শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০১৭
শুক্রবার, ১০ই চৈত্র ১৪২৩
সর্বশেষ
 
 
শরীয়তপুরে চিকিৎসকের অবহেলায় ২ নব-জাতকের মৃত্যু
প্রকাশ: ০৪:১৭ pm ২৮-০৯-২০১৬ হালনাগাদ: ০৪:১৭ pm ২৮-০৯-২০১৬
 
 
 


শরীয়তপুর থেকে: শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলা ও অক্সিজেনের অপ্রতুলতায় ২৫ মিনিটের ব্যবধানে ২ নব-জাতকের মৃত্যু হয়েছে। নব-জাতক ২ জনের বাড়িই ভেদরগঞ্জ উপজেলায়। এ ঘটনায় দায়িত্বরত নার্সকে মারধর করেছে নিহত নবজাতকের পরিবার।

নার্সিং সুপারভাইজর বলেন, রোগী রেফার্ড করার দায়িত্ব ডাক্তারের তাছাড়া অক্সিজেনের অভাবেই এ ঘটনা ঘটেছে। দায়িত্ব অবহেলার কথা অস্বীকার করলেন দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মিজানুর রহমান। 

হাসপাতালের ভর্তি রেজিষ্টার ও চিকিৎসাপত্র থেকে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার পুটিয়া গ্রামের শহিদ তার ১দিন বয়সী নব-জাতককে নিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় ও একই উপজেলার চরভাগা গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ২দিন বয়সী নব-জাতককে নিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে নবজাতক দু’জনেরই অক্সিজেনের প্রয়োজন দেখা দেয়। হাসপাতাল মহিলা ওয়ার্ডে শিশু, মহিলা, সার্জারী, গাইনী, অর্থপেডিক ও লেবার ওয়ার্ডের সকল রোগীর জন্য একটি মাত্র অক্সিজেন বরাদ্দ থাকায় এক সাথে একাধিক রোগীকে অক্সিজেন দেয়া সম্ভব হয় না। তখন এক নব-জাতক থেকে অক্সিজেন খুলে অন্য নবজাতককে দেয়ার পরে প্রথম নবজাতক অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। তখন অক্সিজেন খুলে প্রথম নবজাতককে দেয়ার সাথেই মঙ্গলবার রাত ১০:১৫টায় প্রথম নবজাতক মার যায়। এর ২৫ মিনিট পরে অপর নবজাতক অক্সিজেনের অভাবে রাত ১০:৪০টায় মারা যায়। তখন রোগীর সাথে থাকা স্বজনরা দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স স্মৃতি বিশ্বাসকে মারধর করে। ঘটনা শুনে তাতক্ষনিক ঘটনাস্থলে গিয়ে রোগীদের কোন অভিভাবকের দেখা পাওয়া যায়নি।

দায়িত্বরত নার্স স্মৃতি বিশ্বাস বলেন, রোগীর অবস্থা কেমন তা ডাক্তার বুঝেন। কখন রোগীকে রেফার্ড করেত হবে তার সিদ্ধান্ত ডাক্তার নিবেন। আমরা ডাক্তারের আদেশ পালন করি। আমাদের এত বড় মহিলা ওয়ার্ডে ১টা অক্সিজেন ছিল। এক সাথে তিন জন রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। তখন ডাক্তার সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় কাকে অক্সিজেন দেয়া প্রয়োজন। একজন রোগী থেকে অক্সিজেন খুলে অপর রোগীর কাছে যেতেই রোগী মারা যায়। মূলত অক্সিজেনের অভাবেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রোগীর স্বজনরা আমাকে মারধর করেছে।

নাসিং সুপারভাইজার হালিমা বলেন, হাসপাতালের জরুরী বিভাগ, ডায়রিয়া ওয়ার্ড, ওটি, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে মিলে ৫টি অক্সিজেন রয়েছে। হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে শিশু, মহিলা, সার্জারী, গাইনী, অর্থপেডিক ও লেবার ওয়ার্ডের সকল রোগীর জন্য একটি মাত্র অক্সিজেন বরাদ্দ থাকায় এক সাথে একাধিক রোগীকে অক্সিজেন দেয়া সম্ভব হয় না। শুধু মহিলা ওয়ার্ডের জন্য ৫-৭টি অক্সিজেন দরকার। অক্সিজেনের অভাবেই এ সমস্যা হয়ে থাকে।

দায়িত্বরত নবজাতক, শিশু ও কিশোর বিশেষজ্ঞ ডাঃ মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসকের চিকিৎসা অবহেলায় শিশুর মৃত্যু হয় নাই। একই সময় একাধিক রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। প্রকৃত পক্ষে অক্সিজেনের অভাবেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

এ ব্যাপারে অফিস সময়ে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শেখ মোস্তফা খোকন এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করতে গিয়ে কক্ষটি তালাবন্ধ পাওয়া যায়।

সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, সিভিল সার্জন স্যার আমাকে দায়িত্বে রেখে আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। দুুটি শিশু মৃত্যুর বিষয়ে শুনেছি। একই সাথে দুটি বাচ্চা অসুস্থ্য হওয়ায় ডাঃ মিজানুর রহমান সার্বক্ষণিক তত্ববধানে ছিলো। অক্সিজেনের অভাবের কারনে বাচ্চা দুটি মারা যায়।

এইবেলা ডটকম/সৈকত/এসবিএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

News Room: news@eibela.com, info.eibela@gmail.com, Editor: editor@eibela.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71