মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
মঙ্গলবার, ১৬ই ফাল্গুন ১৪২৩
সর্বশেষ
 
 
বেলকুচিতে বাঁশ ও বেত শিল্প হারিয়ে যেতে  বসেছে
প্রকাশ: ০৯:৫৬ am ২৯-০৩-২০১৬ হালনাগাদ: ০৯:৫৬ am ২৯-০৩-২০১৬
 
 
 


সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: বাড়ির পাশে বাঁশঝাড় বা বেত-বনের ঐতিহ্য গ্রাম বাংলার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বনাঞ্চলের বাইরেও এখন যেভাবে গ্রামীণ বৃক্ষরাজি উজাড় হচ্ছে তাতে  হারিয়ে যাচ্ছে এ জাতীয় অজস্র গাছপালা।

এক সময় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদে বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি হত হাজারো পণ্যসামগ্রী। ঘরের কাছে ঝাড় থেকে তরতাজা বাঁশ-বেত কেটে গৃহিনীরা তৈরি করতেন হরেক রকমের জিনিস। অনেকে আবার এসব বিক্রি করে জীবিকাও নির্বাহ করত। দরিদ্র পরিবারের অনেক লোকের উপার্জনের একমাত্র  পথও ছিল এগুলো। কিন্তু আজ সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার কয়টি গ্রামে এ হস্তশিল্পটি উপার্জনের পেশা হিসাবে এখনও বেঁচে আছে তা ভাবনার বিষয়।

এখন একমাত্র বৈশাখী শাড়ী, পাঞ্জাবী আর গেঞ্জিতে আর্ট করা স্মৃতি গুলো দেখা যায়।  বৈশাখ মাসের কোন কোন গ্রামীণ উৎসব বা মেলাতেও বাঁশ ও বেত শিল্পীদের তৈরি উন্নতমানের খোল, চাটাই, কুলা, মোড়া, টোপা চোখে পড়ে খুব দৈবাৎ। যেখানে তালপাতার হাতপাখারই কদর নেই, সেখানে এগুলো তো দূরের কথা।

তৃণমুলে বিদ্যুৎ যেমন পাখার চাহিদা কমিয়েছে, তেমনি মৎস্য শিকার, চাষাবাদ, ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র সকল ক্ষেত্রেই কমেছে বাঁশ আর বেত জাতীয় হস্ত শিল্পের কদর। প্রত্যেকেই উদ্ভিগ্ন কারণ যতই দিন যাচ্ছে ততই কমে যাচ্ছে এই হস্তশিল্পের চাহিদা। সেই সাথে বেতের ফার্ণিচার, মোড়া এর দামও উত্তোরত্তর বাড়ছে। একদিকে মূল্যবৃদ্ধি, দুস্প্রাপ্যতা আর অন্যদিকে প্লাস্টিক, সিলভার, মেলামাইন জাতীয় হালকা কিন্তু টেকসই সামগ্রী নাগরিক জীবনে অপরিহার্য হয়ে পড়ছে। তাহলে চিরাচরিত বাংলার বাঁশ এবং বেত শিল্পীরা বেকার ও কর্মহীন না হয়ে উপায় কি?

বেলকুচি উপজেলার হাতে গোনা কয়েকটি গ্রামে শুধুমাত্র বাঁশ দ্বারা তৈরি চাল ঝাড়ার জন্য কুলা, চালুন, নারিকেলের সলা দিয়ে সলা তৈরি করছে। প্রতি হাটে হাটে হাটে বিক্রি হয় এটাই একমাত্র চোখে পড়ে সাধারণ মানুষের। ৯০ দশকের পর থেকে ধীরগতিতে কমে যাচ্ছে আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বাঁশ ও বেতের সামগ্রী গুলোর ব্যবহার। আগামী দশকে হয়তো বা ফ্রেমে বাঁধা থাকবে দেখা যাবে শুধুমাত্র স্মৃতি হিসাবে।

 

এইবেলা ডটকম /চন্দন/ আরটি/ এসজি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Migration
 
আরও খবর

 
 
 

News Room: news@eibela.com, info.eibela@gmail.com, Editor: editor@eibela.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71