বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০
বৃহঃস্পতিবার, ২২শে শ্রাবণ ১৪২৭
সর্বশেষ
 
 
মহা অসহায়ত্বের এই দিনে আমাদের সকলকে মিলেই বাঁচতে হবে, বাঁচাতে হবে নিজেকে এবং দেশকে !
প্রকাশ: ০৪:১১ pm ২০-০৪-২০২০ হালনাগাদ: ১২:২২ am ২৮-০৪-২০২০
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


কোন ভাবতাত্বিক গুরুগম্ভীর আলোচনায় না যেয়ে ঠিক সোজাসুজি মূল বিষয়ে যাওয়াটাই বাঞ্চণীয় বলে আমি মনে করি। প্রিয় বাংলাদেশ আর আমরা যারা এরং সারা বিশ্ব আজ অস্থিত্বের হুমকীর মধ্যে। কেউ সঠিকভাবে জানে না কি তাদের ভবিষৎ। সকলেই জ্ঞানগর্ব আলোচনা করছে, যা তাদের ব্যক্তি বক্তব্যেরই অংশ। আমরা সকলেই সামাজিক মাধ্যম মিডিয়া টিভিতে সারাক্ষণ চোখ আর কান পেতে বসে আছি। এই এলো বুঝি সমাধানের খবর। যে যা বলছে আমরা মনে করছি এটাই বুঝি সঠিক! কারণ এটাই - আমরা সকলেই অজ্ঞ এই বিষটা নিয়ে। চীনের (হুয়ান) শহর থেকে সৃষ্ঠ এ করোনা ভাইরাস আজ সারা পৃথিবীর এ্ক মহা আতংকের নাম। মোটামুটি খেয়ে পরে বেঁচে থাকার আমার বাংলাদেশ আজ এ্ক মহাসংকটের দ্বারপ্রান্তে। আজ এপ্রিলের ২১ তারিখ, করোনার প্রবল ছোবল কত মানুষের প্রাণ নেবে তা বুঝতে গেলে আরো অন্তত এ্ক মাস অপেক্ষাতো করতেই হবে। ইতিমধ্যে একমাস হতে চললো আমরা সকলে ঠুঁটো জগন্নাথ এর মতো ঘরের মধ্যে বন্দি আছি। সুতরাং আগামী একমাস আমাদের অপেক্ষা তো করতেই হবে।

ভেবে দেখুন ১৭ কোটি মানুষের কত কোটি মানুষ দিন আনে দিন খায়! প্রথমত কৃষক-শ্রমিক-দিনমজুর তারপর নিম্ন মধ্যবিত্ত একটু স্বচ্চল এবং পরবর্তীতে অন্যরা কেউ কিন্তু বাদ যাবে না বিপদ থেকে। এখনই দরকার আমাদের সমন্বীত পরিকল্পনার। আমি এখানে এমনই একটি পরিকল্পনার প্রস্তাবনা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

করোনা মহামারি সম্পর্কিত একটি জাতীয় সমন্বয় কমিটি এবং স্ব স্ব উপকমিটি করা আশু প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। উক্ত জাতীয় কমিটির প্রধান হবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সেই কমিটিতে কমপক্ষে তিন জন স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিগত বা বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত বা অভিজ্ঞতা সমপন্ন ব্যক্তিদের সদস্য করতে হবে। জাতীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা নির্ভর করবে কতগুলো উপকমিটি করা হবে তার উপর।

https://www.facebook.com/100009499747343/posts/2621474078179225/

অর্থাৎ যে কয়টা উপকমিটি হবে সেই উপকমিটিতে অবশ্যই ঐ জাতীয় কমিটির তিন জন মূল ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া জাতীয় কমিটিতে পদাধিকার বলে সেনা নৌ বিমান বাহিনীর প্রধান, বিজিবি প্রধান, পুলিশ প্রধান, মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব অবশ্য্ই অন্তভূক্ত থাকবেন। জাতীয় কমিটির সমন্বয়ক হিসেবে সেনা প্রধানকেই দায়িত্ব দিলে এমন  একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অনেক কার্যকরী গুরুত্ব বহন করবে বলে আমি মনে করি। আমি এবার গুরুত্ব অনুযায়ী উপকমিটি গুলো কিরূপ হতে পারে তা তুরে ধরার চেষ্টা করছি-

