শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭
শুক্রবার, ৫ই কার্তিক ১৪২৪
সর্বশেষ
 
 
পাচারের অপেক্ষায় : সাগরে হাজার হাজার বাংলাদেশী, রোহিঙ্গা
প্রকাশ: ১২:৫৫ am ১২-০৫-২০১৫ হালনাগাদ: ১২:৫৫ am ১২-০৫-২০১৫
 
 
 


জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম জানিয়েছে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের কয়েক হাজার অবৈধ অভিবাসী থাইল্যান্ড উপকূলের কাছে সাগরে অপেক্ষা করছে।

সংস্থার একজন মুখপাত্র  বলেছেন, থাই নিরাপত্তা রক্ষীদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় পাচারকারীরা নৌকাগুলো তীরে ভেড়াতে চাইছে না।গভীর জঙ্গলে গোপর শিবিরে না এনে পাচারকারীরা এখন অভিবাসীদের সাগরের বুকে রাখছে।সাগরে আটকে পড়া অভিবাসীদের সংখ্যা আট হাজারের মত হতে পারে।

মালয়েশিয়ায় নেমেছে এক হাজার : 

মালয়েশিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, আজ (সোমবার) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লাংকাওয়ী দ্বীপে নৌকায় করে এক হাজারেরও বেশি অভিবাসী এসে নেমেছে।গভীর রাতে তিনটি নৌকায় এদেরকে এনে তীরে নামিয়ে দেওয়া হয়।লাংকাওয়ীর পুলিশ কর্মকর্তা জামিল আহমেদ বলেন, মোট ১০১৮ জন অভিবাসীর মধ্যে ৫৫৫ জন বাংলাদেশী এবং ৪৬৩ জন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম।অভিবাসীদের মধ্যে পঞ্চাশটিরও বেশি শিশু এবং প্রায় একশ'র মত মহিলা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ১০০০ উদ্ধার :

রবিবার চারটি নৌ-যানে করে ৬০০ শরণার্থী ইন্দোনেশিয়ার উপকূলীয় আচে প্রদেশে পৌঁছায়৷ একই দিনে উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ লাংকাওইতে পৌঁছায় এক হাজার ১৮ জন শরণার্থী৷ সমুদ্র পথে ভাগ্যান্বষণে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করা মানুষগুলোর অধিকাংশই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা৷প্রসঙ্গত, মুসলিম সম্প্রদায়ের এই জণগোষ্ঠীকে মিয়ানমার সরকার ‘বাংলাদেশি বহিরাগত' হিসেবে গণ্য করে৷ অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই বলে আসছে যে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক৷ দু'দেশেই বৈধভাবে পূর্ণ নাগরিকত্ব না পাওয়া রোহিঙ্গারা তাই কয়েক বছর ধরে সমুদ্র পথে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় গ্রহণের চেষ্টা করছেন৷ আর সেটা করতে গিয়ে মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ছেন তাঁরা৷ গত দু'দিনে ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশ করা ১৬ মানুষও অন্তত দু'মাস মানব পাচারকারীদের খপ্পরে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে৷
লাংকাওই দ্বীপের পুলিশের উপ-প্রধান জামিল আহমেদ বার্তা সংস্থা এপি-কে জানান, রবিবার উদ্ধার করা এক হাজার ১৮ জনের মধ্যে ৫২ জন শিশু, ১০১ জন নারী এবং বাকি ৮৬৫ জন পুরুষ৷

ইন্দোনেশিয়ায় পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সকালে আচে প্রদেশের উপকুলের কাছে একটি নৌকা থেকে চারশো'র মত অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে।এ নিয়ে গত দুদিনে ইন্দোনেশিয়া তাদের উপকূল থেকে এক হাজারের মত বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে।রোববার উদ্ধার হওয়া ৬০০ লোককে আঁচের একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে নিয়ে রাখা হয়েছে।তারা পুলিশকে জানিয়েছে, তীরে নামার আগে তাদের নৌকাগুলো সপ্তাহখানেক ধরে সাগরে ভাসছিল। তাদের খাবার ফুরিয়ে গিয়েছিল।জাতসংঘ শরণার্থী সংস্থার হিসাবে, এব বছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে ২৫,০০০ এর মত অভিবাসী নৌকায় করে অবৈধভাবে মূলত: মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে রওয়ানা হয়।

পুলিশকে এক বাংলাদেশি জানিয়েছেন যে, পাচারকারীরা তাঁদের ফেলে রেখে পালিয়েছে৷ তিনদিন ধরে তাঁরা কিছু খাননি বলেও জানিয়েছেন তিনি৷ পুলিশ কর্মকর্তা জামিল আহমেদ জানান, আশয় প্রার্থীরা শারীরিকভাবে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছেন৷
ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশের পর শরণার্থীদের আচে প্রদেশের রাজধানী লোকসুকোনে নিয়ে যাওয়া হয়৷ আপাতত সেই শহরের একটি স্টেডিয়ামে তাঁদের রাখা হয়েছে৷ সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সেবা শুশ্রূষার পাশাপাশি তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে৷
এদিকে গত কয়েকদিনে মানবপাচারকারীদের মধ্যে অভিবাসন প্রত্যাশীদের ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখে আরাকান প্রকল্পের পরিচালক ক্রিস লেওয়া উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ প্রকল্পটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছে৷ ক্রিস লেওয়া জানান, অভিবাসন প্রত্যাশীদের কারো কারো পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছে মানব পাচারকারীরা৷ পরে অবশ্য মুক্তিপণ দেয়া মানুষগুলোকেও সমুদ্রে অসহায় অবস্থায় রেখে পালিয়েছে পাচারকারীরা৷

