শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
শুক্রবার, ১৬ই ফাল্গুন ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
বাংলার অগ্নিকন্যা বীণা দাস!!!
প্রকাশ: ০৪:৪২ pm ২৮-১২-২০১৯ হালনাগাদ: ০৪:৪২ pm ২৮-১২-২০১৯
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


১৯৩২ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারী, সিনেট হলে চলছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসব। মঞ্চে উপস্থিত আচার্য বাংলার গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসন ও আরও অনেক বিশিষ্ট অতিথি। একে একে তাদের হাত থেকে মানপত্র নিচ্ছে কৃতি ছাত্রছাত্রীরা, শেষদিকে মঞ্চে উঠে এলো কনভোকেশন গাউন পরিহিতা এক বঙ্গ তনয়া। গভর্নর করমর্দন করার জন্য যেই হাত বাড়িয়েছেন অমনি গাউনের ভেতর থেকে বের করলো রিভলভার। পরপর পাঁচটা গুলি .... কিন্ত অনভিজ্ঞতার জন্য একটাও জ্যাকসনের দেহ স্পর্শ করলো না। দেহরক্ষীরা নিমেষে ধরে ফেলে তাকে, তারপর সেই চিরাচরিত প্রশ্ন, কোথায় পেলে রিভলভার কে দিলো?

শত অত্যাচারেও মুখ খোলাতে না পেরে পুলিশ লক আপে হাজির করলো বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বেণীমাধব দাসকে যিনি নেতাজীর শিক্ষক ছিলেন। অর্থাৎ তিনি একবার মেয়েকে বুঝিয়ে বলুন মুখ খুলতে। সেই মেয়ে তখন পুলিশকে বললো, কেন শুধু শুধু বাবাকে আনলেন, উনি কি আমাকে বিশ্বাসঘাতক হতে বলবেন!
প্রথমে ডায়াসেশন ও পরে বেথুন কলেজে পড়া মেধাবী এই ছাত্রীটির জন্য আদালতে রোজই হাজিরা দিতেন মিশনারী সিস্টাররা। বিচার কালে তার বিবৃতি শুনে হৈচৈ পড়ে গেল শুধু এদেশে নয় বিলেতেও। এতো শুধুমাত্র বিবৃতি নয়, classic literature!
আদালতে সিস্টাররা তার দৃঢ়তা দেখে বিচারককে বললেন,
Just see, doesn't she looks like Madonna ? তাদেরই অনুরোধে ফাঁসির বদলে হলো নয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। জেল থেকে মুক্তির পর তিনি কংগ্রেস দলে যোগ দেন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় আবার তিন বছরের জন্য জেলে যান।

স্বাধীনতার পর তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং বিবাহ সূত্রে বিপ্লবী জ্যোতিষ ভৌমিকের সাথে আবদ্ধ হন। উদ্বাস্তু মহিলাদের পুনর্বাসনের কাজে সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৬০ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হন যদিও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য পেনশন প্রত্যাখান করেন।
১৯৮২ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানাদি না থাকায় নিসঙ্গতা তাকে গ্রাস করে এবং শান্তির আশায় সবকিছু ছেড়ে ঋষিকেশে থাকতে শুরু করেন।

১৯৪৬ সালের ২৬শে ডিসেম্বর প্রচন্ড ঠান্ডায় ঋষিকেশের বাসিন্দারা পথের ধারে এক মহিলার মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে জানা যায়, মৃত্যুর কারণ অপুষ্টি ও অনাহার। কোন দাবীদার না থাকায় পুলিশ সেই দেহ ছবি তুলে অঞ্জাতনামা লাশ হিসাবে পুড়িয়ে দেয়। মাসখানেক পর জানা যায় তিনি আর কেউ নন, বাংলার অগ্নিকন্যা বীণা দাস।

দুর্ভাগা দেশে এক স্বাধীনতা সংগ্রামী, বিধায়ক ও পদ্মশ্রীর কি করুণ পরিণতি ! ‌

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

Editor: Sukriti Kr Mondal

E-mail: info.eibela@gmail.com Editor: sukritieibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71