সোমবার, ২৭ মার্চ ২০১৭
সোমবার, ১৩ই চৈত্র ১৪২৩
সর্বশেষ
 
 
বেলকুচি সহ উত্তরাঞ্চলের পথে প্রান্তরে- ‘সবজির বাগান চোখে পড়ে অবিরাম’
প্রকাশ: ০৬:৪২ am ২৮-১২-২০১৬ হালনাগাদ: ০৬:৪২ am ২৮-১২-২০১৬
 
 
 


সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সবজির বাগান চোখে পড়ে যায় অবিরাম”- দামাল ছেলের মতো, ডাক দে বলে আয়রে তোরা আয়; ডাকবো তোদের কত’।

ক্ষেতে-ক্ষেতে লাঙলের ধার, মুছে গেছে কতবার, কতবার ফসল কাটার সময় আসিয়া চলেগেছে কবে! শস্য ফলিয়া গেছে, তুমি কেন তবে রয়েছ দাঁড়ায়ে, একা একা! ডাইনে আর বাঁয়ে, পোড়ো জমি খড় নাড়া মাঠের ফাটল,শিশিরের জল!’

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ‘মেঠো চাঁদ’ কবিতা এখন সত্যি হয়ে ধরা পড়ছে বাংলাদেশের বর্তমানের সবজির বাগানের চিত্রই যেন উঠে এসেছে কৃষকের এই কবিতায়।

অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে গেছে দেশের উত্তরাঞ্চলের সবজি বাগান। যেদিকে চোখ যায় শুধু সবজি আর সবজি। সবজির বাগানে সবুজ আর সবুজ।

সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবন্ধা, রংপুর, নিলফামারী, কুড়িগ্রাম জেলার সর্বত্রই একই চিত্র। নদী বিদৌত এলাকাগুলো সবজি বাগানের সবুজ রূপ যেন আরো আকর্ষণীয় অপরূপ।

যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা নিখুঁত ছবি। আবার মাঝে মাঝে দু’চার বিঘা জমিতে সবজি বাগানে সবুজ আর সাদা রং। আহা এ কি অপরূপ দৃশ্য বাংলাদেশের মাঠে প্রান্তরে!

কৃষি প্রধান এ সবুজ দেশ। ক্ষেতে আমনধান ফলন শেষ হলে কৃষকরা সবজি চাষে ঝুকে পড়ে, দেখে স্বপ্নময় স্বপ্ন। ঘরে ধান আসে আর সবজি বিক্রি করে কেউ মেয়ে বিয়ে দিবেন, কেউ ছেলের বউ আনবেন ঘরে।

বছরের জামা-কাপড়, ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচের যোগান দেবেন। ধার-দেনা, দাদনের টাকা পরিশোধ করবেন, স্ত্রীর শখ মেটাবেন। প্রকৃতির আশির্বাদ যথা সময়ে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সবুজ পাতাময় ফুল কপি আর সাদা ঝকঝকে বাঁধা কপির হৃষ্টপুষ্ট হওয়ায় তারা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।

মহাসড়কে বাস উঠতেই হেমন্ত মুখপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের ‘এ পথ যদি শেষ না হয়’ গানের বিপরীত মেরুতে পড়তে হলো। পথ যেন শেষ হচ্ছেই না।

সিরাজগঞ্জ টু বগুড়া ৩ ঘন্টার পথ পেরুতে জার্নি করতে হলো ৫ ঘন্টা। পথের খানাখন্দে বাসের লাফানিতে পেটে নাড়িভূড়ি বের হওয়ার উপক্রম। গাড়িতে যেতে যেতে চোখে পড়লো চমৎকার পাকা রাস্তার দুধারে গাছের সারি।

আর যেদিকে চোখ যায় ক্ষেতে সবুজ সবুজ সবজিময় সবজি। প্রান্ত থেকে প্রান্তরে সবুজের সমারোহ। বগুড়া বাসষ্ট্যান্ড অর্থাৎ বগুড়া জেলা বাস যাত্রী জেলহজ আলী কথায় কথায় বলে উঠলেন এই এলাকায় এক প্রভাবশালী কৃষক আছে নাম তার মোজাম্মেল, এতোদিন যে সব জমিতে তামাক চাষ করা হতো এখন ধান চাষের পরপরই সে সবজি করে, সবজির বাগান দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল, প্রায় ৩ বিঘা জমিতে সবুজের পাতা শোভা পাচ্ছে।

প্রাকৃতির কোনো দূর্যোগ না হলে এবার সবজির বাম্পার ফলন হবে। প্রকৃতি এখন নতুন সাজে। বগুড়া জেলায় শেরপুর পাওয়ার প্রায় ৮ কিলোমিটার পূর্বে এক মাঠ দেখিয়ে যাত্রী বলল, এখানে ধান চাষের পর এবার সবজি চাষে ঝুকে পড়েছে কৃষকরা।

দেখতে চমৎকার কচি কচি সবুজ পাতা বাধা কপির। আমোন-রোপা কাটার পর এবার সবজি চাষে ঝুকে পড়েছে। সিরাজগঞ্জের বেলকুচির উপজেলার দৌলতপুর ও ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের বিশাল এলাকায় মাটির উর্বরা শক্তি থাকার কারণে সবজি ফলন ভাল হয়।

একাধিক কৃষককের মতে এবার যে ভাবে সবজির ফলন দেখা যাচ্ছে। সলঙ্গা থানার লাঙ্গলমোড়া, উল্লাপাড়া উপজেলার চরই মোড়ই এলাকার কৃষক জাকির হোসেনের কথা- দু’দিন আগে জাকির সবুজ সবজির বাগান দেখিয়ে বললেন, প্রকৃতি আমাদের দিকে তাকিয়েছে; যথা সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় সবজির ফলন ভাল হয়েছে।

সরকার যদি সবজির ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত এবং বিদেশে রপ্তানী করার সুযোগ দেয় তাহলে আমরা ভাল কিছু করতে পারবো।

এতে করে বাংলার ১৬ কোটি মানুষ খেয়ে দেয়েও আমাদের উৎপাদিত সবজি দেশে দেশে রফতানি করা সম্ভব হবে। ৩০ বছর ধরে কৃষিকাজ করি। এবারের মতো সবজির হৃষ্টপুষ্ট গাছ কোনো বছর দেখিনি।

ততক্ষণে মনের অজান্তে গাইতে শুরু করছি ‘সবজিতে পুষ্টি ভরা-আমাদের এই সোনার বাংলার মানুষেরা’। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলা সহ উত্তরাঞ্চলে সবজির যে পরিমান চাষ হয়েছে তা অভাবনীয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে সিরাজগঞ্জ জেলা সহ উত্তরাঞ্চলের সবজি ঢাকার মানুষের চাহিদা মেটানো সহ কিছু কিছু এলাকা থেকে সবজি বিদেশে রপ্তানী করা হয়।

 

এইবেলাডটকম/চন্দন/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

News Room: news@eibela.com, info.eibela@gmail.com, Editor: editor@eibela.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71