মালাক্কা প্রণালীতে ‘পাচারের অপেক্ষায় ৮ হাজার বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা’ :

মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রায় পাঁচশ’ মানুষ রোববার ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম উপকূলে এসে পৌঁছেছে। আগে তাদের গন্তব্য থাইল্যান্ড হলেও বর্তমানে দেশটির সরকার পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ায় পথ বদলেছে পাচারকারীরা।জানা গেছে, প্রায় সাত থেকে আট হাজার বাংলাদেশী এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমকে বর্তমানে পাচারের উদ্দেশ্যে মালাক্কা প্রণালীতে অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। জানিয়েছে এবিসি নিউজ।মালাক্কা প্রণালীর উত্তরে ভারত মহাসাগরের আন্দামান সাগরকে দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ চীন সাগরের সাথে যুক্ত করেছে।রোববার দুপুরে এবিসি নিউজের অনলাইন সংস্করণে ইন্দোনেশিয়ায় কিছুক্ষণ আগে প্রায় পাঁচশ রোহিঙ্গা মুসলিমের পৌঁছানোর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার উপ-প্রধান স্টিভ হ্যামিলটনের সূত্র উল্লেখ করে এবিসি নিউজের সংবাদে বলা হয়, নারী, পুরুষ ও শিশু বহনকারী দু’টি পৃথক নৌকার একটিতে ছিল প্রায় ৪৩০ জন এবং অপরটিতে ছিল ৭০ জন।মিয়ানমারে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমরা।ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টি গত তিন বছর ধরে প্রায় দিনই বৌদ্ধ দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হচ্ছে। ফলে মিয়ানমার ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে প্রায় প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অবৈধভাবে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছেন অভিবাসনের জন্য।এ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে এক লাখেরও বেশি মানুষ অবৈধ অভিবাসী হিসেবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দেশে গেছেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এই প্রথম এত বিপুলসংখ্যক অভিবাসী অবৈধভাবে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে।এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণকারী আরাকান প্রজেক্টের পরিচালক ক্রিস লিউয়া এসব তথ্য জানিয়েছেন। আজ ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্র উপকূলে পাঁচশ’ রোহিঙ্গার পৌঁছানোর বিষয়টি তিনিও নিশ্চিত করেছেন।

একটি প্রতিবেদন :

পাচারকৃত এত বিপুলসংখ্যক মানুষ সমুদ্র পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার সময় এতদিন যাত্রাপথে বিরতির জন্য থাইল্যান্ডে নামতেন। বিপুলসংখ্যক এই রোহিঙ্গাদের থাইল্যান্ডের দুর্গম জঙ্গলে আটকে রাখতো পাচারকারী দালালরা। জঙ্গলে পাচারকারী দালালদের লুকোনো শিবিরে রোহিঙ্গারা অপেক্ষা করতেন- কবে পরিবারের সদস্যরা ‘মুক্তিপণের বিনিময়ে’ তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যাবেন দালালদের হাত থেকে।
বড় ধরনের ‘মুক্তিপণের অর্থ’ আদায়ের জন্য রোহিঙ্গাদের নিয়ে শিবিরগুলোতে অবস্থান করতো দালালরাও। ‘মুক্তিপণ’ পেয়ে তবেই রোহিঙ্গাদের পরবর্তী গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য যাত্রা করতে দিতো দালালরা।
কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে এই কৌশল পালটেছে পাচারকারীরা, জানান লিউয়া।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় সাত থেকে আট হাজার বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গা অভিবাসী মালাক্কা প্রণালীতে পাচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। মাঝ সমুদ্রে নোঙর ফেলে নৌকায় চড়া এই বিপুল সংখ্যক অভিবাসী গন্তব্যে পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছেন।’তারা তীরে এসে পৌঁছাতে পারছেন না বর্তমানে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পাচারকারীদের বিরুদ্ধে চলমান ‘ক্র্যাকডাউন’র কারণে, জানান লিউয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াই পাচারকৃতদের প্রাথমিক গন্তব্য।মাঝ সমুদ্রে ছোট বা মাঝারি নৌকায় সীমিত জায়গায় এই বিপুলসংখ্যক অভিবাসী গাদাগাদি করে থাকার কারণে এবং সীমিত খাদ্য ও খাবার যোগ্য পানীয়র অভাবে তাদের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন লিউয়া।এসব সংকটে গত কয়েক মাসে অর্ধশতাধিক অভিবাসীর মৃত্যুর তথ্যও জানান তিনি।প্রসঙ্গত, গতকাল শনিবার পর্যন্ত থাইল্যান্ডের দুর্গম জঙ্গল থেকে দুই শতাধিক অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের অনেকেই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এরই মধ্যে পাচার হয়ে মালয়েশিয়ায় পৌঁছে যাওয়া তাদের স্বজনদের কাছ থেকে পাওনা অর্থ, অর্থাৎ মুক্তিপণ, আদায়ের জন্য তাদের জঙ্গলে আটকে রেখে অপেক্ষা করছিল পাচারকারীরা।
থাই সীমান্ত ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক মানুষ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাচারকারীদের মুখোশ উন্মোচন এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে গত সপ্তাহজুড়ে ১১৭ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে থাই প্রশাসন। এদের মধ্যে বাংলাদেশীর সংখ্যা ৯১।প্রাদেশিক উপ-গভর্নর ইকারাত সিসেন জানান, মালয়েশীয় সীমান্তবর্তী শংখলা প্রদেশের রত্তফুম জেলা থেকে উদ্ধার করা ১১৭ জনের মধ্যে ২৬ জনই মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম এবং বাকিরা বাংলাদেশী।বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত থেকে উদ্ধারকৃত ১১৭ জনই পাচারের শিকার কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে গতকাল শতাধিক অভিবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে থাই প্রশাসন।
বাংলাদেশের নাগরিক ১৩ বছরের কিশোর বুশরি সালাম রয়টার্সকে জানায়, একটি দলের সাথে একই নৌকায় চড়ে সে থাইল্যান্ডে এসে পৌঁছেছিল এবং মালয়েশিয়া পৌঁছানোর চেষ্টায় প্রায় দুই সপ্তাহ তারা থাই জঙ্গলে আটকে ছিল।
বুশরির ভাষ্য, ‘আমার ভাই মালয়েশিয়া থাকে। আমিও সেখানে যেতে চাই।’

