শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭
শুক্রবার, ১০ই অগ্রহায়ণ ১৪২৪
 
 
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে ডুবিয়ে দণ্ডিত ফারুক
প্রকাশ: ০৮:২২ am ২৩-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ১২:৪০ pm ২৩-০১-২০১৭
 
 
 


ঢাকা:: ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল রাতে সারা দেশে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন তত্কালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ওমর ফারুক তালুকদার। সেদিন রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের ফটকে একটি গাড়িসহ ধরা পড়েছিলেন তিনি। গাড়ি থেকে জব্দ করা হয় ৭০ লাখ টাকা। জীবনে প্রথমবার মন্ত্রিত্ব পাওয়া সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এ ঘটনার জেরে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হন। ওমর ফারককেও বরখাস্ত করেন তিনি। তারপর থলের মুখ খুলে যায়, একে একে ফারুকের নানা অপকর্ম ফাঁস হতে থাকে। এক হাজার ২০০ টাকা বেতনের রেস্তোরাঁ শ্রমিক থেকে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। মন্ত্রীর এপিএস হিসেবে ক্ষমতার যথেচ্ছ অপব্যবহার করেছেন।

 

শেষ পর্যন্ত আইনের হাত ওমর ফারুকের নাগাল খুঁজে পেয়েছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় গতকাল রবিবার রায় দিয়েছেন আদালত। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি ২৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি তাঁর নামে থাকা রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি ফ্ল্যাটও বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, জরিমানার টাকা না দিলে আরো আড়াই বছর কারাগারে থাকতে হবে তাঁকে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আতাউর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। জামিনে থাকা ওমর ফারুক রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন। পরে তাঁকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রায় ঘোষণার পর গতকাল সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ওমর ফারুকের পরিবার ও রেলভবনসহ বিভিন্ন স্থানে আলোচনায় ফের ঘুরেফিরে এসেছে সেই টাকার প্রসঙ্গ। আটকের পর ওমর ফারুকই দাবি করেছিলেন, সেই টাকার বস্তা যাচ্ছিল সুরঞ্জিতের বাসায়। মাঝে এ কেলেঙ্কারি নিয়ে আলোচনা প্রায় ঝিমিয়ে পড়েছিল। রায়ের পর এখন আবার তা চাঙ্গা হয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে অধিবেশন শুরু হয়। সেখানে পাঞ্জাবি ও কটি পরা সুরঞ্জিতকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। অধিবেশনে যোগ দেওয়া অনেকে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এ নেতাকে নিয়ে নানা কথা বলাবলি করেন। তবে রায়ের পর গতকাল সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি সুরঞ্জিত।

গতকাল রায়ের পর বিভিন্ন মহলে আলোচনায় দাবি ওঠে যে ওমর ফারুক বাহক হিসেবে যাদের কাছে টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন তাদেরও খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলপথ নিয়ে আলাদা মন্ত্রণালয় করেছেন ২০১১ সালে। দেশব্যাপী রেলপথ বিস্তৃত ও উন্নয়নের জন্য সুরঞ্জিতকে দেওয়া হয়েছিল রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে রেলে নিয়োগ বাণিজ্য এবং গাড়িসহ অন্যান্য কেনাকাটায় কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল। বছরের পর বছর লোকসান গুনতে থাকা প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে তখন প্রচলিত ছিল যে—রেলে কালো বিড়াল আছে। মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সময় সুরঞ্জিত নিজেও বলেছিলেন, রেলের কালো বিড়াল খুঁজে বের করা হবে। তবে সেই কালো বিড়াল ধরার আগেই তাঁর থলি থেকেই কালো বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। টাকার বস্তাসহ ধরা পড়েন ওমর ফারুক। সে সময় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রেলে নিয়োগ বাণিজ্যের ঘুষ হিসেবেই তোলা হয়েছিল সেই টাকা। আটকের পর ওমর ফারুক সে সময়  দাবি করেছিলেন, ৭০ লাখ নয়, সেখানে টাকা ছিল ২৫ লাখ। লন্ডন থেকে তাঁর শালা পাঠিয়েছেন এ টাকা। গাড়ির চালক তাঁর সঙ্গে ব্ল্যাকমেইল করেছে। আর টাকা যাচ্ছিল সুরঞ্জিতের বাসায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রশ্রয়েই তাঁর ‘কাছের লোক’ হয়ে উঠেছিলেন ওমর ফারুক। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সুরঞ্জিত রেলমন্ত্রী হওয়ার পর ওমর ফারুককে তাঁর এপিএস করে নিয়েছিলেন। সুরঞ্জিতের মন্ত্রিত্বের চার মাস যেতে না যেতেই রেলে অর্থ কেলেঙ্কারি ধরা পড়ে। সে সময় ওমর ফারুকের সঙ্গে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধা ও কমান্ড্যান্ট এনামুল হকও ধরা পড়েন। এ ঘটনার পর এক সপ্তাহের ব্যবধানে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সেবারই প্রথম মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়েছিল তাঁর, তবে তা পাঁচ মাসও ধরে রাখতে পারেননি। চোখের জল মুছতে মুছতে রেল ভবন ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে।

