শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭
শুক্রবার, ৫ই কার্তিক ১৪২৪
সর্বশেষ
 
 
প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় বিএনপিতে হতাশা
প্রকাশ: ০১:৫৯ am ০২-০৬-২০১৫ হালনাগাদ: ০১:৫৯ am ০২-০৬-২০১৫
 
 
 


বিএনপি নেতারা বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় বিএনপি একটা ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করবে। ভারতে কংগ্রেস সরকারের বিদায়ের পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারকে বিজেপি পুরোপুরি সমর্থন দেবে না, এমন প্রত্যাশা থেকে বিএনপি বিজেপিকে নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখিয়েছিল। প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় বিএনপিতে হতাশা রয়েছে। তবে দলটির নেতারা এখনো বিজেপি সরকারের সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরির চেষ্টার কথা বলছেন।
এক বছর আগে যখন ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তখন বাংলাদেশে বিরোধী দল বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অনেকেই প্রকাশ্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি ভারতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। দলটির বড় প্রত্যাশা ছিল, ভারতে কংগ্রেস সরকারের বিদায়ের পর বিজেপি বাংলাদেশে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি সমর্থন দেবে না এবং এখানে সাধারণ নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপর চাপ তৈরি করবে। কিন্তু সেটা হয়নি। প্রত্যাশার জায়গায় ধাক্কা খেয়ে বিএনপিতে এক ধরনের হতাশা রয়েছে।
ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউজ টুডে পত্রিকার সম্পাদক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে বিএনপিতে যে হতাশা দেখা দেখা দিয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপটেই দলটি ভারতে কংগ্রেস সরকারের বিদায় এবং বিজেপিকে নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখিয়েছিল। বিশ্লেষকদের অনেকে এটাও মনে করেন, ক্ষমতায় এসেই নরেন্দ্র মোদি আওয়ামী লীগের সাথেই থাকার সংকেত দিয়েছেন। শুরুতেই তার একটা বক্তব্য এসেছিল যে, শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনাই বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারবে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত চুক্তির বিষয়ে সমাধান করার পরই বাংলাদেশ সফরে আসছেন নরেন্দ্র মোদি।
বিএনপির প্রত্যাশার উল্টোপথে চলা এই পরিস্থিতি দলটিকে বেশ ধাক্কা দিয়েছে। তবে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ বলেছেন, হতাশা থাকলেও তারা এখনো নিরাশ হননি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সুবিধা করতে না পেরে বিএনপি তাদের সমর্থনের একটা জায়গা খোঁজে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে। সেখানে তারা ভারতকেও চায়। দলটির এমন অবস্থান কিন্তু অনেক সময়ই প্রকাশ পেয়েছে। এ ধরনের চিন্তা নিয়ে বিজেপির সাথে বিএনপির সম্পর্ক করার চেষ্টাকে ভুল নীতি বলে মনে করেন সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ।
ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখার্জি প্রথম বাংলাদেশেই সফরে এসেছিলেন ২০১৩ সালের মার্চ মাসে। সে সময় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালের কারণে খালেদা জিয়া সময় নেয়ার পরও প্রণব মুখার্জির সঙ্গে দেখা করেননি। এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে ভারতের কংগ্রেস সরকারের দূরত্ব বেড়েছিল। বিজেপিও ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ওই আচরণকে ভালোভাবে নেয়নি বলে বিএনপি নেতাদের অনেকে মনে করেন। তারা এটাকে তাদের বড় ভুল হিসেবে স্বীকার করেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে বেশিরভাগ দলই ভারতবিরোধী। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপি দল হিসেবে ভারত বিরোধী অবস্থান থেকে এখন অনেকটা সরে এসেছে এবং বিজেপির সাথে সম্পর্ক তৈরির একটা জোর চেষ্টা বিএনপিতে রয়েছে।
বিএনপির মধ্যম সারির নেতারা দলের অবস্থানকে ব্যাখ্যা করেন ভিন্নভাবে। দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলছিলেন, ভারত বাংলাদেশে কোনো দলকে যেন বিশেষ সমর্থন না দেয়, সেই কৌশল নিয়ে তারা এখন বিজেপির সাথে একটা যোগাযোগ তৈরির চেষ্টা করছেন।ঢাকার নয়াপল্টন এলাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির মাঠ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, তাদেরও অনেকের মাঝে বিজেপিকে নিয়ে উচ্ছাস তৈরি হয়েছিল। আবার অনেকে বলেন, বিজেপি বা ভারতের কোনো দল কখনও বিএনপিকে এককভাবে সমর্থন দেবে না বলে তাদের ধারণা। তবে বিএনপির নেতারা বলেছেন, তাদের দলের নেত্রী খালেদা জিয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় দেখা করার সুযোগ নিয়ে বিএনপি সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব কাটানোর চেষ্টা করবেন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা 
এইবেল ডট কম/এইচ আর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
Loading...
 
 
 
Loading...
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন # sukritieibela@gmail.com

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

   বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: sukritieibela@gmail.com

  মোবাইল: +8801711 98 15 52 

            +8801517-29 00 01

 

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71