শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭
শুক্রবার, ৫ই কার্তিক ১৪২৪
সর্বশেষ
 
 
নতুন রাজনৈতিক দল বিএমজেপির আত্মপ্রকাশ
প্রকাশ: ১১:২৮ am ২২-০৯-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:৫৪ am ২৩-০৯-২০১৭
 
এইবেলা প্রতিনিধি
 
 
 
 


অখন্ড মানবতার দর্শনে উজ্জীবিত হয়ে শোষণ ও নিপীড়নমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে যুক্ত হলো দেশের সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বমূলক নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স হলে ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বাচাও’চেতনায় উদ্ধুদ্ধ দলটি বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, বিভিন্ন দলের শীর্ষ রাজনীতিক ও দেশ বরেণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।

এ উপলক্ষ্যে প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ৩০ লাথ শহীদের আত্মদানে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সংখ্যালঘুদের আত্মত্যাগকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। এ কথা সত্য, স্বাধীনতার ৪৬ বৎসর পার হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশীদারিত্ব থেকে শুরু করে প্রায় সর্বক্ষেত্রে সংখ্যালঘুরা আজ উপেক্ষিত ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। পাকিস্তান আমলে ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার যাতাকলে বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে পিতৃপুরুষদের ভিটামাটি ছেড়ে জীবনের ভয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে এ দেশের ৯৯.৯৮% সংখ্যালঘু ভোটার বঙ্গবন্ধুর পক্ষে রায় দিয়েছিল। সংখ্যালঘুদের মনে স্বপ্ন ছিল দেশ স্বাধীন হলে অন্তত অতীতের মত জীবনের ভয়ে বা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আক্রান্ত হয়ে দেশ ত্যাগ করতে হবে না। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্র ও সংবিধানে উল্লেখিত বিধানাবলীর আলোকে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে এদেশে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সমঅধিকারের ভিত্তিতে বসবাস করার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ স্বাধীনের প্রাক্কালে এদেশে ২২% সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, কালের প্রবাহে আজ ৮.৫% এ কমে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে আর কিছু কালের মধ্যেই তা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। সাম্প্রতিককালে কিছু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক জাগরণের উত্থানের প্রেক্ষিতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার মিথ্যে অজুহাত তুলে ইতোমধ্যে- নাসিরনগর, গোবিন্দগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী, দিনাজপুর, খাগড়াছড়িসহ বহু এলাকায় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর, সাধুসন্ন্যাসীদের হত্যার মত ভয়াবহ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ফলশ্রুতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আজ আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আমরা দূঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই আমরাও এ দেশের নাগরিক, আমরাও মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এদেশ সৃষ্টিতে আমাদেরও অবদান রয়েছে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সর্বত্র সমঅধিকারের ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব সুনিশ্চিত করার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ দাবি তুলছি। প্রচলিত শাসন ব্যবস্থায় অতীতের সব সরকারের আমলেই ২/১ জন হাফ বা সিকি মন্ত্রী এমনকি ১০-১৫ জন পার্লামেন্ট মেম্বার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে করা হয়েছে। কিন্তু তাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বৃহৎ জনগোষ্ঠির কোন কল্যাণ বা সু-শাসন, ন্যায়বিচার, সমমর্যাদার প্রতিস্থাপন ঘটেছে একথা সুনিশ্চিত করে কখনোই বলা যাবে না। এদেশে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের আগে ও পরে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকারে পরিণত হয়েছে। তাই আমরা কারও ভোট ব্যাংক বা ভোট আতঙ্কে আর ভুগতে চাই না। বর্তমান সময়ে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া রাজনৈতিক দলের সরকার থাকা সত্তেও সংখ্যালঘুরা একের পর এক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। যাহা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ঘোষণা পত্রের পরিপন্থি। এক শ্রেণীর ধর্ম ব্যাবসায়ীদের রাজনীতিতে উত্থান নতুন নয়, পাকিস্তান আমল থেকে এটা চলে আসছে কিন্তু আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ঐ সমস্ত অপশক্তিগুলো কিভাবে রাজনৈতিক ফায়দা লুটা থেকে শুরু করে সর্বত্র পুনর্বাসনের সুযোগ পায়? 

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, তাই বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বিগত দিনগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে কাজ করে আসছে। বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভূখন্ডে বসবাসকারী সুবিধাবঞ্চিত সকল নাগরিকের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সুসংহত রাখা এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে বিশ্বাস করে। সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করে ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ ও সমাজ-সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করাই বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

১০১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন রাজনৈতিক দলটির সভাপতি হয়েছেন শ্যামল কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক সুকৃতি কুমার মন্ডল।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
Loading...
 
 
 
 
 
 
 
Loading...
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন # sukritieibela@gmail.com

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

   বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: sukritieibela@gmail.com

  মোবাইল: +8801711 98 15 52 

            +8801517-29 00 01

 

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71