এছাড়া গত ১ মে থাইল্যান্ডে মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তীর জঙ্গলের একাধিক গণকবরের সন্ধান পায় থাই প্রশাসন। সেগুলো থেকে এ পর্যন্ত ৩৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব মৃতদেহ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অভিবাসীদের বলে ধারণা করা হচ্ছে। শংখলার প্রদেশে জঙ্গলে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।ওই কবরে ১০ বাংলাদেশীর মৃতদেহ ছিল এবং এ ঘটনায় দু’জন জীবিত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশী অভিবাসী বলে ধারণা করা হচ্ছে, দাবি করা হচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।এছাড়া সন্ধান পাওয়া গেছে তিনটি এলাকার, যেগুলো পাচারকারীরা লুকোনোর জন্য ব্যবহার করতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।এখনো থাইল্যান্ডের ওই দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের জঙ্গলে সন্ধান অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন।থাই প্রশাসনের ধারণা, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে পাচার করে আনা লোকজনকে ওই অঞ্চলে লুকিয়ে রাখতো পাচারকারীরা।পাচারকারীরা ওই এলাকায় বেশ কয়েকজনকে আটকে রেখেছে এবং আটককৃতদের স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য অপেক্ষা করছে- গোপনে এমন সংবাদ পেয়ে অঞ্চলটিতে অভিযান চালায় পুলিশ, জানিয়েছে মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।এর আগে তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন যে মিয়ানমার থেকে পাচারকারীরা গণহারে মানুষ পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে থাইল্যান্ডে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের। পাচারকৃতদের মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য মধ্যবর্তী সংযোগ হিসেবে থাই সীমান্তের কাছে ওই এলাকায় আশ্রয় নেয় পাচারকারীরা।জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআর’র পরিসংখ্যান বলে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই পাচারকারীদের নৌকায় চড়ে থাইল্যান্ডে পৌঁছেছে প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গা মুসলিম। গত বছর এই সময় এ সংখ্যা ছিল প্রায় অর্ধেক। গত শুক্রবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থাইল্যান্ড থেকে প্রতি বছর যে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সামুদ্রিক খাবার রপ্তানি করে, তা বন্ধের হুমকি দিয়েছে। থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারের বিরুদ্ধে দাসপ্রথা ও সংঘর্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে এবং এসব অভিযোগে জর্জরিত শ্রমশিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য থাই সরকার সামগ্রিকভাবে কর্মপরিবেশ উন্নত করার ব্যবস্থা না করলে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ছয় মাসের জন্য থাইল্যান্ডকে এ বিষয়ে সময় বেঁধে দিয়েছে ইইউ।গত বছরের মে মাসে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক সরকার গঠন করার পর থেকেই থাইল্যান্ডের রপ্তানি কমে এসেছে এবং উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।ফলে থাইল্যান্ডের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং বিশ্ববাজারে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে মরীয়া হয়ে উঠেছে থাইল্যান্ড সরকার। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন থাই প্রধানমন্ত্রী প্রয়ুথ চ্যান-ওচা।

সুত্র :বিবিসি বাংলা/ এপি /ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল



এইবেলা.কম/এইচ আর





 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
Loading...
 
 
 
Loading...
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন # sukritieibela@gmail.com

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

   বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: sukritieibela@gmail.com

  মোবাইল: +8801711 98 15 52 

            +8801517-29 00 01

 

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71