বৃহস্পতিবার, ২৫ মে ২০১৭
বৃহঃস্পতিবার, ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪
সর্বশেষ
 
 
বর্ণাঢ্য আয়োজনে হাসন রাজা উৎসব ও লেখক সম্মিলন সম্পন্ন
প্রকাশ: ০১:৪৮ pm ২৪-১২-২০১৬ হালনাগাদ: ০১:৪৮ pm ২৪-১২-২০১৬
 
 
 


সিলেট : বর্নাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিলেটে অনুষ্ঠিত হলো হাসন রাজা উৎসব ও লেখক সম্মিলন ২০১৬।

বাংলাদেশ কবি সভা সিলেট জেলার উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় তিন শতাধিক কবি সাহিত্যিকের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণে এ উৎসব ও লেখক সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তারা সিলেটে কবি হাসন রাজার নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটের নাম করণ করার আহবান জানান। শুক্রবার দেশের অন্যতম প্রাচীন সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের শহীদ সোলেমান হলে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বর্ণাঢ্য র‌্যালীর মধ্য দিয়ে হাসন রাজা উৎসব ও লেখক সম্মিলনে উদ্বোধন করা হয়। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আয়োজিত সম্মিলনের প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক গল্পকার সেলিম আউয়াল। সম্মিলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উৎসব ও সম্মিলন আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কবি সভা সিলেট জেলার সভাপতি কবি সিদ্দিক আহমদ।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কবি সভা কেন্দ্রীয় পর্ষদের উপদেষ্টা কবি মুসা আল হাফিজ ও প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় পর্ষদের উপদেষ্টা কবি বাছিত ইবনে হাবীব। অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কবি সভা সিলেট জেলার উপদেষ্টা কবি এমএ ফাত্তাহ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কবি সভা কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভাপতি কথাসাহিত্যিক মোরশেদ আলম হৃদয়, সিনিয়র সহ সভাপতি কবি শেলী সেনগুপ্তা, কবি হাসনা হেনা, সহ সভাপতি কবি ফেরারী মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক কবি মাইদুল ইসলাম মুক্তা। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কবি সভা কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য সম্পাদক শাহ কামাল সবুজ, বাংলাদেশ কবি সভা কুমিল্লা শাখার সভাপতি নাজমুল হাসান রানা, বি বাড়িয়া শাখার সভাপতি শাহিন আহমদ।

দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী ইসমাইল এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান কবি অধ্যক্ষ কালাম আজাদ। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জিআইজেড এর সাবেক সিনিয়র উপদেষ্টা কবি কথাসাহিত্যিক ড. সৈয়দ রোকন উদ্দিন ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন কবি সভা সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আছলাম হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সচিব হুমায়ুন কবির, অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব:) সৈয়দ আলী আহমদ, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব-এর সভাপতি কবি মুহিত চৌধুরী, লুৎফুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মাজেদ আহমেদ চঞ্চল, ভাষা শহীদ বরকতের ভাতিজা আইনুদ্দিন বরকত।

তৃতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখেন হাসন রাজার পরিষদের চেয়ারম্যান, হাসন রাজার প্রপৌত্র গবেষক সামারীন দেওয়ান। কবি ও রাজনীতিবিদ সাবিনা আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর একে এম মাজহারুল ইসলাম। বাংলাদেশ কবি সভা সিলেট জেলার সহসভাপতি কবি বিনিয়ামিন রাসেলের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেমুসাস-এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, বিশিষ্ট ছড়া শিল্পী অজিত রায় ভজন।

এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কবি সভা ঢাকা জেলার সভাপতি কবি জাহিদুল ইসলাম রুমী, ছড়াকার আসলাম প্রধান, কবি মোঃ ময়েজ উদ্দিন, জিএমএ হামিদ আল মুজাদ্দেদী, মেহবুব মল্লিক, মোহাম্মদ রবিউল, ফাতেমা খাতুন রুনা, শফিকুর রহমান চৌধুরী, আবুল খায়ের সজিব, দিলোয়ার হোসেন দিলু, কবি মামুন সুলতান, সাবিহা সিকন, শাহ কামাল সবুজ, ছড়াকার একে নাজির আহমদ, ইলিয়াস হোসেন, বাদল কৃষ্ণ বনিক, আলী মিরাজ মোস্তাক, আনোয়ার মজিদ, সরওয়ার ফারুকী, হোসনে আরা বেগম, রাবেয়া বেগম রুবী, কবি কানিজ আমেনা কুদ্দুস, দিলারা জামান দিয়া, বেলাল মোহাম্মদ জীবন, মোঃ মনোয়ার হোসেন, শহিদুজ্জামান চৌধুরী, মাজবর রফিক, মোঃ শফিউল আলম বেলালী, মনোয়ার হোসেন মনি, ডা. মোঃ সাইফুল ইসলাম সিরাজী, আবু সালেহ ইয়াহইয়া, আবু বক্কর সিদ্দিক, তারেক মুনাওয়ার, জাহাঙ্গির হোসাইন চৌধুরী, মাহবুবা ইয়াসমিন, শাহানারা ঝরনা, আইনউদ্দিন বরকত প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আলী মোহাম্মদ ইউসুফ। সম্মিলনের শেষ পর্বে হাসন রাজার গানের আসর অনুষ্ঠিত হয়।

গবেষক সামারিন দেওয়ান বলেন, প্রকৃতিই হাসন রাজাকে কবি বানিয়েছে। হাসন রাজার মুল দর্শন ছিলো নিজেকে জানা। হাসন রাজাকে সম্পূর্নরূপে জানতে হলে তাকে নিয়ে আমাদেরকে আরো বেশী রিসার্চ করতে হবে। হাসন রাজার বিরুদ্ধে মনগড়া কোনকিছু বলা উচিৎ নয়। তার মরন চিন্তা একসময় ভীষণভাবে তাকে প্রভাবিত করেছিলো। এইজন্য তিনি মৃত্যুর কথাও তার গানের মাঝে বলে গেছেন। হাসন রাজা সহজ সরলভাবে সাধারণ মানুষের সাথে মেলামেশা করতেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি আধ্যাত্ম সাধনায় নিয়োজিত ছিলেন।

কবি কালাম আজাদ বলেন, হাসনরাজা একজন ওলী আল্লাহ, কবি ও দার্শনিক ছিলেন। উৎসব শব্দের অর্থ হলো উন্নতি প্রসব করা। যদি উন্নতি প্রসব না করা হয় তাহলে এই অনুষ্ঠানে আসা বৃথা। আমাদের নিজেদের উন্নতির জন্য মনের মাঝে চিন্তা যদি আসে এবং নিজেদের মধ্যে প্রেরণা আসে তবে হাসন রাজা স্বার্থক। হাসন উৎসব সকলের মধ্যে উন্নতি প্রসব করুক এই কামনা করছি।

বক্তারা আরো বলেন, হাসনরাজা শুধু সিলেট বা বাংলাদেশের নয় তিনি পুরো মানব জাতির। রবীন্দ্রনাথ-এর মতো মানুষ হাসনরাজাকে স্মরণ করেছেন। হাসন রাজার প্রতিভাকে তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন। হাসন রাজার আদর্শ সমাজে ছড়িয়ে দিতে পারলে আমাদের হারানো মানবিকতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। হাসনরাজার গান বাঙালী সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি আমাদের গর্ব এবং অহংকারের প্রতীক।

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

Communication with Editor: editor@eibela.com

News Room E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: editor@eibela.com

  মোবাইল:+8801517-29 00 01

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71