১. স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা উপকমিটি।

২. কৃষক ও কৃষিপণ্য উৎপাদন, খাদ্য সংরক্ষণ ও বিপনন উপকমিটি।

৩. আর্থিক সেবা ও ব্যাংকিং খাত বিষয়ক উপকমিটি।

৪. অর্থ উর্পাজন ও সহায়তা খাত বিষয়ক উপকমিটি।

৫. সকল প্রকার শিক্ষা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক উপকমিটি।

৬. প্রশাসনিক, আইন-শৃংখলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপকমিটি।

৭. ব্যবসা-বাণিজ্য-শিল্প সম্পর্কিত উপকমিটি।

৮. প্রকল্প ও উন্নয়ন খাত বিষয়ক উপকমিটি।

৯. আরো যদি প্রয়োজন হয়...।

তবে এ কাজ শুরু করার আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জাতির উদ্দেশ্যে জাতীয় দূর্ঘোগের এ সময় দল মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষকে যার যেখানে যেভাবে সুযোগ আছে তা দেশের জন্য মানুষের জন্য করার আহবান জানাতে হবে। মানুষ, দেশ বেঁচে থাকলে রাজনীতি পরেও করা যাবে। সুতরাং আহবান হতে হবে সর্বজন গ্রাহ্য। যে কোনো জাতীয় বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে কথা বলবেন কারণ অন্য কোনো ব্যক্তির জন গুরুত্ব নেই। জাতির বিগত যে কোন সংকট মুহুতে সেনাবাহিনীই অগ্রনী ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এরকম পরিস্থিতিতে সেনা প্রধান জাতির উদ্দেশ্যে কথা বললেও বাংলাদেশের মানুষ অতীতে মেনে নিয়েছে বর্তমানেও মেনে নেবে বলে আমি মনে করি।

 আমি যে উপকমিটির প্রস্তাব করলাম তারা স্ব স্ব ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করার জন্য জেলা-উপজেলাতে যাকে যেভাবে প্রয়োজন ব্যবহার করার অধিকার প্রাপ্ত হতে হবে এবং প্রতিটি উপকমিটি যখন যেভাবে দরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে বাধ্য থাকবে এবং তাৎক্ষণিক যেকোন পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার প্রাপ্ত থাকতে হবে। আমি সর্বপ্রথম যে কাজটি করার সুপারিশ করবো তা হলো -

ক) কৃষি খাদ্য বিষয়ক উপকমিটি : এ কমিটি অনতি বিলম্বে তার কাজ শুরু করতে হবে। কারণ আমাদের ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। সাথে সাথে আলু, ডাল সরিষা সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সবজি উৎপাদন এবং যা উৎপাদন হয়েছে তা সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা অবশ্যয় করতে হবে। কারণ খাদ্য সংকট প্রকট হলে কোন আইন শৃংখলা বাহিনী তা দমাতে পারবে না। সুতরাং এ ক্ষেত্রটিই সর্ব প্রথম। আমি মনে করি সরকারকে জনগনের উৎপাদিত খাদ্যশস্য ক্রয় করে নিতে হবে এখনই। সরকার খাদ্যশস্য (ধান-চাল-গম) নগদ টাকায় ক্রয় করে কৃষকের কাছেই রেখে দিবে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। কাজটা হতে পারে সংশ্লিষ্ট উপকমিটির একটি ক্রয় কমিটির মাধ্যমে। যেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে এবং অন্যান্য জন প্রতিনিধি ও বিশিষ্টজন মিলে ১১ সদস্যের একটি ক্রয় কমিটি করা যেতে পারে। খাদ্য শস্য ক্রয়ের লিষ্ট জেলা হয়ে সংশ্লিষ্ট উপকমিটির নিকট তাৎক্ষনিক প্রেরণ করতে হবে।