ওমর ফারুকের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের হাওরপাড়ের মির্জাপুর গ্রামে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রামের সাধারণ পরিবেশেই বড় হয়ে উঠেছেন ওমর ফারুক। পরিবারও ছিল স্বনামধন্য। তবে একপর্যায়ে পরিবারে আর্থিক অসচ্ছলতা দেখা দেওয়ায় ফারুক ঢাকায় এসে শুরুতে কারওয়ান বাজারে একটি রেস্টুরেন্টে এক হাজার ২০০ টাকা বেতনে চাকরি নেন। সে সময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএস ছিলেন অনুকূল তালুকদার ডালটন। অনুকূলের সঙ্গে পরিচয়ের পর একসময় দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। অনুকূল ২০০৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়তে লন্ডন যান। তখন তাঁর জায়গা দখল নেন ওমর ফারুক। ধীরে ধীরে সুরঞ্জিতের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন তিনি। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে লোভ। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা নির্বাচনী এলাকা থেকে বিজয়ী হন। পরে মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর ওমর ফারুক তাঁর এপিএস হিসেবে নিয়োগ পান। রেল ভবনে রেলমন্ত্রীর দপ্তরে ফারুক হয়ে ওঠেন প্রভাবশালী। লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সুরঞ্জিতকে দিয়ে রেল মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত ছাড়াও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কাজও করিয়ে নিতেন। এপিএস পরিচয় ব্যবহার করে তদবির বাণিজ্যে মেতে ওঠেন ফারুক। নিজ এলাকা ও শ্বশুরবাড়ির এলাকায় বিপুল জমিজিরাত কেনেন।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুরঞ্জিতের এপিএস থাকাকালে ফারুক ২০১২ সালে নিজ এলাকায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার বাড়িসহ জমি কেনেন। ধর্মপাশা সদর এলাকার রাজনগর গ্রামের আব্দুর রহমানের প্রায় আট কাঠা জমি কেনেন ২০ লাখ টাকায়। সিংগুর গ্রামেও আরো চার কাঠা জমি নেন প্রায় ১০ লাখ টাকায়। রেলমন্ত্রীর এপিএস থাকা অবস্থায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পিসি কালচার হাউজিংয়ের তিন নম্বর সড়কে দুটি ফ্ল্যাট কেনেন ফারুক। দামি ব্র্যান্ডের দুটি গাড়ি কেনেন। মোহাম্মদপুর লিংক রোডের মার্কেন্টাইল ব্যাংক শাখা ও ব্র্যাক ব্যাংকের ধানমণ্ডি শাখায় তাঁর ও তাঁর স্ত্রী ফারজানার নামে সে সময় প্রায় ১৫ কোটি টাকা ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নামে-বেনামে এলাকা ও এলাকার বাইরে আরো সম্পত্তি গড়তে থাকেন ফারুক। ২০১০ সালে সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে নিয়োগ দুর্নীতির সময় ফারুক চাকরি দেওয়ার নাম করে কমপক্ষে ১৫ জনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেন। এমনকি পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেও লোকজনের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছেন ফারুক।

জানা যায়, ওমর ফারুক ধরা পড়ার তিন সপ্তাহ আগে রেলে জুনিয়র অডিটর পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ পদে নিয়োগ পেতে ফারুকের নেতৃত্বে তিনজনের একটি চক্র জনপ্রতি কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিল ঘুষ হিসেবে। অডিটর, জুনিয়র অডিটরসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বেশ কিছু শূন্য পদে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ১২৪টি জুনিয়র পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা হয়। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রবেশপত্রও দেওয়া হয়েছিল। চূড়ান্ত ফলাফলের আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছিল। অডিটর পদে ছয় লাখ, জুনিয়র অডিটর পদে পাঁচ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়া শুরু হয়।

