বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭
বৃহঃস্পতিবার, ৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৪
 
 
শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ
প্রকাশ: ০৭:৫০ am ১৫-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ০৭:৫০ am ১৫-০৮-২০১৭
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ। জাতীয় শোক দিবস। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রুদের প্ররোচনায় মানবতার দুশমন, ঘৃণ্য ঘাতকরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ কারণে আজ বিভীষিকাময় ইতিহাসের এক ভয়ঙ্কর দিন।

১৯৭৫ সালের এইদিনের কালরাত্রিতে ঘটেছিল ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ঘটনা। সেদিন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা করা হয়েছিল কিন্তু তার অবিনশ্বর চেতনা ও আদর্শ মৃত্যুঞ্জয়ী। ঘাতকের সাধ্য ছিল না ইতিহাসের সেই মহানায়কের অস্তিত্বকে বিনাশ করে। সেদিনের সেই নৃশংস এ ঘটনায় বাংলার অবিসংবাদিত নেতা স্বাধীন                বাংলাদেশের স্থপতি, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সেদিন আর যারা প্রাণ হারিয়েছিলেন তারা হলেন- বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিল। ইতিহাসের এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সেদিন আরো প্রাণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খানসহ অনেকে। আগস্ট মাসটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে শোকের মাসে পরিণত হয়েছে আজকের এই দিনটির জন্য।

ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাসভবনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হলেও সেদিন দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। সে সময় স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানিতে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে। রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে আজ পালিত হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী।

বঙ্গবন্ধুর জীবন খুব একটা দীর্ঘ ছিল না। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তিনি তত্কালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শেখ লুত্ফর রহমান ছিলেন স্থানীয় দায়রা আদালতের সেরেস্তাদার। মা সায়েরা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে সপরিবারে নিহত হওয়ার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ৫৫ বছর। পৃথিবীতে খুব কম নেতাকেই পাওয়া যাবে যিনি জীবনের এই সময়কালের বেশিরভাগটাই কারাগারে কাটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার জীবনের বেশির ভাগ সময়ই কারাগারে কাটিয়েছেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ৬৮ এর সরকার বিরোধী আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এসবই ছাপিয়ে যায় তার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ঘটনা।  

এবার অনেকটা ভিন্ন আবহে এসেছে ১৫ আগস্ট। রাজধানীসহ সারাদেশেই প্রতিটি মোড়ে মোড়ে, গ্রাম-মহল্লায়, হাটে-বাজারে হাজার হাজার শোকের তোরণ, কালো ব্যানার, পতাকা, ফেস্টুন, পোস্টারে ছেয়ে গেছে দেশের পথ প্রান্তর। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের পাশাপাশি সারাদেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষ, সংগঠন এবার বিস্তারিত কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতিকে স্মরণ করবেন।

বঙ্গবন্ধুর পাঁচ আত্মস্বীকৃত ঘৃণ্য খুনিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। তবে এখনো বিদেশের মাটিতে পলাতক রয়েছে আরো ছয় খুনি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে এই ছয় খুনি প্রায় একযুগ ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পিতৃ হন্তারক এ খুনিরা হলো লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব) এ এম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব.) এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব) আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেমউদ্দিন খান। পলাতক অবস্থায় মারা গেছে আরেক আসামি আজিজ পাশা।

কর্মসূচি

রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দেশব্যাপী আজ পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী, জাতীয় শোক দিবস। আজ সরকারি ছুটির দিন। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে আজ। বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। দিনের শুরুতে সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় কোরআন তেলাওয়াত ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে গিয়ে ১৫ আগস্টে শহীদ বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য ও অন্য শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। পরে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সকাল ১০টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষপার্ঘ্য অর্পণ করবেন। সেখানে ফাতেহা পাঠ, বিশেষ মোনাজাত এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ দুটি স্থানেই তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল বঙ্গবন্ধুর প্রতি গার্ড অব অনার প্রদান করবে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে তাত্পর্যপূর্ণ কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হামদ্ ও নাত প্রতিযোগিতা ও দোয়ার আয়োজন করবে। সারাদেশে সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে।

বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন শোক দিবসের অনুষ্ঠানসমূহ সরাসরি সমপ্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।  

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

জাতির পিতার ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী পালনে আওয়ামী লীগ আজ সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ছয়টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক গার্ড অব অনার প্রদান এবং মোনাজাত, ৬টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সকল সংগঠন এবং নগরীর প্রতিটি শাখা থেকে শোক মিছিলসহ বঙ্গবন্ধু ভবনের সম্মুখে আগমন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন, সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল, সকাল ১০টায় টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত, মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল। টুঙ্গীপাড়ার কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি প্রতিনিধি দল গেছেন। বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের মূলস্তম্ভ, বঙ্গবন্ধু ভবন, মুক্তমঞ্চ, লাইব্রেরি, সংগ্রহশালা, ক্যাফেটরিয়া, মসজিদ, বকুলতলা চত্বর এলাকার পাশাপাশি মূলফটক থেকে সমাধিসৌধে যাওয়ার রাস্তার দু’পাশে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

বাদ আছর মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দেশের সকল মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। বাদ জোহর  দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
প্রচ

 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
Loading...
 
 
 
 
 
 
 
Loading...
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন # sukritieibela@gmail.com

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

   বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: sukritieibela@gmail.com

  মোবাইল: +8801711 98 15 52 

            +8801517-29 00 01

 

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71