খ) শিক্ষা সম্পর্কিত উপকমিটি প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে রাখার জন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থাটি গ্রহন করতে পারে। তা হলো স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের একটি এ্যাপস থাকবে। স্কুলের স্কাসের মতোই ঐ এ্যাপস এর মাধ্যমে তার ছাত্র-ছাত্রীদের ভিডিও কনফারেনসিং মাধ্যমে বা অন্য উপায়েও শিক্ষা প্রদান করতে পারবে। এক্ষেত্রে ব্যান্ড উইথ এর দাম সরকার চাইলে কমিয়ে দিলেই হবে। ১০০ ভাগ না হলেও ৭০-৮০ ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ কার্যক্রমে আনা এখনই সম্ভব।

গ) স্বাস্থ্য সেবা ক্ষেত্রেও শিক্ষা বিভাগের মতো ভিডিও কনফারেনসিং এর মাধ্যমে সরাসরি ডাক্তার ও রোগী আলোচনার মাধ্যমে সেবা প্রদান সম্ভব। এক্ষেত্রেও অতীব জরুরী রোগী ব্যতিরেকে সেবা প্রদান সম্ভব। করোনা রোগীর জন্য নির্ধারিত হাসপাতালেই চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে সেখানে অন্য কোনো রোগীর সেবা প্রদান করা যাবে না।

এভাবে অন্যান্য সকল উপকমিটি পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে এবং একটি আপডেটেট সঠিক তথ্য উপকমিটি-জাতীয় কমিটি ও প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সকলের নখর্দপনে থাকবে। আমাদের সকলের জেনে রাখা ভালো সরকার ইতিমধ্যে ৭২০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষনা করেছে। এই টাকা যেন যথাতথা ব্যবহার না হয় অর্থাৎ চিনি যেন পিঁপড়ায় না খাই সে বিষয়ে সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে আমার উপরিউক্ত প্রস্তাবনা সঠিক হবে বলে মনে করি। 

সর্বশেষ বার্তা এই যে করোনা মহামারী সম্পর্কিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের প্রদানকৃত পদক্ষেপ যদি গ্রহণ না করা হয়, তবে করোনা ভবিষ্যতে কেমন রূপ নিতে পারে তা বলে রাখি-  দেশে  সার্বিক বিপর্যয় ঘটবে। পর্যাপ্ত সেচ্ছাসেবী পাওয়া যাবে না। কৃষি উৎপাদন না থাকায় টাকা থাকবে, খাবার থাকবে না। মোবাইলে ব্যালেন্স থাকবে কিন্তু নেটওয়ার্ক থাকবে না, কারণ কর্মীই তো নেই। সংবাদমাধ্যমগুলো ১০দিনের পুরোনো খবর পুনঃপ্রচার করতে থাকবে। গ্যাস, পানি, বিদ্যুত সংকটে পড়তে হবে। কারণ কেউই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরুরি পরিষেবা দিতে বের হবে না। সরকার অসহায় হয়ে পড়বে। সরকার আন্তরিক হবে, কাজ করতে চাইবে কিন্তু জনবল আর রিসোর্স থাকবে না। এখনি আমাদের আরো কৌশলী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এখন খামখেয়ালি করে পুরো দেশকে কয়েকযুগ পিছিয়ে দেয়া নেহাত বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়। সকলের সাবধানতা ও নিরাপদ জীবন কামনা করে শেষ করছি।

সুকৃতি কুমার মন্ডল

সম্পাদক, এইবেলা ডটকম

সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71