রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭
রবিবার, ১২ই চৈত্র ১৪২৩
সর্বশেষ
 
 
বোরো চাষে উৎপাদন বাড়াতে মরা খাল পুনঃখনন জরুরি
প্রকাশ: ০৬:০৬ am ২৫-১২-২০১৬ হালনাগাদ: ০৬:০৬ am ২৫-১২-২০১৬
 
 
 


বরিশাল প্রতিনিধিঃ ধান, নদী, খাল এই তিনে বরিশাল হলেও দীর্ঘদিন যাবত উত্তর বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ন খালগুলো পূনঃখনন না করার ফলে এসব এলাকার বোরো চাষে বিরুপ প্রভাবের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

কৃষিবিদরা আশংকা করছেন জরুরি ভিত্তিতে মরা খালগুলো পুনঃখনন না করা হলে কমে যেতে পারে বোরো চাষের ফলন।বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভরাট হয়ে যাওয়া ২২.৫ কিলোমিটার খাল পূনঃখনন করা হয়েছে।

খালগুলো পূনঃখননের ফলে ৬০ থেকে ৭০টি ব¬ক বোরো চাষের আওতায় এসেছে। কৃষি কাজের জন্য এবং এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য দুই উপজেলার এখনো প্রায় ৫০ কিলোমিটার খাল পূনঃখনন ও খননকৃত খালগুলোর পলি অপসারন জরুরী হয়ে পরেছে।

গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শরিফাবাদ গ্রামের বোরো ব¬কের ম্যানেজার ইদ্রিস হাওলাদার, হাপানিয়া গ্রামের রহিম সরদার জানান, তাদের আওতাধীন হাপানিয়া-শরিফাবাদ এলাকার তিন কিলোমিটার খাল পূনঃখননের ফলে ৩ শ’ একর জমিতে চৈত্র-বৈশাখ মাসে প্রচন্ড খরার সময়ও দিব্যি পানি সরবরাহ করতে পারছেন। ফলে ধানের ফলন আগের চেয়ে অনেকাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্ব মাহিলাড়া বোরো ব্লকের ম্যানেজার নাজমুল সরদার জানান, গত অর্থবছরে মাহিলাড়া-নলচিড়া খাল পূনঃখননের ফলে তার ব¬কে বোরোর ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাহিলাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু জানান, তার ইউনিয়নে বিএডিসির অর্থায়নে গত কয়েক বছরের ব্যবধানে কয়েক কিলোমিটার খাল পূনঃখনন করা হয়েছে।

ফলে ইউনিয়নের অনেক অনাবাদি জমিতে ধান ও শাক সবজির ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও জানান, এখনো গুরুত্বপূর্ন কয়েকটি খাল পূনঃখনন করা হলে ইউনিয়নে কৃষি কাজের জন্য পানির ঘাটতি থাকবেনা। চাঁদশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ কান্ত দে জানান, ওই ইউনিয়নে একটি খাল পূনঃখনন করা হয়েছে।

এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ন খননযোগ্য খাল রয়েছে। যা কৃষি কাজের জন্য পূনঃখনন করা প্রয়োজন। বাটাজোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রব হাওলাদার জানান, বাটাজোর-শৌলকরের মরা খাল পূনঃখননের ফলে অনেক অনাবাদী জমি চাষের আওতায় এসেছে।

বাকাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিপুল দাস জানান, তার ইউনিয়নের খালগুলো দীর্ঘদিনেও খনন না করার ফলে বর্ষার পানি খালে নামতে পারছেনা।

অপরদিকে বোরো মৌসুমে খালে পানি না থাকায় বোরো চাষের জন্য কৃষকদের জোয়ারের পানির উপর নির্ভরশীল হতে হয়। এ দুই উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে খাল পূনঃখননের জন্য তালিকা নেয়া সত্বেও অদ্যবর্ধি জনগুরুতপূর্ণ খালগুলো পূনঃখনন করা হচ্ছেনা।

জরুরী ভিত্তিতে খালগুলো পূনঃখনন করা না হলে বোরো মৌসুমে ধান চাষে বিরুপ প্রভাবের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই খালগুলো পূনঃখননের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। 

গৌরনদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলার অনেকগুলো খাল রয়েছে যা অনেকাংশে ভরাট হয়ে গেছে।

সেচ-সুবিধা পাওয়ার জন্য খালগুলো পূনঃখনন করা গেলে অতিরিক্ত আরও ৪ থেকে ৫’শ হেক্টর জমি বোরো মৌসুমে ধান চাষের আওতায় আসবে। এতে করে গৌরনদী উপজেলায় আরও দুই হাজার মেট্রিক টন বোরো ধানের ফলন বৃদ্ধি পাবে।

 

এইবেলাডটকম/কল্যান/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

News Room: news@eibela.com, info.eibela@gmail.com, Editor: editor@eibela.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71