরো ক্যাম্পাস।

আগামি ১০ জানুয়ারি ২০১৬-২০১৭ শিক্ষা বর্ষ এমবিবিএস কোর্সে ভর্তিকৃত নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের ওরিয়েন্টেশ ক্লাসের মাধ্যমে ৯ম ব্যাচের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি বলেন,কক্সবাজার মেডিকেল কলেজটি খুবই মানসম্মত এবং একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ হয়েছে যা দেশের মধ্যে অন্যতম।

এ কলেজের মতো বিশাল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্যাম্পাস দেশের কোথাও নেই।এর লাইব্রেরীও হবে দেশের অন্যতম। ইতিমধ্যে কলেজের সরাঞ্জাম স্থানান্তর করাসহ নতুন আরো অনেক কিছু স্থাপন করা হয়েছে। আরো বেশ কিছু সংযোজনের অপেক্ষায় আছে। আমি বিশ্বাস করি এটি বাংলাদেশের একটি নান্দনিক মেডিকেল কলেজ হবে।

তিনি আরও জানান, মেডিকেল কলেজে বর্তমানে বছরে প্রতি ব্যাচে আগে ৫৭ জন নেয়া হলেও বর্তমান নিজস্ব ক্যাম্পাস থাকায় এ সংখ্যা ২০০ পর্যন্ত করা যাবে।

এখন ৮ টি ডিপার্টমেন্ট নিয়ে কলেজে পাঠদান করা হচ্ছে। এগুলো হলো প্রথম পেশাগত-(এনাটমি,ফিজিওলজি,বাইওক্যামিস্ট্রি),২য় পেশাগত- (কমিউনিটি মেডিসিন ও ফরেনসিক মেডিসিন), ৩য় পেশাগত-(পেথোলজি,ফারমাকোলজি ও মাইক্রোবাইওলজি) এবং ৪র্থ পেশাগত-(মেডিসিন ও গাইনী সার্জারী।

আপাতত মেডিকেল কলেজ কাম হাসপাতাল না হলেও খুব দ্রুত ৫০০ শয্যার হাসপাতালও এখানে গড়ে তোলার জন্য সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে।

তিনি আরো বলেন,নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে এ কলেজ ক্যাম্পাস হয়েছে। অনেকে এখনো ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। পক্ষান্তরে অন্য সবার সহযোগিতায় উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ করতে পারছেননা।তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামিতে পথ চলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে নতুন বছরেই নিজস্ব ক্যাম্পাসে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম করতে পারায় বেশ আনন্দিত মেডিকেল কলেজ সংশ্লিষ্টরা।

একই সাথে কক্সবাজারের একটি নতুন পথচলা শুরু হলো যা আগামীতে কক্সবাজারের চিকিৎসা সেবায় একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে।

 

এইবেলাডটকম/চঞ্চল/গোপাল 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Migration
 
আরও খবর

 
 
 

News Room: news@eibela.com, info.eibela@gmail.com, Editor: editor@eibela.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71