জানা যায়, উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিভিন্ন পদে রেলে নিয়োগপ্রক্রিয়া বছরখানেক বন্ধ থাকার পর জুনিয়র অডিটরসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। আর তখনই শুরু হয়েছিল নিয়োগ বাণিজ্য। রেলের পূর্বাঞ্চলের তত্কালীন মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধা ও রেল নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা এনামুলও বাণিজ্যের যুক্ত ছিলেন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ বাণিজ্য শুরু হয়েছিল। ফারুক সেই নিয়োগ বাণিজ্যের টাকাসহ ধরা পড়ার তিন দিন আগে ৩৫ লাখ টাকা দামের নতুন গাড়ি কিনেছিলেন। নিয়োগ বাণিজ্যের এই সিন্ডিকেটে ছিলেন রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কিছু নেতাও। দূর-দূরান্ত থেকে প্রার্থীরা এসে ফারুকের কাছে ধরনা দিত। রাজধানীর পল্টনের একটি প্রেসের কম্পিউটারের ৩০০ জন প্রার্থীর একটি তালিকাও তৈরি করা হয়েছিল। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই ফারুক চাকরি দেওয়ার কথা বলে ঘুষ নিয়েছেন বলে রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা পরে জানতে পারেন।

টাকা দেওয়ার পরও চাকরি হয়নি, এমন এক ব্যক্তি বলেন, টাকা নিয়েও চাকরি দেয়নি ফারুক।

ফারুকের ঘনিষ্ঠরা জানান, রেলমন্ত্রীর এপিএস পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর ফারুক কিছুদিনের মধ্যে আবার তদবির শুরু করেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ কিছু নেতার সান্নিধ্যে থেকে তাঁদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন। রাজধানীর পল্টনে সাব্বির টাওয়ারে অন্য আরো তিনজনের সঙ্গে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। সেখানে বসেও তদবির করতেন ফারুক।

গতকাল রায়ের পর একাধিকবার চেষ্টা করেও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর এক অনুসারী বলেন, সেই কেলেঙ্কারির পর কিছুদিন প্রকাশ্যে আসেননি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। পরে ধীরে ধীরে সামাজিক অনুষ্ঠান ও এলাকার উন্নয়নকাজে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তিনি। তবে তিনি ওই ঘটনাসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে চান না।

ওমর ফারুকের দণ্ডের বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট বলেন, বিপুল টাকা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছিলেন ফারুক। এভাবে অনেক রাতেই তিনি টাকা নিয়েছেন। তিনি ছিলেন বাহক। তিনি যার হয়ে ঘুষ নিতেন তাদেরও খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনা উচিত।

সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী আক্তারুজ্জামান আহমদ সেলিম বলেন, ‘ওমর ফারুক আমাদের এলাকার সন্তান। সে যেহেতু দুর্নীতি করেছে সেহেতু তার সাজা হয়েছে। এটা তার প্রাপ্য ছিল। ’

পাঁচ বছরের কারাদণ্ড : আদালত প্রতিবেদক জানান, টাকার বস্তাসহ আটক হওয়ার পর দুদক ওমর ফারুকের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানে ওমর ফারুকের ঘোষিত আয়ের বাইরে এক কোটি তিন লাখ ৯৭ হাজার টাকা থাকার তথ্য বেরিয়ে আসে। এ বিষয়ে ২০১২ সালের ১৪ আগস্ট ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা। মামলার তিন মাস পর ওই বছর ২৭ নভেম্বরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ওমর ফারুক। সে সময় তাকে কারাগারে যেতে হয়।

২০১২ সালের ২২ নভেম্বর এ মামলায় ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তাতে বলা হয়, তত্কালীন রেলমন্ত্রীর এপিএস ওমর ফারুক দুদকের কাছে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এক কোটি ৪২ লাখ ৭৩ হাজার ১৮০ টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন। তিন লাখ চার হাজার ৯০০ টাকার তথ্য গোপন করেছেন।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন (অবৈধ সম্পদ অর্জন) ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে দুদকের মামলায় ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। প্রথম অভিযোগটি প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এর দায় থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়।

ওমর ফারুক জামিনে ছিলেন। গতকাল রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে হাজির হন। তাঁর উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে কারাদণ্ড দেওয়ার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট পূর্ণেন্দু দেবনাথ পিনাকি। তিনি বলেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

প্রসঙ্গত, টাকাসহ ওমর ফারুকের সঙ্গে ধরা পড়া ইউসুফ আলী মৃধাকেও এরই মধ্য পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে দুদকের করা মামলার রায়ে গত বছরের আগস্টে তাঁকে এ দণ্ড দেওয়া হয়।

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
Loading...
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Loading...
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন # sukritieibela@gmail.com

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

   বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: sukritieibela@gmail.com

  মোবাইল: +8801711 98 15 52 

            +8801517-29 00 01

 

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71