শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
শুক্রবার, ২০শে অগ্রহায়ণ ১৪২৭
সর্বশেষ
 
 
নিজ দেশের সংখ্যালঘুদেরও পাশে নেই ইমরান খান
প্রকাশ: ১১:৪৪ pm ২৪-০৭-২০২০ হালনাগাদ: ১১:৪৪ pm ২৪-০৭-২০২০
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার নতুন কিছু নয়। সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের ঘটনা ঘটে দেশটির সিন্ধু প্রদেশে। বারবার অভিযোগের পরও মেলে না সুবিচার। বিগত কয়েক দশকে সিন্ধু থেকে বহু হিন্দু ও শিখ পরিবার পালিয়ে গেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আশ্বাসও কোনো কাজে আসছে না।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে সম্প্রতি জেনেভায় জড়ো হয়েছিলেন কয়েকজন আন্দোলনকারী। জাতিসংঘের মানবধিকার কাউন্সিলের ৪৪তম সেশন চলাকালে হাতে প্লেকার্ড নিয়ে তারা একটি বিক্ষোভ সমাবেশও করেন। এ সময় তারা তুলে ধরেন ইমরান খান সরকারের সমর্থন পাওয়া সেই সব ইসলামিক মৌলবাদীদের নিপীড়ন চিত্র। 

প্রতিবাদকারীরা জানান, পাকিস্তানের হিন্দুরা পরিকল্পিতভাবেই নিপীড়িত। তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণও করা হয়। সম্প্রতি হিন্দুদের প্রতি দেশটিতে ধর্মীয়ভাবে লাঞ্ছনা, যৌন নিপীড়ন ও হত্যার মতো অপরাধগুলোর মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণার বার্তা ছড়াচ্ছেন দেশটির আইনপ্রণতারা ও রাজনীতিবিদরা।

পাকিস্তানে হিন্দুদের উপাসানালয় মন্দির নির্মাণেও বাধা দিচ্ছে দেশটির মৌলবাদীরা। তাদের দাবি, ইসলামিক দেশে মন্দির নির্মাণ করা ধর্মীয় ভাবাবেগ বিরোধী। সম্প্রতি একটি মন্দির ভেঙেও ফেলা হয়েছে। ইসলামপন্থী জনতার রোষে পড়ে ওই মসজিদটি। 

বিক্ষোভকারীরা জানান, এই ধরনের আক্রমণ প্রায়শই ইসলামপন্থী নেতাদের পরিকল্পনাতেই হয়ে থাকে। আর তাদের পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তান সরকার। এই ধরনের আক্রমণের পর দেশটির টুইটার, ফেসবুকে প্রসংশার বন্যা ভয়ে যায়।

কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানে হিন্দু, শিখ ও খ্রিস্টানসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ইসলামপন্থী মৌলবাদীরা হামলা চালিয়ে আসছে। 

বিক্ষোভকারীরা আরো জানান, দেশটিতে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি পোস্টারে। ওই পোস্টারে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) এক নেতা হিন্দুদের প্রতি প্রকাশ্যই হুমকি দিয়েছেন।

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারের ভয়ানক চিত্র ফুটে ওঠে চলতি বছরের মে মাসে। দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের বাশাওয়ালপুর শহরের হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। দেশটির মানবাধিকার কমিশন এক টুইট বার্তায় এই ঘটনার নিন্দাও জানিয়েছে। 

জানা যায়, স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ও রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে ওই সব বাড়ি থেকে হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকদের বের করে দেওয়া হয়। তাদের ঘরগুলো ভেঙেও দেওয়া হয়। 

পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন এক টুইট বার্তায় জানায়, উচ্ছেদ, জনগণের বাড়ি-ঘর ভাঙা এবং জমি দখল করা হলে অসহায় সম্প্রদায়গুলোর দ্বিগুণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তখন বিষয়টি সত্যিই অত্যন্ত নিন্দনীয়। 

মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত পাকিস্তান। হিন্দু কিংবা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। বিভিন্নভাবে তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন।

ইসলামাবাদ পাকিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছে। কান পাতলেই সহিংসতা, গণহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, জোর করে ইসলামে ধর্মান্তরকরণের মতো নানা ধরনের অত্যাচারের গল্প শোনা যায় দেশটিতে। ক্ষমতায় আসার পর দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এসব অত্যাচারের চিত্র পাল্টে দেওয়া কথা বললেও কোনো কিছুই পরিবর্তন হয়নি।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71