সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭
সোমবার, ৮ই কার্তিক ১৪২৪
সর্বশেষ
 
 
শয়তানের বাইবেল
প্রকাশ: ০২:১৬ am ১৪-০৫-২০১৫ হালনাগাদ: ০২:১৬ am ১৪-০৫-২০১৫
 
 
 


কোডেক্স গিগাসকে বলা হয় মধ্যযুগের সময়কার সবচেয়ে বৃহত পাণ্ডুলিপি। এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত মধ্যযুগের নিদর্শনের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান এবং রহস্যময় পাণ্ডুলিপি এটা। ঠিক কে বা কারা এই দীর্ঘ পাণ্ডুলিপিটি রচনা করেছিলেন তা শত চেষ্টা করেও এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা। একদল বিজ্ঞানীর মতে কয়েকজন লেখক মিলে এই পাণ্ডুলিপিটি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু অপর একদল বিজ্ঞানীরা কার্বন টেস্ট করে জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন কীটপতঙ্গের শরীরের তরল পদার্থকে রং হিসেবে কাজে লাগিয়ে একজন মাত্র ব্যাক্তিই এটা রচনা করেন।
পাণ্ডুলিপিটি যে শুধু লেখকের কারণেই বিখ্যাত তা নয়। বইটি লম্বায় ৩৬ ইঞ্চি এবং এর পুরুত্ব প্রায় ৯ ইঞ্চি। বিশেষজ্ঞরা হিসেব করে জানিয়েছেন যে, এই পাণ্ডুলিপিটি তৈরি করতে ১৬০টির বেশি পশুর চামড়া ব্যবহার করতে হয়েছে লেখককে। এছাড়াও মধ্যযুগের সেই সময়ে কেউ একজন বিভিন্ন রং ব্যবহার করে অদ্ভুত সব প্রাণীর ছবি সম্বলিত এই পাণ্ডুলিপিটি কেন তৈরি করেছিলেন তা এখনও জানা যায়নি। বর্তমানে বইটি সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। বইটি এতোটাই ভারি যে দুইজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে একযোগে চেষ্টা করতে হয় স্থানান্তরে। এর ওজন প্রায় ৭৪ কেজির বেশি।
প্রাচীন বিভিন্ন মিথ মারফত জানাযায়, সন্যাসব্রত যথযোগ্যভাবে পালন না করার কারণে এক সন্যাসীকে শাস্তি প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সন্যাসী শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য শাস্তিদাতাকে এই বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, এক রাতের মধ্যে তিনি এমন একটি বই লিখবেন যেখানে বিশ্বের মানুষের তাবৎ জ্ঞান লিপিবদ্ধ করা থাকবে। শাস্তিদাতা এই প্রস্তাবে রাজি হলে মধ্যরাত্তিরে লিখতে বসে টের পেলেন যে একরাতের মধ্যে একাজ তার পক্ষে করা সম্ভব হবে না। তাই তিনি তখন শয়তান লুসিফারের শরণ নিলেন। নিজের আত্মার বিনিময়ে সন্যাসী লুসিফারের সাহায্য চাইলে সেই আবেদন মঞ্জুর হয় এবং লুসিফার সেই বইটির শুরুতে নিজের একটি ছবি একে লিখা শুরু করেন। মিথের শেষে কি হয় তা আর কেউ জানে না।
GIGASসুইডেনের জাতীয় জাদুঘরের হস্তলেখা বিশারদ মিখাইল গুল্লিক কয়েকবছর আগে শয়তানের বাইবেল নামে খ্যাত পাণ্ডুলিপিটি পরীক্ষা করে দেখেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে বইটি একজনের হাতে লিখিত। এছাড়াও বইটির এক স্থানে ‘hermann inclusis’ নামাঙ্কিত একটি সাক্ষর আছে, যা বইটির একজন লেখক থাকার ব্যাপারটিকে সাক্ষ্য দেয়। গুল্লিক আরও জানান যে, এমন একজন ব্যাক্তি এই পাণ্ডুলিপিটি লিখেছেন যিনি কীটপতঙ্গ সম্পর্কে খুব ভালো জানতেন এবং কোন কীটের শরীর থেকে কোন রং পাওয়া যাবে সেব্যাপারে দক্ষ ছিলেন তিনি। তাইতো পাণ্ডুলিপিতে তিনি নানান রংয়ের ব্যবহার করেছিলেন।
ইতোমধ্যে পাণ্ডুলিপিটিকে বিখ্যাত নকলনবিশরা পুনরুদ্ধার করছেন নতুন করে লিখে। দ্য লাইনাপের তথ্যানুযায়ী, কয়েকজন দক্ষ নকলনবিশের প্রায় পাঁচ বছর লেগে যাবে এই পুরো পাণ্ডুলিপিটির ক্যালিওগ্রাফি ঠিকঠাক লিপিবদ্ধ করতে। প্রকৃতপক্ষে পাণ্ডুলিপিটির লেখক নিশ্চিতভাবেই উল্লেখযোগ্য কেউ ছিলেন যার হাত ধরে এই অসাধারণ কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ বাইবেলের চেয়েও পাঁচটি বড় কলাম বেশি এই শয়তানের বাইবেল নামে খ্যাত কোডেক্স গিগাস।

কিছু গবেষক অবশ্য মনে করেন পাণ্ডুলিপিটিতে থাকা সাক্ষর নিয়ে আসলে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। কারণ লাতিন ভাষায় ‘inclusus’ মানে হলো ভয়ংকর শাস্তি। যদি এই মানে দাড়ায় তাহলে এবার নতুন করে ভেবে দেখা যেতে পারে ওই সাক্ষরটি কি আসলেই কারও নাম নাকি অন্য কোনো সূত্র যা আমাদের রহস্য সমাধানে সাহায্য করবে। অথবা এমনও হতে পারে যে, লেখক নিজেই চাননি ভবিষ্যতের মানুষ এই বইয়ের অর্ন্তনির্হিত বক্তব্য পড়তে পারুক।

এইবেলা.কম/এইচ আর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
Loading...
 
 
 
Loading...
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন # sukritieibela@gmail.com

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

   বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: sukritieibela@gmail.com

  মোবাইল: +8801711 98 15 52 

            +8801517-29 00 01

 

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71