বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭
বৃহঃস্পতিবার, ৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৪
 
 
বর্ণিল আয়োজনে বিজয় দিবস পালন হলেও “শহীদের মা” অবহেলায় 
প্রকাশ: ০৮:২৩ pm ১৬-১২-২০১৬ হালনাগাদ: ০৮:২৫ pm ১৬-১২-২০১৬
 
 
 


শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ সন্তান হারানোর বেদনা আপনাকে কী করে বোঝাব? আর সেই সন্তান যদি হয় প্রথম সন্তান। সেই কলিজার টুকরা প্রথম সন্তানকে হারিয়ে ৪৫ বছর ধরে তুষের আগুন বুকে চেঁপে রেখেছি।

দেশকে হানাদার বাহিনীর কবল থেকে রক্ষা করতে আমার স্কুল পড়ুয়া ১৮ বছর বয়সী সন্তান জীবন বাজি রেখে মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহন করে। আমার সন্তান দেশ থেকে হানাদার বাহিনী বিতাড়িত করেছে।

সেই সন্তান গর্ভে ধারণ করে আমি গর্বিত ছিলাম। দেশ স্বাধীন করে আমার বুকের ধন থেমে থাকেনি। মাতৃভূমি স্বাধীন করে বাড়িতে না ফিরে দেশ গড়ার জন্য সেনা বাহিনীতে যোগদান করে।

আল্লাহ আমার গর্ব মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের আয়ু দীর্ঘ স্থায়ী করেনি। স্বাধীন দেশেও ঢাকার মিরপুরে বিহারীদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে আমার সন্তান শহীদ হয়।

আমার বাবায় যুদ্ধে যাওয়ার আগে আমার সাথে দেখা করে। স্বাধীন দেশেই আমার বাবায় শহীদ হয়। আমার বাবাকে আর দেখার ভাগ্য আমার হয়নি। ১৯৯০ সাল থেকে জেলা মুক্তি যোদ্ধা সংসদ আমার খোঁজ খবর নিতো।

প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে আমাকে উপস্থিত থাকার জন্য বলতো। বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে শহীদ মুক্তি যোদ্ধার মা হিসেবে আমাকে মূল্যায়ন করা হতো।

আমিও গর্বিত হতাম আমার শহীদ সন্তানের স্মৃতি বুকে ধারণ করে। গতবার থেকে বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে আমাকে ডাকা হয় না। এই দিন গুলো যে আমার কিভাবে কাটে তা বোঝাতে পারবনা।

আমিতো আর বেশী কিছুই চাইনি। এ সকল কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সিপাহী আজিজুল হকের মা ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা জহুরা বেগম।  

শহীদ আজিজুল হকের পারিবারিক সূত্র জানায়, আজিজুল হক শরীয়তপুর পৌরসভার স্বর্ণঘোষ গ্রামের মৃত সামসুল হক হাওলাদারের ছেলে।

শহীদ আজিজুল হক ১৯৭১ সালে পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন না করে দেশের সম্মান ও অস্তিত্ব রক্ষার্থে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে।

৪ ভাই ও ৫ বোনের মধ্যে আজিজুল হকই ছিল বড়। লাল রং এর মুক্তি বার্তা বইতে শহীদ আজিজুল হকের ক্রমিক নম্বর ০১১২০১০০০৫। শরীয়তপুরে বর্ণিল আয়োজনের বিজয়ের ৪৬তম বার্ষিকী “মহান বিজয় দিবস” পালিত হলেও শহীদের মা জহুরা বেগমের খোজ কেউই রাখেনা তাই তার সময় কাটে অস্থির ভাবে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কর্তা ব্যক্তিদের প্রতি শহীদ আজিজুল হকের পরিবারের একটাই দাবি। অন্য কোন ভাবে সম্ভব না হলেও যেন প্রতি বছরের বিশেষ দিন গুলোতে শহীদের মা জহুরা বেগমকে সম্মান করা হয়।

শহীদ আজিজুল হকের সহযোদ্ধা মফিজুর ইসলাম বলেন, আমরা ৩ নম্বর সেক্টর কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলে যুদ্ধ করতাম। দেশ থেকে হানাদার বাহিনী বিতাড়িত করে সেনা বাহিনীতে যোগদান করি।

১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি ঢাকার মিরপুরে বিহারী উচ্ছেদ করতে গিয়ে সম্মুখ যুদ্ধ হয়। সেখানে ৭২ জন সেনা সদস্য শহীদ হয়। সহযোদ্ধা আজিজুল হকও সেখানে শহীদ হয়।

শহীদ আজিজুল হকের ছোট ভাই এনামুল হক জানায়, তার জন্মের পূর্বেই বড় ভাই আজিজুল হক শহীদ হয়। ভাই দেশ স্বাধীন করে শহীদ হয়েছে তাই গর্ববোধ করি।

তবে প্রতি স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে আমার মা জহুরা বেগমকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে সম্মাননা দিতেন তখন মায়ের চোখে সন্তান হারানো বেদনা দেখা যেতো না।

কয়েকবার যাবৎ মাকে সম্মাননা থেকে বঞ্চিত করায় বিশেষ দিনগুলোতে মায়ের চোখের দিকে তাকানো যায় না। মনে হয় মাকে যেন কোন অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধারাই দেশের গর্বিত সন্তান হিসেবে উপযুক্ত সম্মান পাচ্ছে। আমার মা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মা হয়েও যেন অবহেলায় অবশিষ্ট সময় না কাটে সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবী।

আমার ভাইকে দেখিনি তবুও মায়ের কাছ থেকে শুনে ভাইয়ের স্মরণে বিভিন্ন আয়োজন করে থকি। ভাইয়ের নামে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আজিজুল হক ক্রীড়া চক্র স্থাপন করেছি।

 

এইবেলাডটকম/সৈকত/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
Loading...
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Loading...
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন # sukritieibela@gmail.com

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

   বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: sukritieibela@gmail.com

  মোবাইল: +8801711 98 15 52 

            +8801517-29 00 01

 

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71