সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০
সোমবার, ২৬শে শ্রাবণ ১৪২৭
সর্বশেষ
 
 
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে সাতক্ষীরায় গ্রেফতার সাহেদ
প্রকাশ: ০৪:২৫ pm ১৫-০৭-২০২০ হালনাগাদ: ০৪:২৯ pm ১৫-০৭-২০২০
 
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
 
 
 
 


করোনা চিকিৎসার নামে প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় গ্রেফতার হয়েছেন। পরিচয় আড়াল করতে বোরকা পরিহিত অবস্থায় নৌকাযোগে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সময় তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাব-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের অধিনায়ক সিনিয়র এএসপি বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, বুধবার ১৫ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দেবহাটা সীমান্তবর্তী কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর থেকে একটি গুলিভর্তি পিস্তলসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর একটি হেলিকপ্টারে করে সাহেদকে নিয়ে সকাল ৯টার দিকে ঢাকার পুরাতন বিমানবন্দরে পৌঁছান র‌্যাব সদস্যরা। পরে তাকে বিপুল নিরাপত্তার মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয় উত্তরায় র‌্যাব সদরদপ্তরে।

সাহেদকে হেলিকপ্টার থেকে নামানোর পর এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার বলেন, ‘সাহেদকে গ্রেফতারের জন্য আমরা আগে থেকেই সীমান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ভোরে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।’
 
তিনি জানান, ‘র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রতারক সাহেদকে নৌকা যোগে সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার করা হয়। নিজেকে আড়াল করতে সাহেদ বোরকা পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।’

এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি ভর্তি একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয় বলেও জানান তিনি।

সাহেদ উঁচুমানের প্রতারক উল্লেখ করে আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘সাহেদ বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে ছদ্মবেশ ধারণ করে আত্মগোপনের চেষ্টা করছিলেন। তার বাড়ি সাতক্ষীরা হলেও তিনি বাড়ি না গিয়ে বিভিন্ন গাড়ি পরিবর্তন করে আশে-পাশে ঘুরছিলেন। তাকে ধরতে র‌্যাব সারাদেশব্যপী সম্ভাব্য সকল জায়গায় নজরদারি করছিল।’
 
গত ৬ ও ৭ জুলাই উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতাল এবং রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান দপ্তরে র‌্যাবের অভিযানের পর থেকে সাহেদ লাপাত্তা ছিলেন।

অভিযানে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট, করোনাভাইরাস চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

র‌্যাবের ওই অভিযানের পর রিজেন্টের মালিক মোহাম্মদ সাহেদের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির খবরও সংবাদমাধ্যমে আসতে শুরু করে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক পরিচয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কীভাবে তিনি নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন, সেসব তথ্যও এখন গণমাধ্যমে আসছে।

রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর ৭ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় প্রতারণার অভিযোগে সাহেদকে এক নম্বর আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে র‌্যাব। সাহেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তার ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়।

আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাহেদ

এবার প্রথম নয় এর আগেও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাহেদ। জেলেও ছিলেন তিনি। জেল থেকে বেরিয়ে ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয়ে চালাতে থাকেন অপকর্ম।

সূত্র বলছে, সাহেদের অপকর্মের হাতেখড়ি চারদলীয় জোট সরকারের আমলে। ওই সময়ে জামায়াত নেতা ও যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী এবং তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। মামুনের হাত ধরে হাওয়া ভবন পর্যন্ত পৌঁছে যান এই প্রতারক। এরপর প্রতারণার নানা ব্যবসা খুলে বসেন তিনি। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামুনের সঙ্গেই জেলে যেতে হয় তাকে। জেল থেকে বেরিয়ে ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয়ে চালাতে থাকেন অপকর্ম। এভাবে হয়ে যান শত শত কোটি টাকার মালিক।

দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, তিনি বীরদর্পে সচিবালয়ে ঘুরে বেড়াতেন। সচিব থেকে শুরু করে বড় কর্তাদের অফিসে দাপটের সঙ্গে কথা বলতেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র বলছে, ওই ব্যক্তি কয়েক বছর আগে পুলিশ সদর দপ্তরে নানা পরিচয়ে নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কক্ষে ঘোরাঘুরি করতেন।

জেল থেকে বেরিয়ে সাহেদ ২০১১ সালে ধানমন্ডিতে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে 'বিডিএস ক্লিক ওয়ান' নামে এমএলএম ব্যবসা শুরু করেন। পরে গ্রাহকের অন্তত ৫০০ কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দেন। মেজর ইফতেখার করিম চৌধুরী নামে ওই প্রতারণা করেন তিনি। প্রতারণার শিকার লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করলে তিনি ভারতে পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় কয়েকটি মামলা হয়। গোপনে দেশে ফিরে মামলাগুলোয় জামিন নিয়ে আবার শুরু করেন একই ব্যবসা।

এরপর একে একে রিজেন্ট হসপিটাল লিমিটেড (মিরপুর), রিজেন্ট হসপিটাল লিমিটেড (উত্তরা), ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজ, রিজেন্ট ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও হোটেল মিলিনার মালিক হন সাহেদ। সবশেষে দেশে চলমান করোনা দুর্যোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা আর টেস্ট নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেন।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71