শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
শনিবার, ১৩ই ফাল্গুন ১৪২৩
সর্বশেষ
 
 
পুরোহিত কাকে বলে?
প্রকাশ: ০১:৩৮ am ০৬-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ০১:৩৮ am ০৬-০১-২০১৭
 
 
 


ধর্ম  :: সনাতন ধর্মে পুরোহিত শব্দটি ‘পুরস্’ (পুরঃ)এবং ‘হিত’ শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। পুরস্ শব্দের অর্থ সম্মুখে এবং হিত শব্দের অর্থ অবস্থান। সম্মুখভাগে যিনি অবস্থান করেন তিনি পুরোহিত। অর্থাৎ পুরোহিত বলতে পূজা-অর্চনা কার্যাদি সম্পাদনকারকে বোঝানো হয় এবং যিনি পূজার সময় সকলের অগ্রভাগে অবস্থান করেন। সাধারণভাবে প্রধান ভূমিকা পালন করেন এবং পূজার সময় সকলের অগ্রভাগে থাকেন, তাঁকে পুরোহিত বলে।
 

এটা একটা পেশাও বটে। যেখানে সে নিজের ধর্ম পালনের জন্য অথবা কারো নামে সংকল্প করে পূজা করা হয়। যার নামে সংকল্প করে পূজা করা হয় তাকে যজমান বলে। যজমান নিজেও পূজা করতে পারেন। তবে সাধারণত যজমান পুরোহিতকে পূজা করে দেয়ার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ করে আনেন। সাধারণত ব্রাহ্মণ বর্ণের লোকেরাই পৌরোহিত্য করে থাকেন। তবে পুরোহিত ও ব্রাহ্মণ এক কথা নয়। ব্রাহ্মণ বলতে যাঁদের ব্রহ্মবিদ্যা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান ও ধারণা আছে বা যিনি ব্রহ্মবিদ, এম ব্যক্তিকে বোঝানো হয়। পৌরোহিত্য করার সময় সংস্কৃত ভাষাজ্ঞান ও শাস্ত্রজ্ঞান থাকা প্রয়োজন। যাঁরা অধ্যয়ন, অধ্যাপনা, যজন-যাজন করতেন, তাঁরা ছিলেন ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের। তাই পৌরোহিত্য ব্রাহ্মণ বর্ণেরই পেশা ছিল। একালে সংস্কৃত ভাষাজ্ঞান এবং শাস্ত্রজ্ঞান সকল বর্ণের মধ্যেই দেখা যায়। সুতরাং একালে সংস্কৃত ভাষা ও শাস্ত্রে অভিজ্ঞ এবং ধর্মনিষ্ঠ যেকোনো বর্ণের ব্যক্তিই পৌরোহিত্য করার যোগ্য। আমাদের ধর্ম শাস্ত্রগুলো পুরোহিতের বেশ কিছু গুণাবলি তুলে ধরেছে।যা এখানে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি।
পুরোহিতের গুণাবলীঃ
পুরোহিত একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি পারিবারিক ও সামাজিক পূজা-অর্চানাদি পরিচালনা করে থাকেন। একারণেই তাঁকে নিম্নবর্ণিত গুণের অধিকারী হতে হয়-
১. হিন্দুধর্মাবলী যে-কোনো বর্ণের মানুষের পৌরোহিত্য করার সামর্থ্য অর্জন।
২. সংস্কৃত ভাষা লেখা ও পড়ার মতো জ্ঞান ও দক্ষতা থাকা।
৩. হিন্দুধর্ম সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান থাকা।
৪. নিত্যকর্ম ও পূজাবিধি সম্পর্কে তাত্ত্বিক এবং ও ব্যবহারিক জ্ঞান ও ধারণা থাকা।
৫. ধর্মশাস্ত্রে এবং শাস্ত্রীয় রীতি-নীতি ও প্রথার উপর অভিজ্ঞতা থাকা।
৬. সামাজিক দৃস্টিকোণ থেকে ধর্মানুরাগী, প্রগতিশীল ও জনসাধারণের প্রতি মমত্ববোধ থাকা।
৭. শুদ্ধভাবে মন্ত্র উচ্চারণের দক্ষতা অর্জন।
৮. বিভিন্ন পূজা ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, নিয়ম-নীতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ও অবিজ্ঞতা থাকা।
৯. পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা।
১০. আচারণগত দিক থেকে ধৈর্যশীল, সৎ, ন্যায়পরায়ণ এবং কথা ও কাজের সমন্বয় থাকা।
১১. শিষ্টাচারসম্পন্ন ও আদর্শ ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়া।

 

এইবেলাডটকম/নীল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Migration
 
আরও খবর

 
 
 

News Room: news@eibela.com, info.eibela@gmail.com, Editor: editor@eibela.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71